বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২০

করোনা মোকাবেলায় উজ্জ্বল নারী কাউন্সিলর বিভা

বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২০, ১৭:৫১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জে দ্রুতগতিতে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। জেলার করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নারায়ণগঞ্জকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা করেছে আইইডিসিআর। অন্যদিকে সংক্রমণ রোধে পুরো জেলা লকডাউন করেছে প্রশাসন। প্রশাসনের পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। কাউন্সিলর, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বারা সকলে। এমন সংকটাপন্ন সময়ে পিছিয়ে নেই নারী প্রতিনিধিরা। পুরুষদের সঙ্গে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করছেন নারী জনপ্রতিনিধিরাও। তবে আলাদা ভাবে নারায়ণগঞ্জবাসীর নজর কেড়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা।

বাংলাদেশে প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী পাবার পর থেকেই মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন এই জনপ্রতিনিধি। করোনা বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি, এলাকাবাসীকে সুরক্ষিত রাখা, হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা এলাকাবাসীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা, ওয়ার্ডে কারো মৃত্যু হলে মেডিকেল টীম নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া, লকডাউন করা, লকডাউনে থাকা মানুষদের সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী সরবারহ করা, মৃতের দাফনের ব্যবস্থা করাসহ করোনা মোকাবেলায় সকল ধরণের কাজ করে যাচ্ছেন এই নারী।

জানা যায়, দেশের প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করার পর থেকে কাজ করছেন নাসিক প্যানেল মেয়র আফসানা আফরোজ বিভা হাসান। প্রাথমিকভাবে সিটি কর্পোরেশনের তত্বাবধানে লিফরেট বিতরণ, করোনা বিষয়ে প্রচারণা, সচেতনতা মূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন তিনি। নাসিক ১৬, ১৭, ১৭ নং ওয়ার্ডবাসীদের করোনা প্রতিরোধে সাবান, স্যানিটাইজার ও মাস্ক ব্যবহারে উৎসাহিত করেছেন তিনি। মার্চ মাসে নিজ উদ্যোগে তিন ওয়ার্ডের ৬০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণও করেন এই নারী জনপ্রতিনিধি।

এপ্রিল মাসে প্যানেল মেয়র বিভা হাসান তার নির্বাচনী তিন ওয়ার্ডে ২০ থেকে ২৫ জন স্বেচ্ছাসেবী তরুণদের একটি দল গঠন করেন। যাদের সমন্বয়ে বিভা হাসান উক্ত তিন ওয়ার্ডের সকল খবরাখবর সংগ্রহ করেন এবং ওয়ার্ডবাসীদের সাহায্যে এগিয়ে যান। উক্ত তরুণ স্বেচ্ছাসেবী দলের সহযোগিতায় তিনি এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে ২০০ এবং পরবর্তীতে আরো ২০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।

এমন সময় তার ওয়ার্ডে বেশ কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সবগুলোর ক্ষেত্রেই মৃত ব্যক্তি করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যায। এলাকাবাসী জানায়, ওই সময় বিভা হাসান পুলিশের সহযোগিতায় মৃতের দাফনের ব্যবস্থা করেন এবং প্রশাসনের সমন্বয়ে মৃতের পরিবারকে কোয়ারেন্টিন এবং প্রয়োজনে বাড়ি লকডাউন করেন। তবে শুধু লকডাউনই করেননি তিনি। লকডাউনের পর লকডাউনে থাকা পরিবারের মাঝে সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। উক্ত ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবী তরুণদের সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৮ এপ্রিল) বিভা হাসান সরকারি ও নিজ উদ্যোগে ৪০০ পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।

নাসিক প্যানেল মেয়র বিভা হাসান বলেন, ‘প্রথম করোনা আক্রান্ত শনাক্তের পর থেকেই আমি কাজ করে আসছি। নারী হিসেবে আমার কিছু প্রতিবন্ধকতা আছে তবে আমার কাছে আমার ওয়ার্ডবাসী প্রথমে। তাই চেষ্টা করেছি সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এই সংকটময় সময়ে আমার ওয়ার্ডবাসীর পাশে থাকতে।’

ওয়ার্ডে ত্রাণ ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সরকারি ত্রাণ আসার আগে থেকেই আমি নিজ উদ্যোগে আমার তিন ওয়ার্ডে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ শুরু করি। পরবর্তীতে সরকারি ত্রাণ আসলেও তা পর্যান্ত ছিল না। দেখা গেছে সরকারি ত্রাণে শুধু চাল এসেছে, কখনো চাল, ডাল এসেছে। কিন্তু শুধু চাল, ডালে তো আমার মানুষের খাওয়া হবে না। তাই নিজ উদ্যোগে চাল, ডালের সঙ্গে আটা, আলু, পেয়াজ, তেল, লবণ দিয়েছি। আবার দেখা গেছে ত্রাণ এসেছে ১০ জনের জন্য কিন্তু ওয়ার্ডে ত্রাণের প্রয়োজন ১০০ পরিবারের। তখন আমি আমার নিজ উদ্যোগে ১০ জনের সঙ্গে আরো ৯০ জনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছি।’

বিভা হাসান আরো বলেন, ‘আমি সব সময় আমার ওয়ার্ডবাসীর সঙ্গে থাকার চেষ্টা করেছি। হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা সকলের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করেছি। তাদের সকলের নাম্বার আমার কাছে আছে এবং আমার নাম্বারও তাদের কাছে আছে। যে কোনো প্রয়োজনে তারা আমাকে ফোন করছেন, জানাচ্ছেন। আমি না যেতে পারলেও আমার তরুণ স্বেচ্ছাসেবী দলের সদস্যরা সেখানে যাচ্ছে। তাদের সহযোগিতা করছে। গত দুদিন যাবৎ আমার ছেলে অসুস্থ। তবুও তাকে বাসায় রেখে আমি আমার ওয়ার্ডবাসির জন্য কাজ করছি। হ্যা কষ্ট হয়, তবে আমার স্বামী আমাকে অনেক সাহায্য করছেন এবং ওয়ার্ডবাসীর জন্য কাজ করতে উৎসাহ দিচ্ছেন। তাই আমি আমার ওয়ার্ডবাসীর জন্য আমার সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ