বুধবার ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

আড়াইহাজারে ভূমি কর্মকর্তার মামলায় ভুয়া দুদক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

বুধবার, ৭ নভেম্বর ২০১৮, ২২:২৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: দুদকের কর্মকর্তা পরিচয়ে আড়াইহাজারের খাগকান্দা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তার কাছ থেকে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক প্রতারক। শুধু তাই নয় আরো ৫ লাখ টাকা দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। শেষ পর্যন্ত প্রতারক মো. ফয়েজ উদ্দিন (ফয়েজ) ওরফে ফয়সল রানাকে গ্রেপ্তার করেছে দুদকের গোয়েন্দা ইউনিটের একটি টিম। তার বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশের দোহাজারীতে। বুধবার (৭ নভেম্বর) দুদক গোয়েন্দা ইউনিটের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম রাজধানীর গুলিস্তান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। ভুক্তভোগী ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আবদুল জলিল বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন থানায় ফয়েজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলাটি পল্টন থানা পুলিশ তদন্ত করবে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ফয়েজ উদ্দিন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের খাগকান্দা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবদুল জলিলের কাছে নিজেকে দুদক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জানায়, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর পর ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং অভিযোগ থেকে রেহাই দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৭ লাখ টাকা দাবি করে। তা না হলে তার বিরুদ্ধে মামলা ও চার্জশিট দেওয়া হবে এবং তিনি চাকরি হারাতে পারেন বলেও ভয় দেখায় ফয়েজ। আবদুল জলিল চাকরি হারানোর ভয়ে ফয়েজ উদ্দিনকে দু-তিন মাস আগে ২ লাখ টাকা দেন। কিছুদিন পর আরও ২০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে দেন। আরও ৫ লাখ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হলে বিষয়টি দুদককে জানান আবদুল জলিল। এরপর দুদক গোয়েন্দা ইউনিট থেকে ফয়েজ উদ্দিনের মোবাইল ফোন নম্বর ট্র্যাক করা হয়।

দুদক জানায়, ফয়েজ উদ্দিন বুধবার আবদুল জলিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে চন্দনাইশের দোহাজারী থেকে বাকি ৫ লাখ টাকা নেওয়ার জন্য ঢাকায় আসেন। এদিকে, দুদকের গোয়েন্দা ইউনিট ওই প্রতারককে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি নেয়।

এজাহারে বলা হয়, ফয়েজ উদ্দিন গুলিস্তানের হোটেল রাজে গিয়ে টাকা নিতে রাজি হয়। আবদুল জলিল দুপুর ১টায় হোটেলে যান। দুদক টিমের কর্মকর্তারাও গোপনে অবস্থান নেন সেখানে। আবদুল জলিল মোবাইল ফোনে যোগাযোগের পর হোটেলের সামনে গেলে ফয়েজ হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করে। তার হাতে টাকা দেওয়ার পর ওতপেতে থাকা দুদক কর্মকর্তারা ফয়েজকে টাকাসহ গ্রেপ্তার করেন। প্রতারণা করে ভয় দেখিয়ে মোট ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা নিয়ে ফয়েজ দন্ডবিধির ৪০৬/৪০৯/৪২০ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে।

বুধবার ফয়েজকে গ্রেপ্তারের সময় দুদক উপ-পরিচালক এসএমএম আখতার হামিদ, উপ-পরিচালক মো. মাহাবুবুর রহমান, সহকারী পরিচালক মুজিবুর রহমান, উপ-সহকারী পরিচালক মো. জয়নাল আবেদীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ