মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

‘আমি এই পাগলটার মা’

বুধবার, ৯ মে ২০১৮, ২২:৪৫

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

নুসরাত জাহান সুপ্তি (প্রেস নারায়ণগঞ্জ): বুধবার। ঘড়ির কাটা বিকাল পাঁচটা। চব্বিশ-পঁচিশ বছর বয়সী এক যুবক। উদাম দেহ। পরনে একটা কালো পায়জামা। নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের দক্ষিন পাশের সড়কে হঠাৎ সে বৃদ্ধ বয়সী এক মহিলাকে লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়ছে আর মন্দ ভাষায় গালমন্দ করছে। তবে অবাক করা বিষয় হচ্ছে যুবকটি মহিলাকে ঢিল ছুড়ে মারার পরেও সে ওই যুবকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি রাস্তায় দাড়িয়ে থাকা উৎসুক মানুষের নজর কারে। কেন এই ছেলে মহিলাকে মারছে! তাদের মধ্যে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়। মুহুর্তেই ভীড় জমে যায়। মহিলাকে মারতে দেখে কয়েকজন লোক ছেলেটিকে লোহার শিকলে বেঁধে ফেলে। উপস্থিত লোকজন ফিস ফাস করে বলছে, কি হয়েছে? কেন ‘ও’ এমন করছে। কেন-ই বা তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে?

তখন দাড়িয়ে থাকা একজন বলেন, এই পোলাটা আমার সাথেই কাজ করত। আমরা টাইলস নামানোর কাজ করতাম। স্বভাব-চরিত্র অনেক ভাল। নামাজি আছিলো। সবার সাথে ভাল ব্যবহার করত। হঠাৎ কইরা শুনলাম, ৩ মাস আগে কেমনে জানি ‘ও’ পাগল হইয়া গেছে। এর পরে ওরে আমি আর দেখি নাই। আজকা (বুধবার ৯ মে) সকালে দেখি এহানে আইয়া ঘুরতাছে।

মহিলার সামনে গিয়ে দেখা যায়, মাথা ধরে অশ্রুচোখে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন। তার সাথে কথা হয়। তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, উত্তর চাষাড়া চানমারি হামিম মিয়ার বস্তিতে ভাড়া থাকি। আমার নাম আসিয়া বিবি। আর সবাই যেরে পাগল বলতাছে। আমি এই পাগলটার মা। ও’র নাম আল আমিন। আমার ছেলেটা পাগল ছিল না। আমার ছেলেটা হিরা আছিল। ও’র মত ভাল মানুষ দুনিয়াতে নাই। ও’রে মাইরা পাগল বানাইছে। আল আমিন আমার পোলা কাম কাজ ঠিক মতই করত। একদিন আমার পোলা বের হইছে সারাদিন আর বাড়িতে আসে নাই। খোজ কইরাও পাই নাই। যখন পাইছি তখন আমার পোলা আর আমারে চিনে না। আমার ঘরের বাতি কাইরা নিছে ও’রা। কথা বলতেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। আচলে চোখ মুছতে মুছতে বলেন, শিশু একাডেমীর পাশে এক বাড়িতে থাকে আমেনা খাতুন। ওই মহিলার কাছ থেকে আমার পোলায় ৫ হাজার টাকা পাইত। আমার পোলা টেকা চাইছে। টেকা চাইছে টেকা দেয় না। পরে আবার ওই মহিলার পরিচিত চানমারীর নেতা দাউদ মিয়ার পোলা শরিফ। দাউদ মিয়ার রিক্সার গ্যারেজ আছে , ওইখানে নিয়া আমার পোলারে মাথায় অনেক মারছে। মাইরা ফালায় রাখছিল রাস্তায়। মাথায় মারছে বইলা আমার পোলা আজকে পাগল। দুই মাস আগে পোলা আমার পালায় গেছে। মাথা তো ওর ঠিক নাই। অনেক খুজঁছি, পাই নাই। আজকে এই জায়গায় আইছে আমারে একজনে খবর দিছে। দৌড়াইয়া আইসি। ডাক্তার দেখাইতে নিয়া যামু। ডাক্তারের কাছে যাইতে চায় না। ডাক্তরের কাছে নিয়া যামু এর লাইগা আমারে দেখতে পারে না, আমারে মারতাছে। কিন্তু আমি যামু কই। এহানের হাসপাতালে পাগলের ডাক্তার নাই, কাঁচপুর একটা ডাক্তার আছে। যেমনেই পারি ওনে নিয়া যামু।

 

সব খবর