মঙ্গলবার ০৭ এপ্রিল, ২০২০

করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়েও নারায়ণগঞ্জের সংবাদকর্মীরা মাঠে

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২০, ১৮:২৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বাংলাদেশে প্রথম তিনজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর দুইজনই ছিলেন নারায়ণগঞ্জের। মার্চ মাসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিদেশ ফেরতের সংখ্যা ৫৯৬৮ জন। কোয়ারেন্টাইনে আছেন ১৮৬ জন। একজন আক্রান্ত রোগী এখনও ঢাকার হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সকল গণপরিবহন বন্ধ ঘোষণা করে শহরে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে করোনা ভাইরাসের এমন পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়েও পেশাগত দায়বদ্ধতা থেকেই মাঠে রয়েছেন সংবাদকর্মীরা। সাধারণ মানুষের কাছে করোনা ভাইরাসের সর্বশেষ খবরটি পৌছে দিতে প্রতিনিয়ত ছুটে বেড়াচ্ছেন তারা।

নারায়ণগঞ্জ জেলায় টেলিভিশন, প্রিন্ট, অনলাইন মাধ্যমে নিয়মিত কাজ করছেন কয়েকশ’ সংবাদকর্মী। জেলার ৫ উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় সংবাদকর্মীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ সংবাদকর্মীরা দেশের সার্বিক অবস্থা, বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমান আদালতের সংবাদ সংগ্রহের বিভিন্ন কাজে বাড়ির বাইরে থাকছেন। কোনো রকম ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ (পিপিই) ছাড়াই নিয়মিত পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তারা। এমতাবস্থায় নোভেল করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন সংবাদকর্মীরা।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাড. মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, ‘সাংবাদিকতা এমন একটি পেশা যেখানে সংবাদকর্মীদের মৃত্যু ঝুঁকি থাকেই। ঝুঁকির মাঝেই তাদের কাজ করতে হয় এবং মাঠে থাকতে হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সংবাদকর্মীদের সুরক্ষা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ বিষয়ে আমি আজ জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলবো। তারা তাদের কর্মকর্তাদের সুরক্ষায় পিপিই কিট দিয়েছে। আমাদের সংবাদকর্মীদের জন্য কি করা যায়। এছাড়া সরকারের কাছে আহ্বান জানাবো সারাদেশের সাংবাদিকের সুরক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানিকভাবে লোকাল যে পত্রিকাগুলো আছে তারা নিজেরাই আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল। ফলে তাদের পক্ষে পিপিই জাতীয় সুরক্ষা কিট দেয়া সম্ভব নয়। তাই আমি সকল সংবাদকর্মীদের আহ্বান জানাবো নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত করে কাজ করতে।’

নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজ বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে সংবাদ মাধ্যমগুলোতে কর্মস্থলে কাজ কমিয়ে আনা হয়েছে কিন্তু জেলা পর্যায়ে যারা কাজ করে তাদের ক্ষেত্রে এটা সম্ভব না। কেননা জেলা পর্যায়ে একজনই থাকেন। সে যদি মাঠে না আসে তাহলে তার কাজ হবে না। এছাড়া জাতির প্রতি মানুষের প্রতি সংবাদকর্মীদের কিছু দায়বদ্ধতা আছে। সে দায়বদ্ধতা থেকেও আমাদের কাজ করতে হবে। তবে আমাদের সুরক্ষায় আমাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আমি আস্থাবান নই। কেননা, এ পেশায় হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানই আমাদের বেতন দেয়, বাকিরা দেয়ই না। এমন অবস্থায় তাদের কাছে পিপিই বা ব্যক্তিগত ইকুপমেন্ট আমি আশা করি না।’

নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আমীর হুসাইন স্মিথ বলেন, ‘সাংবাদিকতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। সারাদেশের মানুষ যখন ঘরে থাকে তখন সাংবাদিকরা মানুষের কাছে খবর পৌছে দিতে মাঠে কাজ করে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। যেহেতু একটি রোগের সাথে সারা পৃথিবী যুদ্ধ করছে এবং সে যুদ্ধে সাংবাদিকরাও রয়েছে। তবে এটাও সঠিক যে, মাঠে কাজ করার সময় করোনা প্রতিরোধে যে ধরনের ইকুইপমেন্টের সংবাদিকদের প্রয়োজন তা তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান সরবরাহ করছে না। সরকারি-বেসরকারিভাবেও সাংবাদিকদের পিপিই ইকুইপমেন্ট সরবরাহ করা হয়নি। ফলে তারা ঝুঁকি নিয়েই তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। তাই আমরা সরকারের কাছে এবং স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের কাছে দাবি জানাবো সাংবাদিকদের পিপিই দেয়া হোক। যাতে তারা সুরক্ষিত থেকে নিজেদের কাজ করতে পারে।’

সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘নিজের সুরক্ষা প্রথমে। নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে এবং নিজেকে ঝুঁকিমুক্ত রেখে ঘরের ভিতরে থেকে বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ সংগ্রহ এবং যাচাই করে পরিবেশন করুন। ঝুঁকি নিয়ে কোনো জনসমাগম এলাকায় গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করবেন না। কারণ জীবন আগে। জীবন থাকলে জীবিকা হবে।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ