রবিবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯

ইউরো শিপ বিল্ডার্সের অবহেলায় ডকইয়ার্ড ম্যানেজারের মৃত্যুতে মামলা

বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ২২:২২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সোনারগাঁয়ে ইউরো মেরিন শিপ বিল্ডার্স নামের জাহাজ ও বাল্কহেড নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে বিদ্যুতায়িত হয়ে শামসুল ইসলাম খান ওরফে বুলবুলের (৩৮) মৃত্যু হয়েছে বলে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে সাফা এন্টারপ্রাইজের মালিক আবুল কালাম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় এ মামলা দায়ের করেন। নিহত শামসুল ইসলাম খান বাদী আবুল কালামের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং সম্পর্কে তার ভাগনী জামাই।

মামলায় ইউরো মেরিন শিপ বিল্ডার্স নামের জাহাজ ও বাল্কহেড নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন (৩৬), ইলেকট্রেশিয়ান আব্দুর রহমান (৩২), শরিফুল ইসলাম (৩০), স্টোর এন্ড একাউন্টস অফিসার শাখাওয়াত হোসেন (২৮), স্টোর অফিসার রাসেল মিয়া (৩৪), এডমিন অফিসার কামাল হোসেন (৩৫), সাইট অফিসার রাকিব হোসেনকে (৩০) বিবাদী করা হয়েছে। ইউরো মেরিন শিপ বিল্ডার্স আল মোস্তফা গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে মোস্তফা গ্রুপ কর্তৃক্ষকেও বিবাদী করা হয়েছে অভিযোগে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বৈদ্যেরবাজারে অবস্থিত ইউরো মেরিন শিপ বিল্ডার্স নামের জাহাজ ও বাল্কহেড নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন শামসুল ইসলাম খান ওরফে বুলবুল। নিহত বুলবুল খান সাফা এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠানের বাল্কহেড নির্মাণ কাজের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে ইউরো মেরিন শিপ বিল্ডার্স শিপইয়ার্ডে বিভিন্ন জাহাজ ও বাল্কহেড নির্মাণ কাজে তদারকি করতেন। বুলবুল সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের সনমান্দি গ্রামের আব্দুর রশিদ খানের ছেলে। তার দুই মেয়ে রয়েছে।

তার মৃত্যুর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় বাদী আবুল কালাম বলেন, আমি সাফা এন্টারপ্রাইজের যৌথ মালিক। সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার মেঘনা নদীর তীরে ইউরো শিপ বিল্ডার্সের জায়গা এবং বিদ্যুৎ ভাড়া নিয়ে তাদের কর্তৃপক্ষ ও ইলেক্ট্রেশিয়ানের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে বাল্কহেড নির্মাণ করছি। প্রতিদিনের ন্যায় আমার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা ওয়েল্ডিংয়ের মাধ্যমে কাজকর্ম করার সময় বিদ্যুৎ সংযোগের সমস্যা হলে বুধবার বিকেল ৪টায় বিবাদী দেলোয়ার হোসেন, আব্দুর রহমান, শরিফুল ইসলামকে বৈদ্যুতিক তারের লিকেজসহ অন্যান্য সমস্যার ব্যাপারে জানায়। কিন্তু বিবাদীগণ তাদের কথা কর্ণপাত করেনি। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যুতের সমস্যা হলে পুনরায় আব্দুর রহমান, শরিফুল ইসলামকে জানাই এবং বৈদ্যুতিক তারের কোথায় সমস্যা তা জানতে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করে পরীক্ষা করতে বলি। তখন আব্দুর রহমান বলেন, এক হাজার টাকা দিলে বৈদ্যুতিক সমস্যার সমাধান করে দেবো। পরে আমার ভাগনী জামাই বুলবুল সকাল ১১টার দিকে ইউরো ডকইয়ার্ডের ভেতরে আমার ভল্কেড নির্মাণকাজ দেখাশোনা করতে গেলে বৈদ্যুতিক তারের লিকেজের মাধ্যমে একটি লোহার প্লেটের বিদ্যুৎ সংযোগে বিদ্যুতায়িত হয়ে ছিটকে পড়ে। এতে তার মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। আমার অন্যান্য কর্মচারীরা আব্দুর রহমানকে বিদ্যুতের মূল সংযোগ বন্ধ করতে বললেও করেনি। পরে বুলবুলকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ইউরো ডকইয়ার্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন নিহতের মামা শ্বশুর আবুল কালাম।

এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মাম শ্বশুর বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ