বুধবার ০১ এপ্রিল, ২০২০

করোনা সচেতনতায় দ্বারে দ্বারে ছুটছেন না.গঞ্জ ইয়ুথ ক্লাব কর্মীরা

সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২০, ২০:৫৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: করোনা ভাইরাস বিস্তাররোধে জনসচেতনা সৃষ্টির পাশাপাশি হ্যান্ড স্যানিটারিজ বিতরণ করতে দিনভর মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন সামাজিক সংগঠন নারায়ণগঞ্জ ইয়ুথ ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরা। নারায়ণগঞ্জ নগরীর বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি ব্যাংক, মোবাইল কোম্পানির শো-রুম ও বিপনিকেন্দ্রগুলোর দোকানে দোকানে ঘুরে নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করা জীবানুনাশক হ্যান্ড স্যানিটারিজ তুলে দিচ্ছেন তারা।

রবি ও সোমবার টানা দুইদিন শহরের টারবাজার এলাকার ব্যাংকপাড়া ও বঙ্গবন্ধু রোডের চাষাঢ়া থেকে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত শতাধিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের প্রায় দেড় হাজার হ্যান্ড স্যানিটারিজ বিতরণের মাধ্যমে এই সেবা প্রদান করে সংগঠনটি।

নারায়ণগঞ্জ ইয়ুথ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাহলিল জিবরান জানান, টানা দুই সপ্তাহব্যাপী পনের হাজার হ্যান্ড স্যানিটারিজ বিতরণের লক্ষ্য নিয়ে গত ১৬ মার্চ তাদের করোনা সেবা কার্যক্রম শুরু হয়। ডব্লিউএইচও বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিদ্যানন্দ নামে একটি এনজিও সংস্থার সহায়তায় চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নিজেরাই তৈরি করছেন এই হ্যান্ড স্যানিটাইজার। সংগঠনের ফান্ড ও সদস্যদের ব্যক্তিগত অর্থায়নে প্রতিদিন ৫০ মিলি লিটারের এক হাজার বোতল তারা উৎপাদন করছেন।

কাহলিল জিবরান আরো জানান, টানা চারদিন তারা উৎপাদন করে মজুদ করেন এবং গত তিনদিনে প্রায় তিনহাজার বোতল হ্যান্ড স্যানিটারিজ ব্যাংকসহ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করে ফেলেছেন। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে তারা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। বিতরণকৃত সামগ্রী ব্যবহারের পর শেষ হয়ে গেলে পুনরায় তাদের নিজ উদ্যোগে পৌঁছে দেয়া হবে। আগামীকাল থেকে সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া মহল্লায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে এবং পথচারীদের মধ্যে আরো বারো হাজার হ্যান্ড স্যানিটারিজ তারা বিতরণ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ছাড়া কোন ব্যবসায়ী তাদের এই সেবামূলক কাজে স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করতে আগ্রহী হলে সাদরে গ্রহণ করা হবে। তবে কোন রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিদের অনুদান তারা গ্রহণ করবেন না বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

সংগঠনটির সভাপতি ইব্রাহীম আদহাম খান বলেন, সরকার যেহেতু এখনো আমাদের দেশ লক ডাউন করেনি, তাই সে অবস্থার আগ পর্যন্ত আমরা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন করার কাজটি করে যাবো। হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাউথ মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভসসহ জীবানু প্রতিরোধ সামগ্রীর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য অধিক হারে বৃদ্ধি করায় সাধারণ মানুষের কাছে দূর্লভ বস্তুতে পরিনত হয়েছে। ফার্মেসীগুলোতেও সচরাচর এসব সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সাধারণ মানুষের চাহিদা মেটাতে আমরা নিজেরাই হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন শুরু করেছি। নিজের তৈরি এসব হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণের পাশাপাশি মানুষকে করোনার ব্যাপারে আমরা সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের দিক নির্দেশনাগুলো সম্পর্কে অবহিত ও সচেতন করছি।

সব খবর
সংগঠন সংবাদ বিভাগের সর্বশেষ