সোমবার ১৭ জুন, ২০১৯

ঈদে সন্তানকে সান্তনা দেয়ার ভাষা জানেন না প্যাপিলন শ্রমিকরা

বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ২৩:০২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: গত দুইমাস যাবত বন্ধ সিদ্ধিরগঞ্জ আজিমপুরে অবস্থিত প্যাপিলন নিট এপারেলস প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটি। তখন থেকেই বেকার প্রতিষ্ঠানটির তিন শতাধিক শ্রমিক। যাদের দাবি দুই মাসের বকেয়া বেতন না দিয়ে অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্ত্বাধিকারী মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী।

প্রতিষ্ঠান বন্ধের পর গত ১ এপ্রিল বেলা ৩টা চাষাড়া শহীদ মিনারের প্রথম প্রতিবাদ জানান প্যাপিলন নিট এপারেলস প্রাইভেট লিমিটেডের শ্রমিকরা। শ্রমিকরা জানান, গত ২৯ মার্চ কারখানার মালিক সীল স্বাক্ষর ছাড়া নোটিশের মাধ্যমে ৩০ ও ৩১ মার্চ ২ দিনের ছুটি ঘোষনা করে। এরপর শ্রমিকরা ১ লা এপ্রিল সকালে সকল শ্রমিক কাজে যোগদানের জন্য কারখানা গেটে গেলে মালিক কর্তৃপক্ষ আবার সীল স্বাক্ষর ছাড়া কারখানা বন্ধের আরেকটি অবৈধ নোটিশ জারি করে। যেখানে উল্লেখ করা হয়, জানুয়ারী মাসে ১০ দফা দাবি দেয়ার কারণে মালিক কর্তৃপক্ষ ১লা এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষনা করেছে।

প্রথম দিনের বিক্ষোভের পর থেকে প্রতিদিন লাগাতারভাবে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ জানায় ও বন্ধ প্যাপিলন নিট এপারেলস প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় খুলে দেয়ার দাবি করতে থাকে উক্ত প্রতিষ্ঠানের আন্দোলনরত শ্রমিকরা।

এদিকে প্যাপিলন নীট এপারেস লিমিটেডের স্বাত্ত্বাধিকারী ও মুন্সিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকদের সকল বকেয়া বেতন পরিশোধ করার পরই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়েছে। আমি আমার প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের ভালোবাসি ও স্নেহ করি। আমি আইনিভাবে ও সকল আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আমার প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করেছি। তার আগে ২৫ মার্চ সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেছি।’

এরপর গত ১১ এপ্রিল জেলা প্রশাসক, কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, শিল্প পুলিশ বরাবর ১১ দফা দাবি সম্মিলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। ২০ এপ্রিল সকাল থেকে গ্রীষ্মের প্রখর রোদে বিকেএমইএ এর সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে থাকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকরা একে অপরকে শান্তনা দিয়ে বলেছিল, ‘গরিবের পেটে ভাত না থাকলেও, মনে জোর আছে।’ তার কিছুক্ষণ পরই অসুস্থ্য হয়ে পরে শ্রমিক ঝর্ণা বেগম। একে একে অসুস্থ্য হয়ে পরে শ্রমিক বেবি (৩০), নাজমুন নাহার (১৮) ও নাজমা। নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঝর্ণা বেগম প্রেস নারায়নগঞ্জের প্রতিবেদককে বলেন, ‘স্বামী ছেড়ে গেছে ১২ বছর আগে। ৩ ছেলে বিয়ে করে আলাদা থাকে। একমাত্র মেয়েকে কষ্ট করে মাস্টার্স পাশ করিয়েছিলাম কিন্তু সেও নিজের স্বার্থে আমাকে ফেলে গেল। সব হারিয়ে এই চাকরির সামান্য টাকায় চলতো আমার জীবন, এখন তাও নেই।’

প্যাপিলনের আন্দোলনরত শ্রমিকদের এই অবস্থান কর্মসূচি চলতে থাকে। অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় আরও বেশ কিছু সংখ্যক শ্রমিক। শ্রমিক ও শ্রমিকদের সাথে সঙ্গতি জানিয়ে শ্রমিকদের দিক নির্দেশনাকারী সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ ধরনা দিতে থাকে বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান। শিল্প পুলিশ, শ্রম অধিদপ্তর, বিকেএমইএ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানায় কিন্তু কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত সংকট সমাধানে নেয়নি কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।

সর্বশেষ বুধবার (২২ মে) নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে প্যাপিলন নীট এপারেলস প্রাইভেট লিমিটেডের শ্রমিকরা। বিক্ষোভরত শ্রমিকরা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আজ ১৬ রোজা। খেয়ে, না খেয়ে কোনো রকম দিন পার করছি। রোজার বাহানা দিয়ে সন্তানদের সান্তনা দিচ্ছি কিন্তু ঈদে কি বলবো? এই ঈদ কিভাবে কাটবে আমরা জানিনা।’

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ