বুধবার ১৩ নভেম্বর, ২০১৯

কানাডার রহস্যময় এক গ্রাম !

মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৭, ১৮:৫৬

অনলাইন ডেস্ক

সংগৃহীত

সংগৃহীত

যেন সিনেমা কিংবা সায়েন্স ফিকশনের কোন কাহিনী। অথবা অসাধারণ একজন লেখকের দুর্দান্ত বর্ণনায় কোন রোমান্স উপন্যাস। অথবা আপনার পাশের গ্রামটিই, হঠাৎ একদিন দেখলেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। রহস্যময় এই পৃথিবীতে কত বিচিত্র ঘটনাই তো ঘটে। শত শত বছর গবেষণা করেও যার আসল কারণ খোঁজে পায় না মানুষ।

ভিলেজ অব ডেড নামের একটি গ্রামে ঠিক এমন একটি ঘটনাই ঘটে। কানাডার উত্তরে আজকুনি হ্রদের পাশে ছিলো গ্রামটির অবস্থান। এই ঘটনাটি ঘটার আগে এই গ্রামটি সম্পর্কে মানুষের তেমন কোনো জানাশোনা ছিল না। শুধুমাত্র গ্রামবাসী ও ব্যবসার কাজে যারা আসতেন তারাই জানতেন গ্রামটি সম্পর্কে। কিন্তু ১৯৩০ সালের পর সংবাদ মাধ্যমে একটি ঘটনা প্রকাশের মাধ্যমে গ্রামটি পুরো বিশ্বের নজড়ে চলে আসেন।

কানাডার পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত এই গ্রামটি ছিল উপজাতি অধ্যুষিত। প্রায় হাজার দুয়েক উপজাতির বসবাস ছিল এই গ্রামে। স্থানীয় অধিবাসী ও পশম ব্যবসায়ীদের আনাগোনা ছাড়া এখানে তেমন কোনো কোলাহল ছিল না।

১৯৩০ সালে একজন সাংবাদিক এই গ্রামের একটি অদ্ভুত ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। আর যার সূত্র ধরে সংবাদটি প্রকাশ করা হয় তিনি একজন পশম ব্যবসায়ী। তার নাম ‘জো লবেল’। পশম কেনার জন্য তিনি প্রায়ই গ্রামটিতে যেতেন। কিন্তু একদিন তিনি পশম কেনার জন্য গ্রামে গিয়ে দেখেন কোথাও কোনো মানুষ নেই। এ বাড়ি, ও বাড়ি খুঁজেও একজন মানুষও তিনি খুঁজে পেলেন না। বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তারা যে শার্টগুলো বুনছিল সেগুলো অসমাপ্ত অবস্থাতেই পড়ে আছে। অনেকে চুলোয় তরকারি গরম করতে দিয়েছেন, সেই তরকারি গরম হচ্ছিল। কিন্তু কোথাও কোনো মানুষের চিহ্ন নেই।

অবশেষে কবরস্থানে গিয়ে তিনি আরও হতবাক হয়ে যান। কবরস্থানের সবগুলো কবর পাওয়া গেল খোদিত অবস্থায়! কিন্তু কবরস্থানের ভেতরে কোনো লাশের দেখা মিললো না। ভেতরের সবগুলো লাশ কোথায় যেন উধাও হয়ে গেছে।

ঘটনার আকস্মিকতায় খেই হারিয়ে ফেলেন ‘জো লবেল’। তিনি দ্রুত দ্য রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশকে খবর দেন। মেজর থিওডোর লিস্টোর্টের নেতৃত্বে দ্য রয়েল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ পুরো গ্রাম ও আশপাশের এলাকা তন্ন তন্ন করে খুঁজলো। কোনো গ্রামবাসীকে পেলেন না।

আসল রহস্যের বেড়াজাল:
ওই গ্রামের এস্কিমোদের পূর্বপুরুষদের সবগুলো কবর খোদিত অবস্থায় আছে আর সেগুলোর ভেতর থেকে লাশগুলো গায়েব! যে বা যেটি গ্রামবাসীদের নিয়ে গেল সে কি একই সঙ্গে কবরগুলোর ভেতরে থাকা লাশগুলোও নিয়ে গেছে? কিন্তু কবরের ওপরের মাটি বরফ জমে এতোটাই শক্ত হয়ে গিয়েছিল যে এগুলো খনন করা যে কারও জন্যই বেশ দুঃসাধ্য কাজ। শুধুমাত্র অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেল ওই গ্রামের সবচেয়ে প্রাচীন গোত্রপ্রধানের কবরটি। তাহলে কি তার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে অজানা এই রহস্য? হবে হয়তোবা।

পরবর্তীতে হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়া সেই ২ হাজার গ্রামবাসীকে আর কখনোই দেখা যায়নি। জানা যায়নি কি হয়েছিল গ্রামের অধিবাসীদের! কি হয়েছিল কবরে শায়িত লাশগুলোর! শুধু পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লেখা হয়েছিলো রহস্যময় এই গ্রামটি সম্পর্কে।

সব খবর