সোমবার ১৯ নভেম্বর, ২০১৮

কুতুবআইলবাসীর ভোগান্তির সড়কে মৃত্যু ফাঁদ

রবিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২০:১০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ফতুল্লার শিবু মার্কেট বাসস্টান্ড থেকে হাজীগঞ্জ ওয়াবদারপুল সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত। গর্তগুলো যেন এক একটি মরণফাঁদ। গর্তগুলোর কারণে কুতুবাইল এলাকাবাসীসহ হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের পথটি ভয়ংকর রূপে পরিনত হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) সরজমিনে সড়কটি ঘুরে দেখা যায়, সড়কটিতে যাত্রী ও পথচারীদের ভোগান্তির নানা চিত্র। সড়কটিতে প্রতিটি যানবাহন একেঁ বেঁকে চলছে। সড়কের কার্পেটিংসহ ইট-সুরকি উঠে গেছে। মাঝে বড় বড় গর্ত থাকার ফলে রিক্সা, অটো রিক্সা সব সড়কের পাশ দিয়ে চলাচল করে। বৃষ্টি না হলেও পানি জমে থাকা এই সড়কে একটি স্থায়ী বিষয় হয়ে আছে। ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে পানি জমাট বেঁধে খানাখন্দে প্রায় কূপের মত হয়ে আছে। কুপগুলো ভয়ঙ্কয় আকার ধারন করে আছে।

সড়কে এই অবস্থার কারণে যানবাহনের যাত্রীদের সাথে পথচারীদেরও দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। পথচারী স্কুলের শিক্ষক মো.মতিন বলেন, এই সড়কটির অবস্থা আজকে থেকে এমন নয়। অনেক বছর ধরে এই অবস্থা দেখছি। মাঝে মাঝে দেখছি এলাকাবাসীরা মিলে ইটের সুরকি দিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির পানিতে সড়ে গেছে। জনপ্রতিনিধিরা আসে, রাস্তা দেখে, আশ্বাস দেয় ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু কোন ধরনের ফলাফল দেখি নাই।

কুতুবাইল, হাজীগঞ্জ, লাকীবাজার এলাকাবাসী দৈনন্দিন যাতায়াতের পথ এই সড়কটি। নারায়ণগঞ্জ কিংবা ঢাকা যাওয়ার একমাত্র সড়ক হওয়ার কারণে এলাকাবাসীর ভোগান্তির যেন শেষ নেই। সড়কে প্রায় প্রতিদিন রিকশা, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল উল্টে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। সড়কের এমন অবস্থার পরেও জনপ্রতিনিধির যেন কোন টনক নড়ছে না।

অটোরিকশা ড্রাইবার আব্দুল রশিদ বলেন, অতিরিক্ত ওজন নিয়ে ট্রাক-ট্রাক্টর চলাচলের কারণে সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আর অটোরিকশাগুলো যেমনে পড়ে, রাস্তার কারণে ওয়াবদারপুলের সামনে মানুষ নামিয়ে দেয়। এ জায়গাটায় অটোরিকশাগুলো বেশি পড়ে। ট্রাকগুলা গর্তে আটকে গেলেই বিপদ। ২-৩ ঘন্টার জ্যাম সৃষ্টি হয়। রাস্তায় স্কুল মাইক্রো, আর অ্যাম্বুলেন্স থাকলেই সমস্যা হইয়া যায়।

মিস্টির দোকানদার নুরুল আলম বলেন, রাস্তার সমস্যায় শুধু যে দূর্ঘটনা ঘটে তা নয়, যেই পরিমানে ভাড়া বাড়ছে ভাবা যায় না। রিকশা হোক আর অটোরিকশা, ভাড়া দিগুন করছে। ৫ বছর আগে দেখছিলাম রাস্তাটা একবার কোন রকম ঠিক করছিল পরে আবার বৃস্টির পানিতে ওই আগের অবস্থা। এইটা রে রাস্তা কয় না, গর্ত আর নইলে নালা কওন যায়।

এ বিষয়ে এলজিডির নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম সরকার বলেন, সড়কটির টেন্ডার দ্রুত পাশ হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু এখনো পাশ হয়নি। তবে শীগ্রই এই সড়কের টেন্ডার পাশ হয়ে যাবে। টেন্ডার পাশ হলেই সড়কটির সংষ্কার কাজ শুরু হবে।

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ