বৃহস্পতিবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৯

কালাপাহাড়িয়ায় দুর্ধর্ষ ডাকাতির কিনারা করতে পারেনি পুলিশ

বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর ২০১৯, ২০:০০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যেন এক মূর্তিমান আতঙ্কের নাম। মেঘনা নদী বেষ্টিত দুর্গম এই এলাকায় নিত্যনতুন অশান্তির খবর পাওয়া যায়। ডাকাতি, হত্যা, হামলা, সংঘর্ষ নিত্যদিনের ঘটনা।

গত ৭ অক্টোবর এই কালাপাহাড়িয়ার রাধানগর বাজারের চারটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ঘটে গেছে দুর্ধর্ষ এক ডাকাতি। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, সিকিউরিটি গার্ডের পোশাক পড়ে অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এই ডাকাতি সম্পন্ন করে দৃর্বৃত্তরা। পরে স্পিডবোটের মাধ্যমে পালিয়েও যান তারা। তবে এই ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনার কোন কুলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা রুজু করা হলেও কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। উদ্ধার হয়নি ডাকাতির মালামাল।

তবে এ ঘটনায় কিছু ক্লু পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম। ক্লু অনুযায়ীয় তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। শীঘ্রই ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হবে বলে জানান তিনি।

পুলিশ, বাজারের ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের রাধানগর বাজারটি ঘিরে ফেলে ২৫-৩০ জনের একটি ডাকাত দল। পরে ওই বাজারের আলম সুপার মার্কেটের ওয়াজউদ্দিন প্লাজার নিচ তলা ও পাশের একটি মার্কেটে হামলা চালায়। দুই ঘন্টাব্যাপী তান্ডব চালিয়ে তিনটি স্বর্ণের দোকান ও একটি মোবাইলের দোকানের নগদ টাকাসহ প্রায় ৬০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় তারা। এ সময় বাজারের প্রহরী বৃদ্ধ আব্দুল আলী, মার্কেটে অবস্থানরত মোহর আকন্দ ও কবির হোসেন নামে দুই ইটভাঙ্গা শ্রমিককে মারধর করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে।

এদিকে জানা যায়, ঘটনাস্থল থেকে কালাপাহাড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দূরত্ব মাত্র ২০-২৫ গজ।

ঘটনার পরের দিন ভুক্তভোগী উজ্জ্বল শিল্পালয়ের মালিক উজ্জল বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। তবে ঘটনার পর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও দুস্কৃতিকারীদের গ্রেফতার ও লুট হওয়া মলামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ডাকাতদল একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্থাপনকৃত (সিসি টিভি) ক্যামেরা খুলে নিয়ে গেছে। এতে পুলিশের পক্ষে ডাকাতদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র সংলগ্ন একটি বাজারের চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ২ ঘন্টা ব্যাপী ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও পুলিশের টের না পাওয়ার বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ। তবে জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এরই মধ্যে ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছেন।

ডাকাতির খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম ও সহকারি পুলিশ সুপার (‘গ’ অঞ্চল) আফসারউদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশের দাবি, এটি একটি চুরির ঘটনা।

এদিকে ঘটনার পর থেকে পুরো বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ উজ্জ্বল শিল্পালয়ের মালিক উজ্জ্বল জানান, আলম মার্কেটের (৩য় তলা) বিল্ডিংয়ের নিচ তলায় তার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। দুস্কৃতিকারীরা তালা কেটে ভেতরে ঢুকে। দুইটি সিন্দুকের তালা কেটে ৭৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, ৩৫ কেজি রৌপ্য ও নগদ ৭ লাখ টাকা লুটে নিয়েছে।

মা জুয়েলার্সের মালিক মোস্তফা জানান, তার দোকান থেকে ১৫ ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার ও ৭ কেজি রৌপ্য ও নগদ ৭৫ হাজার টাকা লুটে নিয়েছে।

আহত শ্রমিক কবির হোসেন বলেন, প্রথমে আমাদের থাকার কক্ষের দরজায় লাথি মেরে ভেঙে ফেলে। পরে তারা আমাকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে শর্টগান ও পিস্তুল ঠেকিয়ে মারধর করে।

বাজারের পাহারাদার বৃদ্ধা আব্দুল আলী বলেন, পুলিশের পোশাকধারী তিন ব্যক্তি আমাকে প্রথমে জাপটে ধরে। পরে আমি টানাহেচড়া করলে আমার আঘাত করে।

এদিকে কামাল হোসেন নামে স্থানীয় এক যুবক জানান, ‘বাজারে টিটুর চায়ের দোকানটি খোলা ছিল। এ সময় তার দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে পাঁচজন দুস্কৃতিকারী পুলিশের তদন্ত কেন্দ্রে যাতে কেউ ঢুকতে না পারেন এজন্য পাহারা দিয়েছে।’

এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা কিছু ক্লু পেয়েছি যা তদন্তের স্বার্থে বলা যাচ্ছে না। ক্লু মোতাবেক আমরা তদন্ত চালাচ্ছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতার ও লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হবে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ