রবিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকের গাড়ি থেকে মাদক ও গুলি উদ্ধার (ভিডিওসহ)

শনিবার, ২ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:৫৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

এমএ হাশেম, গাড়ি চালক ও আজিজ রাসেল

এমএ হাশেম, গাড়ি চালক ও আজিজ রাসেল

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়িক গ্রুপ পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য এমএ হাশেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলের গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও গুলি উদ্ধার করেছে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শওকত আজিজ রাসেল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ও রাজধানীর অভিজাত ক্লাব ‘গুলশান ক্লাবে’র সভাপতি।

শুক্রবার (১ নভেম্বর) দিবাগত রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় চৌরঙ্গী ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে এই মাদক ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গাড়ি চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ফারাহ রাসেল ও ছেলে আহনাফ আজিজ

তবে এই ঘটনায় শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ফারাহ রাসেল ও ছেলে আহনাফ আজিজ আটক ছিল বলে একটি সূত্র জানায়। তবে তাদেরকে আসামি করা হয়নি। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য আইনে দুটি মামলা হয়েছে। মামলায় শওকত আজিজ রাসেলকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তবে সে পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেলা পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদকে ঢাকার বাসায় নামিয়ে দেওয়ার পর গাড়ি নিয়ে ফেরার সময় শুক্রবার দিবাগত আনুমানিক রাত ১টার দিকে তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তায় মগবাজার ফ্লাইওভারের কাছাকাছি পৌছালে রাস্তায় যানজট সৃষ্টি হয়। তখন এসপির গাড়ির চালক জুয়েল মিয়া হর্ন দিলে গাড়ির সামনে থাকা ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৩-৮৩৭৫ এর গাড়ির ভেতর থেকে একজন লোক এসে গাড়ির বাম পাশের গ্লাসে জোরে আঘাত করে গালিগালাজ করতে থাকে। ওই ব্যক্তি ‘আমি পারটেক্স রাসেল, গাড়ির দরজা খোল’ এমন কথা বললে এসপির গাড়ির চালক তখন গাড়ির গ্লাস খুলে প্রতিবাদ করলে উক্ত ব্যক্তি তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় পিস্তল তাক করে ধরে। পরে পুলিশের লোক বুঝতে পেরে দ্রুত নিজের গাড়িতে করে পালিয়ে যাওয়ার সময় এসপির গাড়ি চালক ও দেহরক্ষী গাড়িটি অনুসরণ করে। পরে গাড়িটি নারায়ণগঞ্জের দিকে আসছে বলে ডিবি পুলিশের এসআই জলিল মাতুব্বরকে জানায় এসপির গাড়ির চালক। শুক্রবার রাত পৌনে তিনটার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন সাইনবোর্ড চৌরঙ্গী ফিলিং এন্ড সিএনজি ষ্টেশন থেকে ওই গাড়ির চালক সুমনকে আটক করে।

পুলিশ আরও জানায়, ওই গাড়ি হতে উদ্ধার করা হয় পিস্তলের ২৮ রাউন্ড গুলি, ১২শ’ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৪ বোতল বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিদেশী মদ, ২৮ ক্যান বিয়ার, নগদ ২২ হাজার ৩৮০ টাকা। ওই সময়ে গ্রেপ্তার করা হয় চালক মো. সুমনকে (২৯)। এ ঘটনায় সাদা রঙের একটি জিপ গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ঘ: ১৩-৮৩৭৫) পুলিশের জব্দ তালিকায় দেখানো হয়েছে। গাড়ি থেকে উদ্ধারকৃত পিস্তলের গুলি ও মাদক শওকত আজিজ রাসেলের (৩৯) বলে ডিবির কাছে জানায় আটক গাড়ি চালক সুমন।

এদিকে এই ঘটনায় শনিবার সকালেই জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ছুটে আসেন পারটেক্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এমএ হাশেম, পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এমএ হাশেমের স্ত্রী সুলতানা হাশেম, এমডি আজিজ আল মাহমুদ। পরে শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ফারাহ রাসেল ও ছেলে আহনাফ আজিজকে তাদের হেফাজতে ছেড়ে দেয়া হয়।

এ বিষয়ে শনিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসপি হারুন অর রশীদ বলেন, শওকত আজিজ রাসেলের গাড়ি তল্লাশী করে ইয়াবা, পিস্তলের গুলি ও বিদেশী মদ উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে আমরা ধরতে পারি নাই, সে পালিয়ে গেছে। তবে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দু’টি মামলা হয়েছে। তাকে ধরার জন্য গুলশান এলাকায় যাই ও ঢাকার একটি ক্লাবে যাই, তার বাসায় যাই কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। আসামি রাসেলকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ