শুক্রবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

কাউন্সিলর বাবুর বিরুদ্ধে মামলার বাদী ধর্ষণ চেষ্টা মামলার আসামি!

সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:৩৬

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে এক ব্যক্তিকে আটক করে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের এক কাউন্সিলরের কার্যালয়ে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে মারধরের শিকার ওই ব্যক্তির পরিবারের দাবি, তাকে মিথ্যা ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে।

রোববার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে নাসিকের ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুর নিজস্ব কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মারধরের শিকার নাজমুল হাসান বারেক গত ১৯ এপ্রিল কাউন্সিলর বাবুর বিরুদ্ধে মাদরাসা দখলের অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বাবুকে গ্রেফতারও দেখায় পুলিশ। এই মামলার কারণে ক্ষুব্দ হয়ে কাউন্সিলর বাবুর যোগসাজশেই নাজমুলকে মিথ্যা ঘটনায় ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি তার পরিবারের লোকজনের।

তবে সদর মডেল থানা পুলিশ বলছে, এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে নাজমুল বারেক নামের একজনকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসী।

জানা গেছে, নগরীর নলুয়াপাড়া এলাকায় তিন বছরের শিশুকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে নাজমুল হাসান বারেককে আটক করে পুলিশ। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় অভিযোগ দিলে তাকে আটক করা হয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার নাজমুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া। গত দুই মাস যাবৎ এই বাসায় ভাড়া থাকছেন তারা। ঘটনার দিন দুপুরে শিশুর মাকে কোক আনার কথা বলে কৌশলে বাইরে পাঠায় নাজমুল। একা ঘরে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করে সে। পরে এ ঘটনা শিশুটি তার মাকে জানালে সে এলাকাবাসীকে জানায়। উত্তেজিত এলাকাবাসী তাকে মারধর করে কাউন্সিলরের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে পুলিশে দেয়া হয়।

জানা গেছে, শিশুটির মা কুখ্যাত মিল্লা ডাকাতের অন্যতম সহযোগি চোরা রমজানের মেয়ে। শিশুটির মামা লিটন কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুর অফিসে চা-পান আনা নেওয়ার কাজ করে।

এদিকে এর আগেও সাবেক এক ফুটবলারকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে যান কাউন্সিলর বাবু। পুলিশের অধিকতর তদন্তের পর এই ঘটনায় কাউন্সিলর বাবুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

নাজমুল হাসান বারেকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবু। তিনি বলেন, এ ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলো, করতেই পারে। মামলা করলেই যে আমি অপরাধী তা তো নয়। আদালত প্রমাণ করবে। বিচার করবে। মামলার সাথে এর কোনো যোগসূত্র নেই।

কাউন্সিলর বাবু আরো বলেন, রোববার আমি রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাজ করছিলাম। এর মধ্যে দৌঁড়ে এসে সে আমার অফিসে ঢুকেছে। তার পেছনে অনেক নারী পুরুষ ছিলো। বারেকের জামা ছেড়া, রক্তাক্ত ছিলো। সে আমার পা জড়িয়ে ধরে বলছিলো ‘আমাকে বাঁচান ওরা মেরে ফেলবে’। পরে আমি ঘটনা সম্পর্কে জানি। এরপর দেখলাম লোকজন তাকে মেরেই ফেলবে। পরে দ্রুত থানা পুলিশে খবর দিয়ে তাকে সোপর্দ করি।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ