শুক্রবার ২৩ আগস্ট, ২০১৯

কে এই হালিম আজাদ?

মঙ্গলবার, ১১ জুন ২০১৯, ১৭:৪৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ শহরে এই মুহুর্তে সবচেয়ে আলোচিত নাম হালিম আজাদ। সম্প্রতি ত্বকী হত্যার বিচারের দাবিতে সাংস্কৃতিক জোটের এক কর্মসূচিতে ত্বকী হত্যাকান্ডের সাথে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান, তাঁর ছেলে অয়ন ওসমান ও তাঁর ভাতিজা আজমেরী ওসমান জড়িত উল্লেখ করে তাদের গ্রেফতারের দাবি জানান। হালিম আজাদের এই বক্তব্যে উত্তাপ ছড়ায় নারায়ণগঞ্জে। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তাঁকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে আল্টিমেটামও দেয়া হয়েছে।

এর আগেও ত্বকী মঞ্চের কর্মসূচিতে দেয়া বক্তব্যের জন্য ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে কবি হালিম আজাদকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চাকরি থেকে বরখাস্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে সমাবেশ করেছিল ওসমান পরিবারের অনুগত ব্যক্তিরা। চাষাঢ়ার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নারায়ণগঞ্জের সকল ব্যবসায়ী, শ্রমিক, পেশাজীবী ও রাজনীতিক নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত সমাবেশে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ সেলিম ওসমান হালিম আজাদকে বক্তব্য প্রত্যাহার করতে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন। কিন্তু কে এই হালিম আজাদ?

নারায়ণগঞ্জের গন্ডি ছাড়িয়ে বাংলাদেশের সাহিত্য, সংস্কৃতি, সাংবাদিকতায় পরিচিত নাম হালিম আজাদ। সাংবাদিক হালিম আজাদ থেকে কবি হালিম আজাদ নামে তিনি বেশি পরিচিত। তিনি ১৯৫৫ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের মধ্যনগর গ্রামে কৃষি ও সংস্কৃতিমনা সচ্ছল কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোহাম্মদ হাকিম আলী ছিলেন বৈঠকী গানের শিল্পী। মাতার নাম আমেনা খাতুন। পরিবারে চৌদ্দ ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট কবি হালিম আজাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করেন।

১৬ বছর বয়সেই কবি হালিম আজাদ মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ছিলেন রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা। বক্তাবলী প্রতিরোধ যুদ্ধসহ বেশ কয়েকটি অপারেশনে তিনি অংশ নেন।

১৯৬৭ সালে অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া অবস্থা ছাত্র ইউনিয়নের যোগদানের মধ্য দিয়ে তিনি ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন হালিম আজাদ। ১৯৭৭ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদে ‘পৃথিবীর কাছে নোটিশ’ শিরোনামে কবিতাগ্রন্থ প্রকাশ করায় তিনিসহ এই বই প্রকাশের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে জিয়াউর রহমান সরকার মামলা দায়ের করে। ওয়ারেন্ট বের হলে তিনমাস আত্মগোপনে থাকেন তিনি।

১৯৮৬ সালের ৭ ডিসেম্বর সাহিত্য-সংস্কৃতি বিষয়ক ম্যাগাজিন ও ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘সন্ধ্যানী’তে ‘গণতন্ত্র ১৯৮৬’ কবিতাটি লিখেন কবি হালিম আজাদ। অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী স্বৈরাচারী জেনারেল এরশাদ বন্দুকের জোড়ে ক্ষমতায় বসলে এর প্রতিবাদ করে কবিতাটি লিখেন তিনি। কবিতাটি লেখার অপরাধে ১৯৮৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে প্রেসিডেন্ট এরশাদের নির্দেশে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার অফিস বাংলার বাণী থেকে তুলে নিয়ে যায়। কয়েক ঘন্টা হোটেল শেরাটনের পাশে সেনাক্যাম্পে চোখ বেঁধে তাকে নির্যাতন চালানো হয়। পরে তাঁকে বঙ্গবভনে প্রেসিডেন্ট এরশাদের কাছে নিয়ে যায় সেনা সদস্যরা। প্রেসিডেন্ট এরশাদ তাকে বঙ্গভবনে তার অফিস কক্ষে ৩৭ মিনিট ধরে অপমানমূলক কথাবার্তা ও হুমকি প্রদান করেন। বিকেলে তাকে পুনরায় গাড়িতে সেনা সদস্যরা অফিসের সামনে নামিয়ে দিয়ে যায়।

ছোটবেলা থেকেই লেখালেখিতে আগ্রহ ছিল তার। কবিতা, উপন্যাস, গল্প, জীবনীসহ এ পর্যন্ত তার লেখা গ্রন্থের সংখ্যা ২৮। ১৯৭৭ সালে একটি গানের দলে যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন গান করেন। সাংবাদিকতা পেশায় প্রবেশ করেন ১৯৭৯ সালে দৈনিক বাংলার বাণী পত্রিকায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে। এরপর থেকে গত ৩৪ বছর ধরে দৈনিক যুগান্তর, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), চ্যানেল আই, সাপ্তাহিক বিচিত্রা এবং পুনরায় বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় যোগদান করেন। ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস’র প্রধান বার্তা সম্পাদক। বর্তমানে তিনি বিশেষ সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত।

জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য হালিম আজাদ নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের তিন বার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

গল্প ও কবিতা নিয়ে তাঁর বহু গ্রন্থ প্রকাশ পেয়েছে। পেয়েছেন একাধিক জাতীয় পুরস্কার। উল্লেখযোগ্য পুরস্কার হল- জাতীয় প্রেসক্লাব সাহিত্য পুরস্কার, চ্যানেল আই আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার, শ্রুতি সাংস্কৃতিক একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার, চারণ সাহিত্য পুরস্কার, ঢাকা, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সাহিত্য পদক, আবুল হাসেম হাসু সাহিত্য পুরস্কার, মধুসূদন পদক ২০১৫, পদক্ষেপ সাহিত্য পুরস্কার, এম নুরুল কাদের শিশু সাহিত্য পুরস্কার।

কবি হালিম আজাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী হিসেবে আমেরিকা, ভারত, ইতালি সফর করেন।

সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত হালিম আজাদ বরাবরই প্রতিবাদী চরিত্রের অধিকারী। আর এই জন্য তাঁকে অনেক ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করতে হয়েছে বলে দাবি তাঁর শুভাকাঙ্খীদের।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ