রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

ঈদের কেনাকাটায় কতটা স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে

শনিবার, ২৩ মে ২০২০, ২৩:৩০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ঈদের বাকি আর মাত্র একদিন। শেষ সময়ে কেনাকাটা করতে করোনার ভয়কে উপেক্ষা করেই শহরের মার্কেটগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে মানুষ। অধিকাংশ ক্রেতা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করলেও সামাজিক দূরত্ব মানার বিষয়টি ছিল উপেক্ষিত। একই দোকানে গাদাগাদি করে কেনাকাটা করছে নগরবাসী। এতে হটস্পট নারায়ণগঞ্জে বেড়েছে করোনার সংক্রমন।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে শহরের বেশ কয়েকটি বিপণিবিতান ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। অধিকাংশ বিপণিবিতানেই ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। মার্কেটগুলোর সামনে হাত ধোয়া, জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবস্থা থাকলেও ভেতরে সামাজিক দূরত্ব মানার কোন বালাই নেই। এমনকি শিশুদের নিয়ে মার্কেটে আসার বিষয়ে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাও মানছেন না নগরবাসী। শহরের ফুটপাতগুলোতে অবস্থা আরও ভয়াবহ। ফুটপাতের হকারদের ঘিরে রেখেছেন ক্রেতারা। হাটতে পারছেন না পথচারীরা। স্বাভাবিক দিনগুলোর মতোই দেখা গেছে শহরের অবস্থা।

নারায়ণগঞ্জে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ৭ এপ্রিল রাতে সরকারিভাবে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। তবে কারখানা ও মার্কেটগুলো খুলে দেওয়াতে কার্যত কোন লকডাউন নেই। মার্কেটগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানার নির্দেশনা দিলেও তা মানছে না ক্রেতা-বিক্রেতার কেউই। সরকারি নির্দেশনা না মানাতে শুরুর দিকে শহরের বেশ কয়েকটি মার্কেট বন্ধ করে দেয় জেলা প্রশাসন।

সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি না মানাতে মার্কেট খোলার প্রথম দিন গত ১০ মে দুপুরে শহরের কালিরবাজারের ফ্রেন্ডস মার্কেটটি বন্ধ করে দেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাসান বিন আলী। এরপর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে চাষাঢ়ার সমবায় নিউ মার্কেট ও প্যারাডাইজ ক্যাসেল নামে দু’টি মার্কেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদিও পরবর্তীতে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে মার্কেট পরিচালনার নিশ্চয়তা দিয়ে মার্কেটগুলো খোলা হয়। যদিও তা মানা হচ্ছে না। উল্লেখিত মার্কেটগুলোতে সামাজিক দূরত্বের বিষয়টি এখনও উপেক্ষিত।
কথা হয় সমবায় মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসা এক নারীর সাথে। মধ্যবয়স্ক ওই নারী বলেন, বাচ্চারে তো করোনা বলে বুঝ দেওয়া যায় না। তাই বাচ্চার জন্য কিছু পোশাক কিনতে এসেছি। আর সকলেই তো আসতেছে। তাদেরও তো দেখছি করোনার ভয় নাই।

এদিকে মার্কেটগুলোতে ভিড় থাকলেও তেমন সন্তুষ্ট নন বিক্রোতারা। বেশ কয়েকজন বিক্রেতার সাথে কথা হলে তারা বলেন, করোনা আছে বলেই ভিড়টা চোখে পড়ছে। তাদের ভাষ্যমতে, এটা কোন ভিড়ই না। স্বাভাবিক দিনে দম ফেলার ফুরসত থাকে না তাদের। শুরুর দিকে বেচাকেনা একেবারেই খারাপ ছিল। এখনও তেমন বিক্রি হচ্ছে না। তাছাড়া রমজানে দিনে তেমন বেচাকেনা হয় না। রাতে বিক্রি হয় বেশি। কিন্তু করোনার কারণে এবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার নির্দেশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্ক টাওয়ারের এক বিক্রয়কর্মী বলেন, ঈদের সময় বেচাকেনা হয় বেশি। তাই রমজান মাসের ডিউটিতে বেতন আর বকশিস মিলে পাইতাম দুই গুণ। কিন্তু এইবার করোনা সব খাইলো। বকশিস তো দূরে থাক, চান রাইতে বেতনটা পাই কিনা সেটাই সন্দেহ।

এদিকে ইজি ফ্যাশনের চাষাঢ়া শাখার ব্যবস্থাপক আসিফুল ইসলাম বলেন, এই করোনায় ব্যবসার চিন্তা নেই। যেমন বিক্রি হচ্ছে তাতে স্টাফদের বেতন হলেই চলে যাবে।

 

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ