সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

ইমরুলকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী বললেন জৌনপুরী পীরের অনুসারীরা

রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ১৭:৫৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: রাইফেলস্ ক্লাবের শ্যুটিং সম্পাদক ইমরুল কায়েসকে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদী কার্যক্রমের অর্থ যোগানদাতা বলে দাবি করেছেন হেলিকাপ্টার হুজুর খ্যাত জৌনপুরী পীর এনায়েতউল্লাহ আব্বাসীর অনুসারীরা। জৌনপুরী পীরের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত রেলওয়ের জমি দখলের মামলাটিও ইমরুল কায়েসের ইন্ধনে করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। তবে এ বিষয়ে ইমরুল কায়েস বলেন, আমার অবস্থান সম্পর্কে সকলেই অবগত। আমি ভিডিওটি দেখেছি। সেখানে পুরো বক্তব্যই ছিল পলিটিক্যাল, সত্যতার কোন লেশমাত্র নেই।

রোববার (১৮ আগস্ট) সকালে জৌনপুরী পীরের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তাঁর অনুসারীরা। তাহরিকে খাতমে নবুওয়্যাত নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশের একমাত্র কোরআনের মুফাসসিরের আওয়াজকে বন্ধ করে দিতে চায়। ইমরুল পীরকে সহ্য করতে পারে না। সহ্য করতে না পেরে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা শুরু করেছে।’

ইমরুল কায়েসকে হুশিয়ারি দিয়ে তারা বলেন, ‘আপনি এনায়াতউল্লাহ আব্বাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন। তা না হলে আপনাকে ছাড় দিবে না তৌহিদী জনতা।’

বক্তারা বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের চিহ্নিত সন্ত্রাসী জামাত-শিবিরের অর্থ যোগানদাতা মাদক ব্যবসায়ী ইমরুল কায়েস কুখ্যাত কাফের কাদিয়ানীদের ইন্ধনে ও ইসলামী অপশক্তির সাথে হাত মিলিয়ে দীর্ঘ দিন যাবৎ পাঠানটুলীর ঐতিহ্যবাহী আব্বাসী মঞ্জিল জৌনপুরী দরবার এবং মসজিদ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তারা বলেন, দেশের আলেম সমাজ যখন সরকারের সাথে সু-সর্ম্পক বজায় রেখে চলছে এবং দেশের শান্তিপুর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে দেশে পরিচালনা করছে সেখানে ইমরুল গংরা দেশের আলেম সমাজকে সরকারের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলার জন্য দেশের বিশিষ্ট আলেম জৌনপুরী পীর ড. মুফতি এনায়তউল্লাহ আব্বাসী ও তার মসজিদ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে মিথ্যা মামলা করে নারায়ণগঞ্জের শান্ত পরিবেশকে অশান্ত কারায় পায়তারা করেছে।’

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির উপদেষ্টা উপদেষ্টা হযরত মাওলানা আব্দুর রশিদ হারুন, জামিয়াতুস শাবাব ও কারামত আলী জৌনপুরী (রহ.) ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মাওলানা মাসউদুর রহমান বিক্রমপুরী, মাওলানা জালাল উদ্দিন মাজহারী, মুফতি আহমাদ হাসান, যুক্তিবাদী এবিএম শরীফুল ইসলাম, মাওলানা মারুফ বিল্লাহ আশেকী, জিএস শাহীন প্রমুখ।

এদিকে এ বিষয়ে মুঠোফোনে ইমরুল কায়েস বলেন, মানববন্ধনে যেসব ওলামাগণদের নিয়ে এসেছেন তাদের আমি শ্রদ্ধা করি। কিন্তু তারা আসলে জানেও না মামলার বাদী কে, মামলার অভিযোগ কী। এসব না জেনেই তারা ঢালাওভাবে আমাকে দোষারোপ করে গেছে। যার সবই মিথ্যা।

তিনি আরো বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলিতে আমার ভাইয়ের গার্মেন্টসে হামলা চালায় জৌনপুরী পীরের ভাই ও তার লোকজন সে বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। এছাড়া রেলওয়ের জমি দখল করে রেখেছে জৌনপুরী পীর। সে বিষয়ে মামলা করেছে রেলওয়ে। এখানে তো আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। জৌনপুরী পীরের অনেক অত্যাচারের কথা এলাকাবাসীকে জিজ্ঞেস করলে তারাই ভালো বলতে পারবে। অথচ আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা বক্তব্য প্রদান করা হয়েছে মানববন্ধনে।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ