সোমবার ২৭ মে, ২০১৯

‘কৃষক কেন তার ফসলে আগুন দেবে না সেটাই প্রশ্ন’

বুধবার, ১৫ মে ২০১৯, ১৯:৫১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ধানসহ কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, কৃষিখাতে পর্যাপ্ত ভর্তুকি প্রদান ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের লাগাম টানার দাবিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে সারাদেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বুধবার (১৫ মে) দুপুর ২টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ছাত্ররা কৃষকদের স্বার্থসম্বলিত ৫টি দাবি উপস্থাপন করে। দাবিগুলো হলো, ধানসহ সকল কৃষি পণ্যের খরচ অনুযায়ী ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে, কৃষিতে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, কৃষিতে সুনির্দিষ্টভাবে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি বাড়িয়ে স্বল্প মূল্যে উন্নতমানের বীজ, সার ও সেচের ব্যবস্থা করতে হবে, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের সরাসরি ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, হয়রানি ও ঝামেলামুক্তি করে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রদান করতে হবে।

আবুু তালহা আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের এই কৃষিনির্ভর দেশের বাজেটে কৃষিখাতের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা ২০ শতাংশ। কিন্তু তা হয় না। বিগত বছরগুলোর বাজেট পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে কৃষিখাতে বরাদ্দ কমছে, বাড়ছে না। আমার প্রশ্ন বাংলাদেশে জনসংখ্যা কি কমছে? যদি বেড়েই থাকে তাহলে কৃষিখাতে বরাদ্দ কমছে কেন?’

তিনি সরকারের কাছে অনুরোধ করে বলেন, ‘আমাদের কৃষিখাতে আরো বরাদ্দ বাড়ান। ফসলের নেয্য মূল্য নির্ধারণ করুন এবং তার পাশাপাশি কৃষি উপকরণের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করুন। যাতে আর কোনো কৃষককে তার পাকা ফসলে আগুন দিতে না হয়।’

সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক আবুু তালহা আব্দুল্লাহ’র সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমন্বয়ক শাকিল আদনান, যুগ্ম সমন্বয়ক সেলিম মিয়া, সদস্য মাহমুদুন হাসান, সাবিকুন নাহার কেয়া, আলিফ আলম খুশী, উম্মে হাবিবা, জান্নাত, মুরাদ প্রমুখ।

আবুু তালহা আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের এই কৃষিনির্ভর দেশের বাজেটে কৃষিখাতের জন্য বরাদ্দ থাকার কথা ২০ শতাংশ। কিন্তু তা হয় না। বিগত বছরগুলোর বাজেট পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে কৃষিখাতে বরাদ্দ কমছে, বাড়ছে না। আমার প্রশ্ন বাংলাদেশে জনসংখ্যা কি কমছে? যদি বেড়েই থাকে তাহলে কৃষিখাতে বরাদ্দ কমছে কেন?’

তিনি সরকারের কাছে অনুরোধ করে বলেন, ‘আমাদের কৃষিখাতে আরো বরাদ্দ বাড়ান। ফসলের নেয্য মূল্য নির্ধারণ করুন এবং তার পাশাপাশি কৃষি উপকরণের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করুন। যাতে আর কোনো কৃষককে তার পাকা ফসলে আগুন দিতে না হয়।’

কামরুন নাহার কানিকা বলেন, ‘একটি কৃষি ভিত্তিক দেশে একজন কৃষক কেন তার ফসলে আগুন দিবে? আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, যে কৃষক আমাদের মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছে সেও মানুষ। তারও পরিবার আছে। তাদের কথা ভাবতে হবে, তাদের অধিকার সম্পর্কে ভাবতে হবে এবং সচেতন হতে হবে।’

মুরাদ বলেন, ‘আগে জমিদাররা কৃষকদের শোষণ করতেন এখন শোষণ করছে অসাধু একটি চক্র। জমিদাররা কৃষকদের তিন ভাগের দুই ভাগ নিতো আর এখন একটি অসাধুচক্র তাই করছে। কৃষক তার ধান বিক্রি করছে ১২ টাকায় আর আমরা চাল কিনছি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। বাংলাদেশকে বাচাতে হলে আগে এই সিন্ডিকেটকে নষ্ট করতে হবে। তবেই কৃষি সমাজ, দেশ, কৃষক বাচবে।’

সেলিম মিয়া বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমরা দেখেছি একজন কৃষক তার পাকা ফসলে আগুন দিয়েছে। তিনি কেন এমনটা করলেন? কৃষক তার প্রতি মণ ধানের মূল্য পাচ্ছে ৫০০ টাকা, যেখানে তার খরচ হয়েছে ৭৫০ টাকা। এমতাবস্থায় কৃষক কেন তার ফসলে আগুন দেবে না সেটাই প্রশ্ন।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ