শুক্রবার ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

'আহারে ভাই! কেন যে তুই এই লাইনে গেলি' আক্ষেপ তুহিনের বোনের

বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৪:২০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ‘ভাইয়ের লাইগা স্বামী ছাইড়া দিছি৷ দুই ভাইরে কতো আদর কইরা পালছি৷ আহারে ভাই! কেন যে তুই এই লাইনে গেলি?’

ব়্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত কিশোর গ্যাং ‘তুহিন বাহিনী’র প্রধান সাইফুল ইসলাম তুহিনের (২০) বোন স্বর্ণা আক্ষেপ করে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন৷

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে বসে এ প্রতিবেদককে তিনি বলছিলেন, ‘পাসপোর্ট করছিলাম, বিদেশ পাঠানোর লাইগ্গা৷ খারাপ তো আগেই হইয়া গেছিলো৷ ভাবছিলাম বিদেশ পাঠাইলে ভালো হইয়া যাইবো৷ কিন্তু ঘাড়ামি কইরা গেলো না৷ বিদেশ গেলেগা আর মরতে হইতো না৷’

নারায়ণগঞ্জ শহরের কিশোর গ্যাং ‘তুহিন বাহিনী’র প্রধান একাধিক হত্যা মামলার আসামী, শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী তুহিন ওরফে চাপাতি তুহিন র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোর চারটায় নগরীর সৈয়দপুর এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

দেওভোগের হাশেমবাগে শাকিল হত্যার মামলার প্রধান আসামী তুহিন। গত ২৭ জুলাই শনিবার রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাকিল নামে নিরিহ ওই যুবককে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে কিশোর গ্যাং সন্ত্রাসী তুহিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। ওই ঘটনায় আরও ছয়জনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তুহিনকে প্রধান আসামী করে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা করে নিহত শাকিলের বড় ভাই সাঈদ হোসেন।

এদিকে তুহিনের বড় বোন জানান, দেওভোগে তুহিনের লাশ দাফনে বাধা দিচ্ছে এলাকাবাসী৷ পাইকপাড়া কবরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে জানান তিনি৷

এদিকে মোবাইলে কথা বলা শেষে পাশে বসা এক আত্মীয়কে স্বর্ণা বলছিলেন, ‘শারমিন আফায় পাগল হইয়া গেছে৷ মরা মানুষরে তো মানুষ মাফো কইরা দেয়৷ আমার ভাই শাস্তি তো পাইয়াই গেছে৷ ওরা পারলে এখন মরা লাশরেই লাত্থি মারতো৷’

স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিহত তুহিন দেওভোগের তাতীপাড়া এলাকার অটোরিকশা চালক কাওসার হোসেনের ছেলে৷ ৬ বছর বয়সে মা মারা যায় তুহিনের৷ বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন৷ স্কুলে এবং মাদ্রাসায় ভর্তি করালেও পড়াশোনায় মন ছিল না তার৷ মা না থাকায় দিন দিন অবাধ্য হয়ে যায় সে৷ পরে যোগ দেয় তৎকালীন সময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী হাসানের (ইতোপূর্বে ক্রসফায়ারে নিহত) দলে৷ সে সময় হাসানের সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিল সে৷ হাসান ক্রসফায়ারে মারা যাওয়ার পরে ওই দলের পুরো দায়িত্বে চলে যায় তুহিন৷

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ