শুক্রবার ২৯ মে, ২০২০

করোনায় আক্রান্ত ১৮ সদস্যের পরিবারকে নাজেহাল করার অভিযোগ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২০, ২২:২১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পরিবারের ১৮ সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আক্রান্ত ওই পরিবারকে নাজেহাল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইট-পাটকেল ছোড়ার অভিযোগও পাওয়া যায়। এমনকি তাদের চিকিৎসায় কাজে আসা এ্যাম্বুলেন্স প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সদর উপজেলা ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দেলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শিল্পী আক্তারের বাবা-মায়ের যৌথ পরিবারের ১৮ জন সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছে। তারা ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের দেলপাড়া এলাকায় বাসিন্দা। মঙ্গলবার তাদের ১৮ জনের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর সর্বত্র ছড়িয়ে পরে। সকালে ওই পরিবারের সদস্যদের বহনকারী একটি এম্বুলেন্স এলাকায় প্রবেশ করতে গেলে এতে বাধা দেয় এলাকাবাসী। পরে সন্ধ্যায় কিছু এলাকাবাসী ভুক্তভোগী ওই পরিবারের উপর চড়াও হয়। তাদের মধ্য বাকবিতন্ডা হয়। এ সময় ভুক্তভোগীদের বাড়িতে ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনাও ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে বলেন, `সন্ধ্যায় কিছু এলাকাবাসী আমাদের বাড়িতে আসে। এ সময় তারা আমাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে। এ সময় তারা হৈচৈ করে এবং বাড়িতে ঢিল ছুড়ে।`

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে যান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক। এ সময় তিনি এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, `এই মহামারি আপনাদের জন্য শুধুমাত্র ডা. শিল্পী কাজ করছে। ৩শ` শয্যা হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা করছে কিন্তু আপনাদের ভিতর মানবিকতা বলতে কিছু নেই। আজকে এই পরিবারের ১৮ জন সদস্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সেই খবর পেয়ে আপনারা তাদের সরিয়ে দিতে বলছেন। সকালে তাদের এম্বুলেন্স ডুকতে দেননি। আজ যদি আপনাদের পরিবার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতো তাহলে এই ডা. শিল্পী এগিয়ে আসতো। এই পরিবারের দায়িত্ব আমি নিচ্ছি সিভিল সার্জন এর সাথে আমার কথা হয়েছে। আর আপনাদের বার বার বলছি আপনারা বাসা থেকে বের হবেন না। আপনার পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আপনারা বাসা থেকে বের হবেন না।`

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, `করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সবাই ভীত। এই ভীতি থেকেই এলাকাবাসী একটু বিচলিত হয়ে পরে এবং তাদের মধ্য বাকবিতন্ডা হয়। তবে ইট-পাটকেল ছোড়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।`

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ