শুক্রবার ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

এবার ভেন্যু নিয়ে বিতর্ক, বিএনপির তোপের মুখে নির্বাচন কমিশনার

সোমবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ২৩:০৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের শুরু থেকেই বিতর্ক চলছে নির্বাচন নিয়ে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সিনিয়র আইনজীবী এড. আখতার হোসেনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের বিরোধীতা করে আসছিল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশ। পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও বারের চারবারের সভাপতি এড. আনিসুর রহমান দিপু আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্যানেল নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এই প্যানেল পরবর্তীতে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন বহাল রেখেছিল বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তবে এবার এই কমিশন নিয়ে শুরু হয়ে নতুন বিতর্ক। নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ভেন্যু পরিবর্তন করায় বিএনপির আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এড. আখতার হোসেন।

সোমবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে নির্মাণাধীন বার ভবনের নিচতলার পরিবর্তে ভোটগ্রহণের ভেন্যু হিসেবে জজ আদালতের তৃতীয় তলা নির্ধারণ করা হলে বিরোধীতা করে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা। এ নিয়ে আদালত প্রাঙ্গণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আখতার হোসেনকে জবাবদিহিতা করে বিএনপির প্রার্থীরা। এক পর্যায়ে বিএনপি প্রার্থীদের তোপের মুখে পড়েন যান আখতার হোসেন।

এ বিষয়ে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এড. সরকার হুমায়ূন কবির বলেন, আগামী ২৯ তারিখ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের ভেন্যু হিসেবে নির্মাণাধীন বার ভবনের নিচতলাকে নির্ধারণ করা হয়েছিল। গত এজিএমেই এই বিষয়টি পাশ হয়েছে। কিন্তু আজকে জানতে পারলাম নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে নির্বাচনের ভেন্যু পরিবর্তন করা হয়েছে। আসলে এটা নিরাপত্তার বিষয় নয়, তারা আসলে বদ্ধ ঘরে ভোট টেম্পারিং করতে চান। যেটা গতবারও করেছিলেন। আমরা এর বিরোধীতা করছি। আমরা এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আখতার সাহেবের কাছে জানতে চেয়েছি। তিনি জানিয়েছেন, তিনিও বার ভবনের নিচতলায় নির্বাচনের আয়োজন করতে চেয়েছিলেন কিন্তু কমিশনে থাকা আওয়ামী লীগের আজ্ঞাবহ অন্যরা এর বিরোধীতা করেছেন। আমরা এই ভেন্যু মানি না। শুরু থেকেই কমিশনের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ছিল। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতারাও এর বিরোধীতা করেছেন। কিন্তু একের পর স্বেচ্ছাচারিতা করে যাচ্ছে সরকারি দল। এভাবে একটি নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। ২৯ তারিখের নির্বাচন কখনই সুষ্ঠু হবে না। এদিকে এই বিষয়ে আগামী মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করবেন বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আখতার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে এক কথায় তিনি বলেন, আমি নিরুপায়। তিনি আরও বলেন, আমাকে না জানিয়েই কমিশনে রাখা হয়েছে। তারপর ভেন্যু হিসেবে বার ভবনের নিচতলা নির্ধারণ করা হয়েছে কিন্তু এখন কমিশনের অন্যরা তা চাচ্ছেন না। এ নিয়ে জজ সাহেবের সাথেও কথা বলেছি। আমি আমার কথায় ঠিক আছি। আমার কথা কোন নড়চড় নাই। কিন্তু আমি একা কী করবো বলেন? আমি কমিশন থেকে সরে যেতে চেয়েছি। আমি তলবি সভা ডাকার কথাও বলেছি। কিন্তু তারা সরে যেতেও দেবে না। আমার কিছু করার নাই। আমাকে পদত্যাগ করতেও দেয় না, কাজও করতে দেয় না।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ