রবিবার ১৬ মে, ২০২১

আমার পরবর্তী প্রজন্ম এই রাজনীতিতে আসবে না: শামীম ওসমান

বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল ২০২১, ১৪:২৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, ‘প্রথমত পুরো টার্ম আমি পূরণ করবো কিনা। আমি দেখছি কী হচ্ছে, কথা বলবো প্রধানমন্ত্রীর সাথে। তিনি আমার অভিভাবক। আর অনেকে ভাবছে আমার ছেলে, আমার স্ত্রী রাজনীতিতে আসবে। কারণ তারা প্রচুর এক্টিভ। আমার ছেলেও এক্টিভ, আমার স্ত্রীও এক্টিভ। গতকাল আমার স্ত্রী একটা ছোট ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে আড়াই লাখ টাকা খরচ করে হার্টে অপারেশন করিয়েছে। এটা বলা উচিত না, প্রচার করার জন্য আমরা বলছি না। এর মানে যে রাজনীতিতে আসতে হবে তা নয়। আমার জানামতে আমার পরবর্তী প্রজন্ম কেউ এই রাজনীতিতে আসবে না। এটা আমার মতামত। তারপর তাদের চয়েজ। এটা কোন জমিদারি প্রথা না। আমার দাদা এমএলএ হয়েছেন, আমার বাবা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হয়েছিলেন। আমরা এক মায়ের তিন ছেলে এমপি হয়েছি। তাই আমার পরে আমার ছেলে বা আমার স্ত্রী হতে হবে এমন না। এই কালচার বদলাতে হবে।’

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে বেসরকারি একটি টেলিভিশনের টকশোদে যুক্ত হয়ে সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শামীম ওসমান। সাম্প্রতিক নানা প্রসঙ্গে এই টকশোতে কথা বলেন আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্য।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার দলের মধ্যে বহু নেতাকর্মী আছে যাদের ত্যাগ অনেক বেশি আছে। আবার এমনও আছে অনেকেই যারা দলের লেবাস পরে দল করছে, হিন্দুদের সম্পত্তি দখল করছে, শতকোটি টাকার বাড়ি বানাচ্ছে, বিদেশে টাকা পাচার করছে। এবং দলকে ব্লেইম করছে, নেত্রীকে ব্লেইম করছে, সময়মতো নেত্রীর পায়ে ধরছে। পুঁজি, ব্যবসা বা ধান্দা হিসেবে যারা রাজনীতি করে তাদের সাথে আমাদের সমঝোতা হবে না। আপনি মিথ্যা দিয়ে বেশি দিন চলতে পারবেন না। ভোটের আগে গরীব মানুষের সাথে ছবি তোলার জন্য প্রতিযোগিতা হয়। ভোট বাড়াতে রাস্তার পাশে হকারকে জড়িয়ে ধরে ছবি তুলি। আর ভোটের পরে পিটাইয়া, লাথি মেরে ওদের শুইয়ে দিচ্ছি। আমি বলছি আমার কোনো সম্পদ নাই আর আমি গিয়ে অন্যের ধর্মের সম্পদ দখল করছি। আমি বলছি আমার কাছে কোন টাকা নাই আর আমি শতকোটি টাকার বাড়ি বানাচ্ছি।’

শামীম ওসমান বলেন, ‘আজকে গাছের পাতায় পাতায় আওয়ামী লীগ। আমলাতন্ত্রও বলছে, আমার ব্যাকগ্রাউন্ড ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ। সেটি প্রশ্ন নয়, প্রশ্ন হলো সে ঠিকমতো কাজ করছেন কিনা। আমি মনে করি, যে যেখানে যোগ্য তাকে সেখানে দেওয়া উচিত। আর দলবাজি করলে বরং তাকে শাস্তিমূলক ববস্থা করা উচিত। কারণ এত ভালো ভালো না।’

টকশোতে হেফাজত নেতা মামুনুল হক ইস্যুতে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মামুনুল হক একজন ব্যক্তি, তিনি ইসলাম নন। তাকে দিয়ে আমি ইসলামকে তুলনা করবো কেন? শামীম ওসমানকে দিয়ে আপনি রাজনীতি তুলনা করবেন কেন? শামীম ওসমান যদি রাজনীতিতে কলুষিত হয় তাহলে জনগণ তাকে বের করে দিবে। তাদের অনুসারীরা কষ্ট পায়, তাদের কাছে খারাপ লাগে যে আমরা কার পিছনে গেলাম। আমি বুঝি না এই যে হেফাজত ইসলাম কোন রাজনীতি সংগঠন না তাহলে সরকার ও নির্বাচন কমিশন তাদের সুযোগ দেয় কেন। তারা রাজনৈতিক প্রোগ্রাম করতে পারবে। এটি সঠিক বলে আমি মনে করছি না। আর ধর্মকে রাজনীতিতে আনবো কেন। ধর্ম তো আমার অন্তরের বিশ্বাস। আমার জবাব আমি দিবো, আমার জবাব অন্য কেউ দিবে না। এ ক্ষেত্রে আমি বলবো যে কোন ধর্ম খারাপ কথা বলেনা। ধর্ম মানুষকে সুন্দর করে, তাদেরকে ধৈর্য্য ধরতে শিখায়।’

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ