বৃহস্পতিবার ০৪ জুন, ২০২০

করোনায় ৫ জনের মৃত্যু, ভয়াবহ ঝুঁকিতে নারায়ণগঞ্জ

সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২০, ২২:৪৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: রাজধানী ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলায়। পুরো দেশে করোনা আক্রান্ত ১২৩ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ১২ জন। সারাদেশে করোনায় মৃত ১২ জনের মধ্যে নারায়ণগঞ্জেই মারা গেছেন ৫ জন। মারা যাওয়া লোকের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এলাকারই ৪ জন। করোনায় সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে আছে নারায়ণগঞ্জ জেলা। জেলাটিকে করোনার ক্লাস্টার বলছে দেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআর।

৩০ মার্চ প্রথম নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের রসূলবাগ এলাকায় বসবাসরত পুতুল (৫০) নামে এক নারী করোনা আক্রান্ত হয়ে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

জানা যায়, করোনার উপসর্গ নিয়ে ওই নারী প্রথমে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিলে ওই নারী পরিবার তাকে বাড়ি নিয়ে যায় এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ মার্চ তার মৃত্যু হয়। পরে ঐ নারীর নমুনা পরীক্ষা করে তার দেহে করোনা সংক্রমনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

গত ৪ এপ্রিল সকাল ৯টায় রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সদর উপজেলার কাশীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বড় আমবাগান (সুচিন্তানগর) এলাকার বাসিন্দা আবু সাইদ মাতবর (৫৫)।

মৃতের ছেলে মেহেদী হাসান রবিন বলেন, গত দুই দিন যাবৎ আব্বুর শ্বাসকষ্ট ও কাশি ছিল। প্রথমে তাকে ঢাকার মিডফোর্ডে নিয়ে গেলে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখান থেকে কুর্মিটোলা নিয়ে যাবার কথা বলে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করি। শনিবার সকাল ৯টায় বাবা মারা যান। পরে আইইডিসিআর থেকে লোকজন এসে পরীক্ষা করে করোনার কথা জানায়।
৪ এপ্রিল রাতে মারা যান দেওভোগ আখড়া মোড় এলাকার বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন ঘোষ (৫৮)। চিত্ত ঘোষ শনিবার রাত ১০টায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

চিত্ত ঘোষের ভাতিজা সঞ্জয় ঘোষ জানান, গত ২৭ মার্চ থেকে জ্বর, কাশি ছিল তার চাচার। পরে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। শুক্রবার সারাদিন নারায়ণগঞ্জ ও রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ঘোরাঘুরি করলেও কোনো হাসপাতালেই তাকে ভর্তি নিতে রাজি হয়নি। উপায় না দেখে রাতে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। করোনা উপসর্গ থাকায় পরদিন সকালে তার নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআর। শনিবার রাত ১০টায় চিত্ত ঘোষ মারা যান। নমুনা পরীক্ষায় তার শরীরে করোনা পজেটিভ আসে।

গত ৫ এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হয়ে জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোড এলাকার বাসিন্দা গিয়াসউদ্দিন (৬০) রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

গিয়াসউদ্দিনের পরিবারের বরাতে নাসিক ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বলেন, গত ৪ এপ্রিল অসুস্থবোধ করায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৫ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে তিনি মারা যান।

৬ এপ্রিল দুপুর সোয়া ১টায় রাজধানীর কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ফারুক আহমেদ (৫৫)। ফারুক আহমেদ নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা এলাকায় বসবাস করতেন। জানা যায়, কিছুদিন পূর্বে করোনা উপসর্গ দেখা দেয় তার। পরে শুক্রবার তাকে রাজধানীর কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা পজেটিভ এসেছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, এ পর্যন্ত ২৩ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে শিশু ও নারীও রয়েছেন। জেলার বেশ কয়েকটি স্থান লকডাউন করা হয়েছে। করোনা সংক্রমন রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। জিরো টলারেন্স নীতিতে মানুষকে বাড়িতে রাখার জন্য কাজ করছেন তারা।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ