বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২০

করোনা সুযোগে নারায়ণগঞ্জে ক্রেতার পকেট কাটছে সুপার শপ স্বপ্ন

মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২০, ২১:৪৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: করোনা ভাইরাসের কারণে কাঁচাবাজারের ভিড় এড়িয়ে চলছেন নারায়ণগঞ্জবাসী। নিকটস্থ সুপারশপগুলোর দিকে ঝুঁকছেন তারা। আর এই সুযোগে নিত্যপণ্যের মাত্রারিক্ত মূল্য রাখছে সুপারশপগুলো। বাজারে যেই বরবটির কেজি প্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শহরের মিশনপাড়ার সুপারশপ স্বপ্নে তার কেজি রাখা হচ্ছে ৮৫ টাকা। প্রতিটি পণ্যেরই বেশি দাম রাখছেন তারা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

মাছ-মাংস, মসলা বা শাকবজি কিংবা গৃহস্থালির যাবতীয় যেকোন পণ্য কিনতে মানুষ ভিড় করে নিকটস্থ কাঁচা বাজারে। কিন্তু বর্তমানে করোনায় সংক্রমণ রোধে যেখানে জনসমাগম এড়িয়ে চলতে বলা হচ্ছে সেখানে মানুষ বাজারের মত জনবহুল স্থানগুলো এড়িয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বা দ্রব্যাদির জন্য ছুটছে ‘স্বপ্ন’র মত সুপারশপগুলোতে। যেখানে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্ট মূল্যের মধ্যেই সাধারণ মানুষ পাচ্ছেন তাদের কাঙ্খিত পণ্য বা দ্রব্যটি। কিন্তু সুপার শপগুলো এই সুযোগটি নিয়ে গলা কাটছে সাধারণ মানুষদের। কাঁচা বাজারের তুলানায় বেশি দামে তো বিক্রি করছেই পাশাপাশি কিছু কিছু পণ্য দ্বিগুণেরও অধিক দামে বিক্রি করছে সুপারশপ ‘স্বপ্ন’। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে নগরীর দিগুবাবুর বাজার ও মিশনপাড়া মোড়ে অবস্থিত সুপার শপ ‘স্বপ্ন’তে ঘুরে দেখা গেছে এই চিত্র।

দিগুবাবুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, শসা কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা, গাজর ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি, বেগুন (লম্বা) কেজি প্রতি ২০ থেকে ২৫ টাকা, আলু কেজি প্রতি ২৫ টাকা ও পেঁয়াজ ৪৫ টাকা কেজি, টমেটো কেজি প্রতি ২০ টাকা, ঢেড়স কেজি প্রতি ৪০ টাকা, শিম কেজি প্রতি ৫০ টাকা, মরিচ ৪০ টাকা কেজি, পটল কেজি প্রতি ৩০ টাকা, উচ্ছে কেজি প্রতি ৩০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা কেজি।

একই পণ্য মিশনপাড়া মোড়ে অবস্থিত সুপার শপ ‘স্বপ্ন’তে বিক্রি হচ্ছে। তবে তা মিলছে চড়া দামে। শসা কেজি প্রতি কাঁচাবাজারে ২০ টাকা হলেও স্বপ্নে মিলছে ৪০ টাকায়। স্বপ্ন সুপারশপে গাজর ৪৫ টাকা কেজি যা দিগুবাবুর বাজারে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় মিলছে। এছাড়া স্বপ্নে বেগুন বিক্রি হচ্ছে বেগুন (লম্বা) কেজি প্রতি ৪৫ টাকা, আলু ২০ টাকা কেজি, টমেটো কেজি প্রতি ৪০ টাকা, ঢেড়স ৬৫ টাকা কেজি, শিম কেজিপ্রতি ৬০ টাকা, মরিচ ৬০ টাকা কেজি, পটল কেজি প্রতি ৬৫ টাকা, উচ্ছে কেজিপ্রতি ৬৫ টাকা, বরবটি ৮৫ টাকা কেজি। প্রতিটি পণ্যের মূল্য কাঁচাবাজারের তুলনায় মিলছে প্রায় দ্বিগুন দামে।

কাঁচাবাজারের তুলনায় এখানে দাম বেশি কেন? এমন প্রশ্নে স্বপ্নের এক বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, কাঁচাবাজারের পণ্যের কোয়ালিটির তুলনায় তাদের পণ্যের কোয়ালিটি ভালো।

ওই বিক্রয় প্রতিনিধি বলেন, বাজারে পণ্যের কোয়ালিটি মেইনটেইন করেন না, আমরা সবসময় আমাদের পণ্যের কোয়ালিটি মেইনটেইন করি। যার জন্য তাদের থেকে আমাদের পণ্যের মূল্যের সাথে কাঁচাবাজারের বিক্রিত পণ্যের দামের তারতম্য থাকে।

তবে ক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে সুপারশপগুলো। নিরুপায় ক্রেতারা এই দোকানগুলোর উপরই নির্ভর করছেন।

সামিয়া হক নামে এক ক্রেতা বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বাজারে মানুষ তেমন একটা যেতে চায় না। তাই এসব সুপারশপে আসে। কিন্তু তারা তো রীতিমতো গলা কাঁটছেন। যেই বরবটি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ৪০ টাকায়, তাই তারা বিক্রি করছেন ৮৫ টাকায়। এই কাজের কোনো মানে হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলার অফিস সহকারী তাহমিনা আক্তার বলেন, বাজারগুলো থেকে সুপারশপে মূল্যের কিছুটা তারতম্য থাকে। জিজ্ঞেস করলে তারা তাদের ভ্যাট-ট্যাক্সের অজুহাত দেন। তবে এই বিষয়টি আমরা খোঁজ নিয়ে দেখবো। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হবে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ