মঙ্গলবার ৩১ মার্চ, ২০২০

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মা, চান বিচার

বুধবার, ১১ মার্চ ২০২০, ২০:৪২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বৃদ্ধ বাবা মো. ফারুক ও মা হোসনে আরা বেগমের একমাত্র ছেলে ছিল জিদান হাসান তন্ময়। স্বপ্ন ছিল কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবার। খুব ছোট বয়সেই স্বপ্ন পূরণ করতে জিদান চলে যায় ফেনী, খালার বাসায়। ভর্তি হয় ফেনী সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে। ১৬ বছর বয়সী এই কিশোর নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা শেষ করে ২৫ ডিসেম্বর রাতে সবে মাত্র ফিরেছিল সিদ্ধিরগঞ্জে। সেখানে থাকেন বাবা-মা ও দুই বোন। মাত্র একটি রাত কাটিয়েছিল তাদের সঙ্গে। এরপরই বাসায় ফেরে তার নিথর দেহ।

বৃদ্ধ বয়সের ভরসা, একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা জিদানের বাবা মো. ফারুক ঢালী। তবে হাল ছাড়েননি। প্রিয় সন্তান হত্যার বিচারের দাবিতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরছেন আদালত থেকে পুলিশের কাছে। ফারুক ঢালী বলেন, ‘ওরা আমার জিদানকে মেরে ফেলেছে। আমার অনেক স্বপ্ন ছিল ওকে নিয়ে। জিদানের সঙ্গে আমার স্বপ্নগুলোও শেষ হয়ে গেছে। আমি ওদের কোনোদিন ক্ষমা করবো না। আমি জিদানের আসামীদের সর্বোচ্চ বিচার দাবি করি।’

গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তিনজন কিশোর জিদানের মরদেহ নিয়ে এসে বলে, সে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে। কিন্তু এ কথা মানতে নারাজ জিদানের পরিবার। ছুটে যান থানায়। জিদানের পরিবার জানায়, প্রথমেই জিদানের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চায়নি পুলিশ। পরে একটি অপমৃত্যুর মামলা হয় এবং তাদের বর্ণনা অনুযায়ী চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ১৫ জানুয়ারি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেনের আদালত নিহতের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনা করে পুলিশকে হত্যা মামলা নিতে নির্দেশ দেন। এ ঘটনার তিনদিন পর জিদান হত্যা মামলা নেয় সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ।

জিদানের মা হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘২৬ ডিসেম্বর দুপুর দেড়টায় এলাকার রতন নামে এক ছেলে এসে জিদানকে ডেকে নিয়ে যায়। এলাকায় রতনের একটি মিউজিক সিস্টেমের দোকান আছে। জিদান বাড়ি ফিরলে প্রায় সময় তার দোকানে বসে থাকতো। একইভাবে ওইদিন সে রতনের সাথে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যায়। কিন্তু ছেলে আমার লাশ হয়ে ফিরে আসে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সবাই বলছিল, ছেলে তো মরেই গেছে আর ঘাটাঘাটি করে কী হবে। কিন্তু আমি জানতাম আমার ছেলে এভাবে মারা যায়নি, ওকে মেরে ফেলেছে। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।’

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাড. শরীফ ইসলাম বলেন, ‘গত ১৫ জানুয়ারি জিদান হত্যার মামলা নেয়ার নির্দেশ দেন আদালত। তার তিনদিন পর মামলা গ্রহণ করা হয় এবং বর্তমানে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদারকি করছে। আজ এ মামলার প্রধান আসামীর জামিন আবেদন করা হয়েছিল কিন্তু আদালত আসামী রতনকে রিমান্ডে পাঠান। এছাড়া এ ঘটনায় আরো তিনজন জেল হাজতে আছে।’

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলো সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি তালতলা ক্লাব এলাকার মো. শুক্কুর আলীর ছেলে রতন (৩০), সিদ্ধিরগঞ্জ চৌধুরী বাড়ি এলাকার মো. মজিবুর রহমানের ছেলে রাহাত হোসেন (১৫), একই এলাকার মো. শাহীননের ছেলে মো. সাব্বির হোসেন (১৬) ও সিদ্ধিরগঞ্জ মিজমিজি এলাকার ফজলের বাড়ির ভাড়াটিয়া মো. জহিরুল ইসলামের ছেলে ইয়াসিন (১৬)।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ