বৃহস্পতিবার ২৪ অক্টোবর, ২০১৯

সোনারগাঁয়ে কমিটি দিতে গিয়ে বাধায় জেলা আ.লীগ সভাপতি-সেক্রেটারি

শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২:৩৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন কমিটি দিতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল। পদবঞ্চিত বিদ্রোহী নেতাকর্মীদের রোষের মুখে পড়ে নির্দিষ্ট স্থানে সভা করতে না পেরে এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে সভা করতে গেলে সেখানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সোনারগাঁয়ের জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে তাদের কর্মসূচি পালন করে আসছে। সম্প্রতি সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি আহবায়ক কমিটি গঠন নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল কায়সার, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক এএইচএম মাসুদ দুলাল ও ডা. সেলিনা আক্তার আওয়ামী লীগের একটি অংশের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।

সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়া, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বীরু ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম অপর অংশের নেতৃত্ব দেন। সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি ঘোষণার পরই একপক্ষ অপর পক্ষকে প্রতিহতের ঘোষণা দেন।

সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে জামপুর ইউনিয়নের উটমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুক্রবার বিকাল ৩টায় এক বর্ধিত সভার আয়োজন করে। অপরদিকে জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে একই বিদ্যালয়ে সম্মেলনের প্রস্ততি সভার আয়োজন করে। একই স্থানে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ সভা ডাকায় উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা মারমুখী অবস্থানে চলে যায়। ফলে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন উভয় পক্ষের সভা বন্ধ করে দেন। এ সভাকে ঘিরে সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ লাঠিসোটা নিয়ে দিনভর অবস্থান নিয়ে বস্তুল এলাকায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভায় যাওয়ার পথে নেতাকর্মীদের উপর হামলা করে।

হামলায় বন্দর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের আহবায়ক হাবিবুর রহমান, জেলা প্রজন্মলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা, আওয়ামী লীগ নেতা বশির মিয়াসহ ৫ জন আহত হয়। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পরে স্থান পাল্টে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরুর বাড়িতে পুলিশ পাহাড়ায় প্রধান ফটক বন্ধ করে ঘরোয়া সম্মেলন করেন। সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতা হাজী শাহজাহান খাঁনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসপাত শহীদ বাদল, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান বাচ্চু, যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, নারায়ণগঞ্জ ব্যাংক ফেডারেশনের সভাপতি এম কাদির, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়া প্রমুখ।

এ সময় সামসুদ্দিন খান আবুকে আহবায়ক ও হাজী শাহজাহান খাঁনকে যুগ্ম-আহবায়ক করে কমিটি ২২ সদস্য বিশিষ্ট জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়।

এদিকে ওটমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার স্টেজ, ব্যানার ফেস্টুন ভাঙচুর করে যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল।

আব্দুল হাই বলেন, নিয়ম মেনেই সোনারগাঁয়ে আহবায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সোনারগাঁয়ের সকল ইউনিয়নে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হবে। সম্মেলনে আসা নেতাকর্মীদের উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোনারগাঁ যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু বলেন, সপ্তাহ খানেক আগে জামপুর যুবলীগের পক্ষ থেকে উটমা স্কুলে বর্ধিত সভা করার জন্য প্রাশাসনকে জানানো হয়েছে। আমাদের সভা করার কথা শুনে আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ আমাদের সভা স্থানে সম্মেলন করার উদ্যোগ নেয়।

সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূইয়া জানান, জামপুর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের জন্য উটমা স্কুলে স্টেজ ও ব্যানার লাগানো হয়। যুবলীগ এ সম্মেলন বানচাল করার জন্য সভা ডাকে। তবে আমরা সংষর্ষ এড়ানোর জন্য সভাস্থল ত্যাগ করে ডা. বীরুর বাসায় সভা করেছি।

সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, উটমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভা করার জন্য আওয়ামী লীগ কিংবা যুবলীগ কেউ অনুমতি নেয়নি। তবে দু’পক্ষকেই সহনশীল হয়ে একই স্থানে সভা না করে আলাদা আলাদা স্থানে সভা করার জন্য বলা হয়েছে। সংঘর্ষের আশঙ্কায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনের নেতারা স্থান ত্যাগ করে অন্য স্থানে ঘরোয়া সম্মেলন করেছেন।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সরকার বলেন, দু’পক্ষের সংঘর্ষ এড়াতে উভয় পক্ষের সভা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ