শুক্রবার ০৫ মার্চ, ২০২১

‘ইমামের সামনে গিয়ে নামাজ পড়ার চেষ্টা কইরেন না’

শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২০:৩১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নেতাকর্মীদের হুশিয়ার করে দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, ‘যারা সংগ্রাম, পরিশ্রম করে দলটা গঠন করেছে তাদের সম্মান করতে হবে। ইমামের সামনে গিয়ে নামাজ পড়ার চেষ্টা কইরেন না। ইমামের সামনে গিয়ে নামাজ হয় না। কী বলতে চাইছি তা আপনারা বুঝছেন।’

শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজী এলাকার নাভানা সিটি বালুর মাঠে থানা আওয়ামী লীগের ব্যানারে অনুষ্ঠিত এক কর্মী সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ক্ষমতার রাজনীতি করি না। এমপি, মন্ত্রী হওয়ার রাজনীতি আমি করি না। আগামীতে নির্বাচন না করার সম্ভবনা বেশি। সময় থাকতে রাজনীতি হতে অবসর নিতে পারি। ভেবেছিলাম সমস্ত অপশক্তির বোধহয় সমাপ্তি ঘটেছে। হয়তো দেশটা একটা জায়গায় চলে এসেছে। এই দেশটাকে পেছন দিকে নিয়ে যাওয়ার আর কারো ক্ষমতা নেই। এই আশায় আশান্বিত হয়ে বলেছিলাম। কেননা সম্মানের সাথে সময় মতো চলে গিয়ে নতুনকে স্থান করে দেয়া হচ্ছে বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু দেখলাম খন্দকার মোশতাক আর মীর জাফররা প্রতি বছর বছর, মাসে মাসে, প্রতি এলাকায় জন্ম নেয়। কারণ তারা বেইমানি করার জন্যই আসে। এই কাজ তারা এখনও করছে।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘৬০ বছর বয়স হওয়ার পরে বিদায় নিবো ভাবছিলাম। এখন মনে হচ্ছে না বিদায়তো দূরের কথা ৭৫’র ১৫ আগষ্টের পর যে শক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম তার চেয়ে দিগুন শক্তি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। আমরা মাঠে নামবো। সমস্যা হচ্ছে সাহস আছে কিন্তু শরীরের শক্তি কমেছে। তাই যাদের শক্তি বেশি সেই তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।’

আওয়ামী লীগের এই সাংসদ বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছর পর আইসা ভাস্কর্যের কথা বলতেছে। তারা নিজেদের অনেক শক্তিশালী ভাবতেছে। তারা মেইন খেলোয়ার না। তাদেরকে সামনে রাখা হবে। যারা মেইন খেলোয়ার তারা স্যুট-কোর্ট পরে চলে। ভিতরেও আছে বাইরেও আছে। নারায়ণগঞ্জে তাদের খুব আনাগুনা। কোথায় যেন যায়? হয়তো আমার বাসায় যায়, নয়তো আমার কাছের মানুষের বাসায় যায়। আলোচনা করে বসে। নতুন নতুন মীরজাফর সৃষ্টি করা চেষ্টা করে।’

নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী ৩ মাস নিজেদের মধ্যে কোন ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল করতে দিবেন না। আপনাদের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগে, সুযোগ সন্ধানীরা পেছন দিয়ে ছুরি মেরে দিবে। সুযোগ মত এরা এসে ঢুকবে। এরা এজেন্সি হিসেবে কাজ করে। আওয়ামী লীগের ওইসব নতুন ভাতের দরকার নাই, যেই পুরান ভাত আছে তাই আমার যথেষ্ট। দলে ঢুইকা আমার নেতাদের লাগায় দিবে তা হবে না। তাদের প্রতি আমার নজর আছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও বঙ্গবন্ধু প্রসঙ্গে কোন আপোস করবো না।’

‘প্রশাসনের উপর ভরসা করে রাজনীতি করি না। মাদক ব্যবসায়ী মিছিলের সামনে থাকতে পারবে না। জোর করে কেউ জমিতে সাইনবোর্ড লাগাতে পারবে না। এইটাই মানুষ চায়। এইসব পুলিশের কাজ না। পুলিশ আপনাদের সহযোগিতা করতে পারে। এই কাজ সমাজের ভালো মানুষের। আশেপাশে বারুদ ছিটাইয়া রাখছে আগুন লাগাবার জন্য। হাজার হাজার কোটি টাকা বন্টন হয়ে গেছে শুধুমাত্র শেখ হাসিনাকে থামানোর জন্য।’

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মিয়া, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সাজনু ভূইয়া, নাসিক কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি, কাউন্সিলর আলী হোসেন আলা, রুহুল আমিন মোল্লা, ইফতেখার আলম খোকন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. জুয়েল হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, যুব মহিলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অ্যাড. সুইটি ইয়াসমিন প্রমুখ।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ