সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০১৯

‘কোন দল করবো সে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার ছাত্রলীগকে কে দিয়েছে?’

বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯, ১৫:১৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে নগরীতে মানববন্ধন পালন করেছে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন (ইশা)।

বুধবার (১০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে তোলারাম কলেজ শাখার ব্যানারে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত মেধাবী ছাত্র আবরারের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং সরকারকে নিহত আবরারের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের তাগিদ দেন।

ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন সরকারি তোলারাম কলেজ শাখার সভাপতি তাজউদ্দিন আহম্মেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহানগর কমিটির সাবেক সভাপতি মো. ইমদাদুল হক। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ছাত্রনেতা আব্দুল হান্নান, সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সহ সভাপতি সোহেল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান, দপ্তর সম্পাদক মো. ইব্রাহীম, মো. ইকবাল হোসেন প্রমুখ।

তাজউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘বাবা-মা সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাদের পড়াশোনার জন্য শহরে পাঠিয়ে দেয়। যখন মাঝ রাতে সেই বাবা শুনতে পায় তার প্রিয় সন্তান আর নেই। তার ছেলেকে পিটিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। সেই বাবার উপর দিয়ে কি যায় আপনারা কল্পনা করতে পারবেন না।’

তিনি আরো বলেন, ‘স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক আমরা। আমরা কোন দল করবো সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার ছাত্রলীগকে কে দিয়েছে? কোন সংবিধান থেকে এই অধিকার তারা হাসিল করল। আমি কোন দল করবো সেটা ছাত্রলীগের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে কেন। ছাত্রলীগ করলে ক্যাম্পাসে থাকতে পারবো না হলে পারবো না; কেন?’

আব্দুল হান্নান বলেন, ‘যাদের দিয়ে বাংলাদেশ, আগামীতে যাদের মেধায় বাংলাদেশ সমৃদ্ধ হবে আজ তাদেরই অন্যায়ভাবে হত্যা করা হচ্ছে। খাদিজা হত্যা হচ্ছে, নুসরাত হত্যা হচ্ছে, এখন আবরার হত্যা হলো। বিশ্বজিৎ হত্যার পর প্রধানমন্ত্রী কথা দিয়েছিলেন সুষ্ঠ বিচার হতে। কিন্তু এখনো তা হয়নি। আবরার হত্যার দুদিন না যেতেই তার ভাইকে হুমকি দেয়া হচ্ছে, ভাবিকে নির্যাতন করা হচ্ছে। এ কেমন দেশে আমরা বাস করছি। বাংলাদেশের সংবিধান আমাদের কথা বলার স্বাধীনতা দিয়েছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ সেই অধিকার কিভাবে ছিনিয়ে নিতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করুন। তাহলে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শান্তি ফিরে আসবে। কেননা ছাত্রলীগ আজ সন্ত্রাসলীগে পরিণত হয়েছে। ওদরে কারণে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা অনিরাপদ।’

আনোয়ার হোসেন, ‘রাজনীতি অনেকেই করে, আমরাও করি। কই আমাদের মধ্যে তো মারামারি বা সন্ত্রাসবাদ নেই। তাহলে ওদের কাছে কেন অস্ত্র থাকবে, কেন তারা সন্ত্রাসী আচরণ করবে। প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থী যে দলই করুক তার গায়ে তো হাত দেয়া যাবে না। তাকে হত্যা করা যাবে না।’

সোহেল হোসেন, ‘একটু মতের ভিন্নতার কারণে আবরারকে হত্যা করা হয়। আমরা জানি, এ দেশে বিচার হবার নয় তবু আমরা আবরার হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে এখানে এসেছি, আন্দোলন করছি। কেননা প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচার ছাড়া এই সন্ত্রাসবাদ বন্ধ হবার নয়।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ