শুক্রবার ০৫ জুন, ২০২০

এবার নারায়ণগঞ্জেই ঈদ করবে কয়েক লাখ শ্রমিক

রবিবার, ১৭ মে ২০২০, ১৯:৩৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: রমজানের ঈদকে সামনে রেখে করোনা দুর্যোগের মধ্যেই নারায়ণগঞ্জে পাঁচ শতাধিক কারখানায় কাজ করছে কয়েক লাখ শ্রমিক। তবে এবারের ঈদে নাড়ির টানে গ্রামে ফেরার বিষয়টি তেমন থাকছে না। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারনে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা, গণপরিবহন বন্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটের কারনে অধিকাংশ শ্রমিকই এবার ঈদ উদযাপন করবেন শহরেই। কেউ শহর ছাড়তে যাতে না পারে সে বিষয়ে সড়ক ও নৌপথে কড়া নজরদারি রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ফতুল্লার সাইনবোর্ড, সোনারগাঁয়ের মোগড়াপাড়া, রূপগঞ্জের মুড়াপাড়া, ভুলতা, ৩শ’ ফিটসহ জেলার প্রবেশ ও বাহিরের পয়েন্টগুলোতে তল্লাশি চৌকি রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনার প্রভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অধিকাংশ কারখানা চাঁদ রাত পর্যন্ত খোলা থাকবে। অনেক গার্মেন্ট মালিক ঈদের দিনও তাদের কারখানা খোলা রাখার চিন্তাভাবনা করছেন। একদিকে কারখানা খোলা অন্যদিকে অর্থনৈতিক সংকট থাকার কারনে অধিকাংশ শ্রমিকই এবার গ্রামে যেতে পারবেন না। তাছাড়া গণপরিবহন বন্ধ ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা তো রয়েছেই।

শিল্প পুলিশ-৪ নারায়ণগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন জানান, আদমজীর ইপিজেড ঈদের কয়েকদিন আগেই বন্ধ হয়ে যাবে। তবে কাজ থাকলে ঈদের দিনও কারখানা খোলা রাখার কথা জানিয়েছেন অনেক কারখানা মালিক।

নিট পোশাক ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সহসভাপতি মোরশেদ সরোয়ার সোহেল বলেন, কারখানা বন্ধের জন্য বিকেএমইএ থেকে আলাদা নির্দেশনা নেই। যার যার সুবিধামতো কারখানা খোলা রাখবে। অনেক কারখানা চাঁদরাত পর্যন্ত খোলা থাকবে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকাতে এবার গ্রামে যাওয়ার বিষয়টি নেই। আমরাও গ্রামে যাওয়ার বিষয়টিতে তাদের নিরুৎসাহিত করছি।

গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক অঞ্জন দাস বলেন, নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ পোশাক শ্রমিকই উত্তরাঞ্চলের কিংবা দক্ষিনাঞ্চলের। গণপরিবহন বন্ধ থাকাতে এবার তাদের গ্রামে ফেরার বিষয়টি থাকছে না। তাছাড়া সরকারি নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।

জেলা গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি এমএ শাহীন বলেন, সচেতন অনেক শ্রমিকই গ্রামে না যাওয়ার পক্ষে। তাছাড়া বেতন-বোনাসও পরিশোধের বিষয়টি নিয়েও সংশয় রয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট থাকায় অনেক শ্রমিকই গ্রামে যেতে নিরুৎসাহিত।

করোনার সংক্রমন রোধে ঈদকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে জেলা ছাড়তে না পারেন সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম। তিনি বলেন, জেলার প্রবেশ ও বাহিরের যে পয়েন্টগুলো রয়েছে সেখানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। ঈদের পাঁচদিন পূর্বে চেকপোস্টের তল্লাশী আরও জোরদার করা হবে। সড়ক ও নৌপথে পুলিশের নিয়মিত টহল রয়েছে।

 

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ