বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই, ২০২০

এখন চলছে সাগর ও মহাসাগর চুরি: বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তৈমুর

শনিবার, ১৩ জুন ২০২০, ১৮:৪৩

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

তৈমুর আলম খন্দকার (প্রেস নারায়ণগঞ্জ): জনগণের লাভের গুড় এখন পিপড়ায় খায়। ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট সংসদে পেশ করা হলো। বিশিষ্টদের মতে এ প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন জনগণের উপর অর্পিত ট্যাক্স নির্ভর। ট্যাক্স সম্পর্কে তুলসী গ্যাবর্ড বলেছেন যে, “Taxation is theft when the taxes are used for things that do not serve our intercst”। অর্থাৎ তুলসী গ্যাবর্ডের মতে ট্যাক্স হলো এক প্রকার চুরি যদি তা জনগণের কল্যাণে ব্যয় না হয়। ইনকাম ট্যাক্স অফিসের অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীই দিনে অফিসের পরে রাত্রে আলাদা চেম্বার খুলে ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিস করে। প্রকৃত ইনকাম ট্যাক্সের চেয়ে কর্মচারী কর্মকর্তাদের বেশি টাকা ঘুষ দিতে হয় বলে জনগণ ট্যাক্স অফিসের ভয়ে থাকে। ভয়ে ভয়ে অতিরিক্ত ঘুষ তাদের চোরা চেম্বারে গিয়ে দিয়ে আসতে হয়। অন্যদিকে সরকারি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা কর্মচারীরাই সরকারি অর্থ চুরি, অপচয় ও লোপাট করছে।

করোনাকালেও হাসপাতালগুলির সরকারি ঔষধ পর্যন্ত দলীয় নেতারা চুরি করছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের এক সিনিয়র নার্স ও দলীয় নেতা তপন কুমার বিশ্বাস, জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের ফার্মাষ্টিট নির্মল সরকার ও ষ্টোর ইনচার্জ বশির আহাম্মদ সরকারি ঔষধ চুরির দায়ে গ্রেফতার হয়েছে। নেতা হলে সরকারি ভান্ডার চুরি বা আত্মসাৎ করতে অনেক সুবিধা। তাই চোর ডাকাতদের আকর্ষন সরকারি দল। অন্যদিকে চোর বাটপার যাহাই হউক না কেন সরকারের আকর্ষন জিন্দাবাদ পাওয়া, কিন্তু দম বের হয়ে যায় নিরীহ জনগণের। সরকারি হাসপাতালের ঔষধ চোরদের সম্পর্কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেছেন, “একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতা এসে তদবীর করতে থাকে”। চুরি বা আত্মসাৎ করতে হলে সরকারি দলের অন্তর্ভূক্ত হওয়াটাই চোর বাটপার ও সন্ত্রাসীদের জন্য নিরাপদ। ক্ষমতা খাটিয়ে সরকারি চুরি আগেও ছিল, তবে এখন চলছে পুকুর চুরির স্থলে সাগর ও মহাসাগর চুরি।

কারণ এ দেশের আইন দু’ভাগে প্রয়োগ হয়, সরকারি দলের জন্য একরকম, অন্যদের জন্য ভিন্নতর। দৃশতঃ মনে হয় যে, সরকারি লোকেরা ‘ব্লু ব্লাড’, বাকিরা সব ‘দাস’ বা প্রজা। প্রস্তাবিত বাজেটে তিন লক্ষ ত্রিশ হাজার কোটি টাকা কর আদায় হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। যা বিগত বছরের কর আদায়ের লক্ষ্য মাত্রা ধার্য হয়েছে ৯.৮১% বেশী। জনগণ কর দিবে অথচ হাসপাতালে ভর্তির অভাবে গাড়িতেই মানুষ মারা যাবে। সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত লোকেরা যেখানে যা পাবে তা খেয়ে ফেলার কারণেই জনগণ রাষ্ট্রীয় সেবা থেকে বঞ্চিত। করের (ট্যাক্স) বিপরীতে মানুষকে সেবা দেয়া হউক, ক্ষুধার্ত সরকারি পিপড়াদের (চোর) পেট ও জিব্বা সেলাই করে দেয়া হউক, রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাদের ফুটানীর খাতে অপচয় বন্ধ করা হউক, অহেতুক প্রশিক্ষণের নামে বিদেশী সফর বাতিল করা হউক। অন্যদিকে ইনকাম ট্যাক্স অফিসে দুর্র্নীতি মুক্ত বা ইনকাম ট্যাক্স কর্মচারীদের অফিস বর্হির্ভূত চোরা চেম্বার বন্ধ করা যাবে না, তবে ট্যাক্স দেয়ার পদ্ধতিকে সহজ করে দিলে জনগণ ইনকাম ট্যাক্স দিতে উৎসাহ বোধ করবে। ইনকাম ট্যাক্স অফিসের কর্মচারী, কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সম্পদের হিসাব নেয়া হউক। অন্য সরকারি অফিসের কর্মচারী/কর্মকর্তারা ঘুষ নেয়, আর ইনকাম ট্যাক্স অফিসে ঘুষ স্বেচ্ছায় দিয়ে আসতে হয় এবং ট্যাক্স অফিসের জন্মলগ্ন থেকেই এটাই রেওয়াজ।

দেশের ৯১% সম্পদ একটি শ্রেণীর হাতে বন্দি হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায়, জনগণকে কর প্রদানে উৎসাহিত করতে হলে কর প্রদান প্রদ্ধতিতে সহজ করে দিলে এবং ইনকাম ট্যাক্স অফিসের অহেতুক হয়রানী বন্ধ করতে পারলে জনগণ উৎসাহ বোধ করবে। ফলে জনগণের উপরে করের বোঝা না চাপিয়ে জনগণ যাহাতে কর (ট্যাক্স) প্রদানে উৎসাহিত হয় এবং ট্যাক্স বিপরীতে জনগণ যাহাতে কাঙ্খিত সেবা পায় সে ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানাই।

লেখক: কলামিস্ট ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ