রবিবার ২৯ মার্চ, ২০২০

কুতুববাগ পীরের পা ধরে মাফ চাইলেন মামলার বাদী ফজর আলী

বুধবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২০, ২১:৩৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: কুতুববাগ দরবারের পীর জাকির শাহের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেন ব্যবসায়ী ফজর আলী। এ মামলায় কুতুববাগ পীরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির তিন দিন পর সাংবাদিকদের ডেকে ক্ষমা চান মামলার বাদী ব্যবসায়ী ফজর আলী। তিনি জানান, তিনি বাবার (জাকির শাহ) সাথে মিটমাট করে নিয়েছেন। এমনকি মামলাও তুলে নিবেন বলে জানান।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বন্দরের সমরক্ষেত্র এলাকায় কুতুববাগ দরবারে সাংবাদিকদের ডেকে তিনি এসব কথা জানান। এ সময় পীর জাকির শাহের পা ধরে ক্ষমাও চান। আমি কোন সাংবাদিকরে বাবার বিরুদ্ধে লিখতে বলি নাই। কিন্তু কীভাবে কী হয়েছে তা আমি জানি না। কিন্তু আগে পরে যা-ই হয়েছে সব বাদ। বাবার সাথে এখন আমার কিছু নাই, ভবিষ্যতে হবেও না। মামলা নিয়ে বাবার সাথে আমার সমাধান হয়ে গেছে। আমি মামলা প্রত্যাহার করে নেবো।

মামলায় আপনি উল্লেখ করেছেন আপনার টাকা আত্মসাতের জন্য আপনার সাথে প্রতারণা করেছেন পীর জাকির শাহ। তাহলে সেটা কী ছিল? এমন প্রশ্নের জবাবে কিছু বলতে চাননি ব্যবসায়ী ফজর আলী। তিনি বলেন, এটা আমি এখানে জবাব দিতে পারবো না। একটা সমস্যা ছিল তা সমাধান হয়ে গেছে। কথা প্যাচাইয়েন না। সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে সব শ্যাষ। আপনারা দোয়া কইরেন। সারা জীবন বাবার পায়ের নিচে ছিলাম, থাকবো।

এ বিষয়ে কুতুববাগ দরবারের পীর জাকির শাহ্ বলেন, উনি আমার ছেলে, মুরিদ সন্তান। মুরিদ অনেক সময় ভুল করে, ছেলেরাও অনেক সময় ভুল করে।

মামলায় বাদীর পক্ষে সাক্ষী হয়েছেন আসামি জাকির শাহের ভাই সবির আহমেদ জামান। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাকির শাহ বলেন, আমার ভাই ব্যবসায়ীক কারণে এর (ফজর আলী) সঙ্গে জড়িত। ব্যবসার স্বার্থেই ওর সঙ্গে থেকে এই মামলাটি করেছেন। আপনারাই তো বোঝেন নইলে ভাই হয়ে কেন সাক্ষী দেবে? কী স্বার্থে দেবে? আপনারাই তো সব বোঝেন।

তিনি আরও বলেন, আমি তো ফকির মানুষ। আল্লাহ চালায় আর চলে এইসব। কিছু লোকে দেয় আর কিছু লোককে সেবা দেই আমি। ওইখান থেকেই কিছু অর্থ আমি ওদের ব্যবসায়ীক কাজে দিয়েছিলাম। কিন্তু ওইটার কিছু অর্থ ফেরত দিছে কিছু দেয় নাই। ওটা আত্মসাতের জন্যই এই মামলা। এখন মাফ চাইছে সুতরাং কিছু বলার আর নাই।

প্রসঙ্গত, কুতুববাগ পীর জাকির শাহের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ এনে গত ৭ জানুয়ারি মামলা করেন ব্যবসায়ী ফজর আলী। এ মামলায় গত ২৬ জানুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (‘ক’ অঞ্চল) আদালত। মামলার বাদী ফজর আলী শহরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। তিনি ডিআইটির ফজর আলী ট্রেড সেন্টারের মালিক। বাদীর পক্ষে মামলাটিতে সাক্ষী হয়েছেন খোদ আসামি জাকির শাহ’র ভাই সবির আহমেদ জামান।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, পারস্পরিক সুসম্পর্কের সুবাদে যৌথ ব্যবসা করার জন্য পীর জাকির শাহ ব্যবসায়ী ফজর আলীকে ৮ কোটি টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ২০১৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ব্যবসার উদ্দেশে সেই ৮ কোটি টাকা দেয়ার বিপরীতে ব্যবসায়ী ফজর আলীর কাছ থেকে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে একটি অঙ্গীকারনামা এবং ৬টি চেক গ্রহণ করেন।

অঙ্গীকারনামা ও চেকের বিপরীতে বিভিন্ন সময়ে ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা প্রদান করেন পীর জাকির শাহ। পরবর্তীকালে আর টাকা দিতে পারবে না বলে জানালে ফজর আলী টাকা ফেরত দেয়।

ওই সময় স্ট্যাম্প ও ৩টি চেক ফেরত দিলেও বাকি ৩টি চেক খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানান পীর জাকির শাহ। ওই সময়ে স্ট্যাম্পের পেছনে চেক নম্বর উল্লেখ করে হারানো ৩টি চেক বাবদ কোনো দাবি-দাওয়া নেই মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করেন এবং পরবর্তীকালে খুঁজে পেলে ফেরত দিবেন বলে অঙ্গীকার করেন তিনি। কিন্তু কিছুদিন পর ব্যবসায়ী ফজর আলী জানতে পারেন ওই চেক হারানো যায়নি এবং এগুলো নিয়ে পীর জাকির শাহ টাকা দাবি করার ষড়যন্ত্র করছেন।

গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর নিজ বাড়িতে দাওয়াত দিয়ে পীর জাকির শাহ এবং সহযোগী ইসমাইল হোসেন বাবুকে খাওয়ানোর পর চেক ফেরতের বিষয়ে কথা বললে পীর জাকির শাহ ও সহযোগী বাবু ৫ কোটি টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে ক্ষতি হবে বলে হুমকি দেয়া হয়।

এর আগেও ২০১২ সালে প্রতারণার মাধ্যমে জোর করে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে কুতুববাগ দরবার শরিফের খাদেম সৈয়দ শরীফুল হক চিশতীর মামলায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালত পীর মো. জাকির শাহকে তলব করে। সেই মামলায়ও আসামি ছিলেন ইসমাইল হোসেন বাবু।

বাদির অভিযোগ ছিল দরবার শরিফে আটক রেখে আমমোক্তারনামার কথা বলে কিছু স্ট্যাম্পসহ কার্টিজ পেপারে আসামিরা স্বাক্ষর নেয়। পরবর্তীতে বাদি জানতে পারেন, পীর জাকির শাহ ডেসটিনি চেয়ারম্যান রফিকুল আমিনের কাছে বাদির পৈত্রিক সম্পত্তি (৩২৪৭ অযুতাংশ জমি) ১৬ কোটি ৫০ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। বাদি তার পীরের কাছে এই ঘটনার ব্যাখ্যা চাইলে পীর উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং ভাড়াটে গু-াবাহিনী দিয়ে বাদিকে হত্যার হুমকি দেন।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ