মঙ্গলবার ১৮ জুন, ২০১৯

‘খরচ বাড়ে ঘোড়ার গতিতে, শ্রমিকের বেতন কচ্ছপের চেয়েও ধীর’

সোমবার, ১০ জুন ২০১৯, ২০:৪৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেছেন, ‘এবারের বাজেট প্রণয়নের পূর্বে যে সমস্ত মত বিনিময় সভা হয়েছে সেখানে ব্যবসায়ী শিল্পপতিরা তাদের আকাঙ্খা ও দাবি পেশ করেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী তাদের কথা শুনেছেন, কিছু ক্ষেত্রে আশ্বাস দিয়েছেন অথচ দেশের অর্থনীতির প্রধান খাত বলে বিবেচিত কৃষি ও শিল্প খাতে নিয়োজিত কোটি কোটি শ্রমিকের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করে মতামত শোনার নুন্যতম প্রয়োজন বোধ করেননি।’

সোমবার (১০ জুন) বিকেল ৫টায় শহরের দুই নং রেলগেটে অবস্থিত সংগঠনটির জেলা কার্যালয়ে ‘বাজেট ও শ্রমিকের প্রত্যাশা’ শীর্ষক মত বিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বাজেটের আয়তন প্রতি বছর বড় হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিলো। এবার বাজেটের আয়তন ৫ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজেটের টাকার বিরাট অংশ আসবে রাজস্ব আয় থেকে যার সিংহ ভাগের যোগান দেবে শ্রমিক, কৃষক, সাধারণ মানুষ পরোক্ষ করের মাধ্যমে। অর্থমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, পরোক্ষ কর ভ্যাটের আওতায় আনবেন। তাহলে শ্রমজীবী মানুষের জীবন যাপনের জন্য যা প্রয়োজন সব কিছুর উপর থেকেই তিনি কর নেয়ার চেষ্টা করবেন। বড় ঋণ সুদ আসলে মাফ করে দেয়া আর সাধারণ মানুষের উপর করের আওতা সম্প্রসারিত করার এই নীতির নাম কি গণতান্ত্রিক বাজেট হতে পারে!’

তিনি আরও বলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল মহাসড়ক, ফ্লাইওভার, রেলপথ নির্মিত হয় যে দেশে, দ্রুত ধনী হওয়ার দিক থেকে যে দেশ বিশ্বে এক নম্বর, যে দেশ থেকে ক্রমাগত টাকা বিদেশে পাচার করছে একদল ধনী, সেই দেশের শ্রমিক আবার বিশে^ও সবচেয়ে সস্তা। বাসা ভাড়া, চিকিৎসার খরচ, সন্তানের শিক্ষার খরচ সবই ছুটছে ঘোড়ার গতিতে কিন্তু শ্রমিকের বেতন বৃদ্ধি হয় কচ্ছপের চেয়েও ধীর গতিতে। বাজেটের প্রধান অর্থের যোগানদাতা শ্রমজীবী মানুষের জন্য বাজেটে আনুপাতিক হারে বরাদ্দ তাই দেশের স্বার্থেই প্রয়োজন। দেশের সকল শ্রমজীবীর জন্য রেশন, চিকিৎসা, বাসস্থান, পেনশন, সন্তানদের লেখাপড়া, দুর্ঘটনায় নিহত-আহত হলে ক্ষতিপূরণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। বাজেটে শ্রমজীবীর জন্য বরাদ্দ দিলে দেশের অর্থনীতি গতি বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে।’

সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট জেলার সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লবের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, শ্রমিক ফ্রন্ট জেলা সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র জেলার সাধারণ সম্পাদক বিমল কান্তি দাস, সাংস্কৃতিক জোটের সাধারন সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট জেলার সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম গোলক, রি-রোলিং স্টিল মিলস শ্রমিক ফ্রন্ট জেলার সাধারণ সম্পাদক এস এম কাদির প্রমুখ।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ