সোমবার ১৯ আগস্ট, ২০১৯

আলীগঞ্জ মাঠের মেয়াদ আর সাত দিন!

রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ২১:৪৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ফতুল্লার পাগলায় আলীগঞ্জ খেলার মাঠে সরকারি কর্মকর্তাদের আবাসন প্রকল্প পাশ হয়েছে একনেকের সভায়। আবাসন প্রকল্পের জন্য অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে এসে এলাকাবাসীর বাধার মুখে পড়ে অভিযান পরিচালনা না করেই ফিরে যায় গণপূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউডি)। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে আগামী এক সপ্তাহের সময় দেয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ পরে ফের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে জানিয়েছে গণপূর্ত বিভাগ।

রোববার (২৬ মে) বেলা ১২টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজোয়ান আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশ ও র‌্যাবসহ বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে আলীগঞ্জ মাঠে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে আসে গণপূর্ত অধিদপ্তর। এ সময় এলাকাবাসীর বাধার মুখে পড়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা না করেই ফিরে যান তারা। পরে ঘটনাস্থলে আসেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিক। এ সময় নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘ক’ সার্কেল) মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী, ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনায় বসেন এলাকাবাসী। আলোচনা শেষে ফের উচ্ছেদ অভিযানে নামলে উত্তেজিত এলাকাবাসী বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতা শাহাদাত হোসেন সেন্টু ও কবির হোসেন রাজু। এক পর্যায়ে তারা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এলাকাবাসীর তোপের মুখে ফিরে যান সরকারি কর্মকর্তারা।

নারায়ণগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নিবার্হী প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রীর একনেকে সভায় অনুমোদিত অগ্রাধিকার প্রকল্প অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের আবাসান প্রকল্প নির্মাণ করার জন্য গণপূর্ত বিভাগ ১১ দশমিক ৬৭ একর জায়গা অধিগ্রহণ করে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করে। কিন্তু এখানে খেলার মাঠের দাবিতে স্থানীয় লোকজন বেশ কিছুদিন ধরে মাঠ ও মাঠের আশেপাশের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে। এই জায়গা দখলমুক্ত না হওয়ায় ভবন নির্মাণ কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, এই প্রকল্পের আওতায় আড়াই একর জমির উপর একটি খেলার মাঠসহ প্রায় সাড়ে চার একর ভূমি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এলাকাবাসী এই বিষয়টি অবগত ছিলেন না। বিষয়টি তাদেরকে অবগত করে এই জায়াগার দখল ছেড়ে দিতে এক সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেজোয়ান আহম্মেদ বলেন, ‘স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল কয়েকটি সংস্থা থেকে লীজ এনে সরকারি আবাসন প্রকল্পের বেশ কিছু জায়গা দখল করে রেখেছে। তাদের দেয়া কাগজপত্র ক্রস চেক করা হবে। এ বিষয়ে সাত দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। সবার কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সরকারি কর্মকর্তারা সাতদিন সময় বেঁধে দিলেও এই মাঠ নিয়ে ফের উত্তেজনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাত দিন পর গণপূর্ত বিভাগ উচ্ছেদ অভিযানে আসলে ফের বাধা দিতে প্রস্তুত থাকবে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। এই মাঠ রক্ষার দাবিতে তারা বদ্ধ পরিকর।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগ নেতা ও স্থানীয় আলীগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি কাউসার আহমেদ পলাশ বলেন, ‘আজ সবাই স্বতঃস্ফুর্তভাবে যেভাবে মাঠ দখলে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে আগামীতে তারাই প্রতিরোধ করবে।’

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ