বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২০

করোনা ভাইরাসের রেড জোন নারায়ণগঞ্জ

সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২০, ১৬:৩৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ জেলাকে করোনা সংক্রমনপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বলে চিহ্নিত করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এদিকে আইইডিসিআর প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। করোনা সংক্রমন রোধে প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থানে আছে। মানুষকে ঘরে রাখার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বনে রয়েছে প্রশাসন।

গত ৮ মার্চ যখন দেশে প্রথম তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হন। সেই সময়ে আক্রান্ত দুইজনই ছিলেন নারায়ণগঞ্জের। একে একে এই সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখন পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২৩ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৪ জন। গণামাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, আরও কয়েকজন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন যাদের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। গত তিনদিনেই প্রায় অর্ধশতাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। চব্বিশ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন ১২ জন। করোনায় নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে বলে অভিমত অনেকের। নারায়ণগঞ্জের এই পরিস্থিতিতে জেলাটিকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত করেছে আইইডিসিআর।

এমন পরিস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি এলাকায় লকডাউন কিংবা কারফিউ জারির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। এক ভিডিও বার্তায় লকডাউনের দাবি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। একের পর এক করোনা পজেটিভ কেস আসছে। যেকোন মুহুর্তেই জেলাটিতে লকডাউনের ঘোষণা আসতে পারে।

নারায়ণগঞ্জে লকডাউনের ঘোষণাটি এসেছে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ থেকে। পুরো জেলায় লকডাউনের দাবি জানিয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাড. মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, নারায়ণগঞ্জের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় লকডাউন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কেননা করোনা দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে। করোনার নমুনা পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জে পরীক্ষাগার স্থাপনের দাবিও তুলেছেন তিনি।

এদিকে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসনও। গতকাল ৫ এপ্রিল রাত ৯টার দিকে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আজ সকাল থেকে জিরো টলারেন্স ভূমিকায় থাকবে প্রশাসন। বিনা প্রয়োজনে ঘরের বাইরে কাউকে বের হতে দেয়া হবে না। বের হলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেল, জরিমানা প্রয়োজনে পিটুনির হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। মানুষকে বাড়িতে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ পর্যন্ত যাবে বলে প্রশাসন থেকে মাইকিং করা হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল থেকে অভিযান আরও জোরদার করে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় জেলা প্রশাসন মানুষকে ঘরে রাখার জন্য কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্যকারী কাউকে নূন্যতম ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ