সোমবার ১৪ জুন, ২০২১

কাউন্সিলর খোরশেদের বক্তব্যে কুমুদিনীর শ্রমিকদের দ্বিমত

রবিবার, ৯ মে ২০২১, ২১:২৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: উচ্ছেদের ক্ষেত্রে শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য পাওনা দাবি করছে নগরীর খানপুর এলাকার কুমুদিনী বাগানের বাসিন্দারা। তবে স্থানীয় কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলছেন, শ্রমিকরা ঘর ছাড়ার জন্য মালিপক্ষের কাছে ১৫ হাজার দাবি করেছেন। তিনি মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যস্থতা করে ১০ হাজার টাকা চূড়ান্ত করেছেন। এদিকে কাউন্সিলর খোরশেদের এই বক্তব্যের সাথে দ্বিমত প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা। তারা বলছেন, তারা শ্রম আইন অনুযায়ী যা প্রাপ্য তা দাবি করেন। ১৫ হাজার টাকা মালিকপক্ষের কাছে তারা দাবি করেননি।

শ্রমিকরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জে কুমুদিনী ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স এন্ড ক্যান্সার রিসার্চ (কেআইআইএমএস কেয়ার) স্থাপন করা হবে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পের আওতাধীন ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণের জন্য ঈশা খাঁ সড়কের নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের পাশের উত্তর কুমুদিনী বাগানের জায়গা নেওয়া হবে। এজন্য আগামী ৩০ মে এর মধ্যে বাগানের বাসিন্দাদের ঘর ছেড়ে দিতে বলেছে মালিকপক্ষ। সরেজমিনে দেখা যায়, উত্তর কুমুদিনী বাগানের সামনে কেআইআইএমএস কেয়ারের ছাত্রী হোস্টেল নির্মাণের বিষয়টি উল্লেখ করে একটি বড় ব্যানার সাঁটানো হয়েছে। বাগানের ঘরগুলোতে লাল চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকরা জানান, লাল চিহ্ন দেওয়া হয়েছে অন্তত আড়াইশ’ ঘরের সামনে। চিহ্নিত ঘরগুলো ছেড়ে না দিলে উচ্ছেদ করা হবে। শ্রমিকরা ছাড়া কয়েকটি বিহারি পরিবারও থাকে এই বাগানে।

কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) লিমিটেডের পাট কারখানার শ্রমিক ও কুমুদিনী বাগানের বাসিন্দা মো. জুয়েল বলেন, তাদের ঘর ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হয়। এ নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদের কাছে যান তারা। প্রথমে কোনো প্রকার সহযোগিতা করার সুযোগ নেই জানালেও পরে তিনি মালিকপক্ষের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেন। এরপর মালিকপক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রদানের প্রস্তাবের কথা জানান শ্রমিকদের।

শ্রমিক নাসির বলেন, ‘আমাদের লাল ক্রস দেওয়ার পরও আমরা না যাওয়ায় ম্যানেজরা রবীন্দ্র বাবু মালামাল টানার জন্য দুই হাজার টাকা দেওয়ার কথা বললেন। কিন্তু আমরা কোথায় যাম? এইজন্য মুরুব্বিদের নিয়া আমরা কাউন্সিলর খোরশেদ ভাইয়ের কাছে যাই। আমরা আমাদের দুঃখের কথা বলছি। পরে আমাদের সর্দার শুক্কুর আলী ও মন্নান ভাই সবকিছু বুঝিয়ে বলেন। পরে খোরশেদ ভাই মালিকপক্ষের সাথে কথা বইলা ১০ হাজার টাকা দিবো বইলা জানায়। কিন্তু এই টাকায় কী হয়। আমরা আমাদের ন্যায্য চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কোনো শ্রমিক ১৫ হাজার টাকা দাবি করে নাই। এইসব কথা বানোয়াট। কাউন্সিলর সাহেব যেই কথা বলেছেন তা আমাদের মধ্যে কোন শ্রমিক বলেছেন তা তাকে বলতে হবে। যদি কোনো দালাল ১৫ হাজার টাকার দাবি করে থাকে তাহলে তারা কেবল নিজেদের স্বার্থের জন্য এই কাজ করছে। শ্রমিকদের স্বার্থ তারা দেখে না।’

এদিকে শ্রমিকদের সর্দার মন্নান বলেন, ‘সবার সামনেই ১০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হইছে। আমরা তাতে রাজি হই নাই। আর আমরা ১৫ হাজার টাকার কথাও বলি নাই।’

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেছিলেন, ‘কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের বাসস্থান পরিবর্তন সাপেক্ষে মালামাল পরিবহনের জন্য ৩ হাজার টাকা প্রস্তাব করেছিল। শ্রমিকদের দাবি ছিল ১৫ হাজার টাকা। আমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে উভয়পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে দিয়েছি। যারা স্থান ছেড়ে যাবেন তাদের মালামাল পরিবহনের জন্য ১০ হাজার টাকা প্রদান করবে কারখানা কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকরাও এতে রাজি হয়েছে।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ