শনিবার ১৭ আগস্ট, ২০১৯

এদের ঠাঁই কোথায়?

বুধবার, ১২ জুন ২০১৯, ২০:৪৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

আফসানা আক্তার (প্রেস নারায়ণগঞ্জ): নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল প্রাঙ্গন। মূল ফটক পেরিয়ে জরুরী বিভাগে যেতেই রাস্তার মধ্যে দেখা মিলে বিবস্ত্র একজন প্রবীণকে। সারা শরীরে ধুুলাবালি মাখা। সকাল থেকেই রাস্তায় গড়াগড়ি করছেন। কঙ্কালসার শরীর যেন আর চলে না। খুব কষ্টে একটু-আধটু নড়াচড়া করে। একে একে পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে সবাই। কেউ ফিরে তাকাচ্ছে না বিবস্ত্র এই বৃদ্ধের দিকে। বেঁচে আছে না মারা গেছে দেখার যেন কেউ নেই। সময় গড়াতে থাকে কিন্তু তার পাশে এসে কেউ দাড়ায় না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অজ্ঞাত একজন কিছুদিন আগে বৃদ্ধ লোকটিকে হাসপাতালে রেখে চলে যায়। মানসিক ভারসাম্যহীন এই ব্যক্তিকে হাসপাতালে রাখলেও সে তার জামা-কাপড় খুলে চলে আসে রাস্তায়। বারবার হাসপাতালে নিয়ে গেলেও আবার ফিরে আসে। ফলে বিরক্ত হয়ে এখন আর কেউ তার খোঁজে আসে না।

বেলা ১২টায় ‘স্মাইল’ নামক একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের কয়েকজন সদস্য প্রবীণ ব্যক্তিটিকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে। সংগঠনের সদস্যরা প্রবীণ ব্যক্তিটিকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায়। তাকে গোসল করিয়ে পরিষ্কার পোশাক পড়িয়ে দেয়। এ সময় কথা হয় সংগঠনটির সদস্য কদমরসূল কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আমিনুল রহমানের সঙ্গে।

আমিনুল রহমান বলেন, ‘মানবিক স্থান থেকে আমরা এই ব্যক্তির দেখাশুনা করতে চাই। তার সেবাযতœ ও পরিচর্চা করতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের সেবা এই প্রবীণ ব্যক্তিকে সুস্থ্য করে তুলতে পারে।’

হাসপাতালের চিকিৎসক এবং নার্সদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ রকম ঘটনা প্রায়ই ঘটে। হাসপাতালে রোগী রেখে চলে যায়।

নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের রেজিস্টার ডাক্তার মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় সময় এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হই আমরা। অজ্ঞাত রোগী আসে যাদের কোনো অভিভাবক নেই। আমরা তাদের চিকিৎসা সেবা দেই কিন্তু এর বাইরে কোনো সেবা দেওয়া আমাদের সম্ভব হয় না। ফলে ডাক্তারদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তবে এ সমস্যার একটি সম্ভাব্য সমাধান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আশেপাশে অনেক সেচ্ছাসেবী সংগঠন রয়েছে যারা এই রকম মানুষের সাহায্য করতে আগ্রহী। কিন্তু ডাক্তার ও হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ বা সমন্বয়হীনতার কারণে তা হয়ে উঠে না। এর জন্য একটি এক্সট্রা মেডিকেল সার্ভিস খোলা হলে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। যার মাধ্যমে সেচ্ছাসেবীদের সমন্বয় করে অসহায় রোগীদের পরিচর্চার জন্য কাজে লাগানো যাবে।’

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু জাহের বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় সেবামূলক এইসব কাজ সম্ভব। সমাজসেবা কর্মকর্তা চাইলে এই উদ্যোগ নিতে পারেন। আমি এক্ষেত্রে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।’

সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসা কর্মকর্তা নাহিন সুলতানা বলেন, ‘আমরা সংগঠনটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের সাহায্য করছি। ওই ব্যক্তির চিকিৎসা খরচ এবং পুনর্বাসনে জন্যও আমরা কাজ করছি।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ