বুধবার ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

একজন সত্যিকারের লড়াকু

শনিবার, ১২ মে ২০১৮, ১৩:৫৪

সিফাত হাছান সুমাইয়া

সিফাত হাছান সুমাইয়া: সময় চলে যায়, তাকে কেউ থামিয়ে রাখতে পারে না, কালস্রোতে ভেসে যায় রাজপাট কিন্তু কর্ম থাকে চিরস্থায়ী সঙ্গীতের মতো, অনুরনন তোলে মানুষের চেতনায়। চিরন্তর এক সত্য বানীতে আমরা চিরকাল বিশ্বাসী, “মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে তার কর্ম।’’ স্বল্প বা দীর্ঘ যেই জীবনই লাভ করোনা কেন, কর্ম হোক যথাযথ।

রায় বাহাদুর রনদা প্রসাদ সাহা, কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের প্রানপ্রিয় জ্যাঠা মনি। শুন্য থেকে শিখরে পোঁছানোর এক উজ্জ্বল উদহারণ। যত দিন বেচে ছিলেন ততদিন শুধু কর্মই করে গেছেন , যা সবই ছিল মানব কল্যাণ মূলক কর্ম। তাই আজও বেঁচে আছেন কর্ম গুনে সকলের মনের মনি কোঠায় ।হয়ে আছেন আপন মহিমায় উজ্জ্বল।

জন্মের সময় তার কিছুই ছিলনা, চিকিৎসার অভাবে অকালে হারাতে হয়েছিল জন্মদাত্রী মাকে, হারিয়েছিলেন মায়ের আদর কিন্তু পেয়েছিলেন সৎ মায়ের সংসার। তবে থেমে থাকেননি তিনি, জীবনকে সাজিয়েছেন নিজের মত করে, জীবন সাজানোর এক একটা স্তরে ছিল বুদ্ধি, সংযম, মেধা, পরিশ্রম, সততা, অধ্যাবসায়, মমতা , আর মানবতা। আর তারই ফলস্রতিতে জীবনে পেয়েছিলেন সফলতা। 
জীবনকে অন্ধকার থেকে নয়, আলোর মধ্য দিয়েই দেখতে ভালবাসতেন, নিজে আলোতে থেকে অপরের মধ্যেও বিলিয়েছেম সেই আলোর বর্ণালী, রাঙ্গাতে চেয়েছিলেন অন্ধকারছন্ন এই পৃথিবীকে।

রনদা প্রসাদ সাহা শুধু স্বপ্নই দেখতেন না, সেই স্বপ্নকে বাস্তবেও রূপ দিতে জানতেন, আর তাই হয়ত সফলতা তার কাছে এসে ধরা দিয়েছে। নিজের সৈনিক জীবনের গুণাবলি, প্রায়োগিক ক্ষমতা ও অতুলনীয় সাংগঠনিক দক্ষতা দিয়ে তিনি শুন্য থেকে বিপুল বিত্তের মালিক হন, সেই বিত্ত – সম্পদ মানুষের সেবায় অত্যন্ত দক্ষতা এবং দূর দরশিতায় মায়ের নামে কুমুদিনি ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে জাতি – ধর্ম এক সাথে মানব সেবায় উৎসর্গ করেন। সবার মাঝে থেকে সবার জন্য কাজ করার এক মহান প্রতিষ্ঠানের জন্ম দেন, সেই প্রতিষ্ঠান থেকে গড়ে উঠেছে, কুমুদিনী হাসপাতাল, ভারেতশরি হোমস, কুমুদিনী নার্সিং স্কুল, কুমুদিনী নার্সিং কলেজ, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ, ট্রেড ট্রেনিং কলেজ এবং সব শেষ রনদা প্রসাদ সাহা বিশ্ববিদ্যালয়।

কিন্তু উপর ওয়ালার ইচ্ছা আমাদের কারো জানা নেই, হয়ত তিনি তার কর্ম পরিধি ১৯৭১ সাল পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন, তাইতো ১৯৭১ সালের ৭ ই মে তার পুত্র ভবানী প্রসাদ সাহা সহ তাকে নিজ বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাবার পর ৪৭ বছরেও তাদের কোন খোঁজ আমরা কেউ পাইনি, নিঃসন্দেহে তার অপহরন আমাদের অভাবনীয়, অপূরণীয় ক্ষতি, সেই দিনের অপহরন মেরে ফেলেছিল অনেক অপার সম্ভাবনা।

একজন সত্যিকারের লড়াকু ব্যক্তিতের অধিকারী রনদা প্রসাদ সাহার জীবনের আদর্শ আমাদের চলার পথে কাজে আসুক, তার আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে আমরাও পৃথিবীকে আলোকিত করার প্রয়াস করি, কিংবা আলোকিত করি, দূর থেকে হয়ত এমনটাই ভাবেন প্রিয় জ্যাঠা মনি।

দূরে থেকেও আছেন আমাদের মাঝে ।
ভাল থাকেন প্রিয় রনদা প্রসাদ সাহা
বীররা অমর, তাদের মরন নেই ।

 

লেখক
শিক্ষার্থী স্নাতক তৃতীয় বর্ষ
শিক্ষানবিস সাংবাদিক: পেস নারায়ণগঞ্জ

সব খবর
মতামত বিভাগের সর্বশেষ