শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২০

‘আমাগো বাঁচার উপায় নাই’

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২০, ১৯:০৭

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বিশ্বের দেড় শতাধিক দেশে সংক্রমিত হওয়ার পর বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুতে সারাদেশে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সকল শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক বিতান-শপিংমল, সকল গণপরিবহন, নৌযান ও রেলপথ। সারাদেশের মত করোনার প্রভাব পড়েছে নারায়ণগঞ্জেও। জরুরি কারণ ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার কঠোর হুশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন। তবে বিপদে পড়েছে খেটে খাওয়া দিনমজুর শ্রেণি। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন রিকশাচালক। করোনায় পথে-ঘাটে সাধারণ মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় যাত্রী পাচ্ছেন না তারা। যার ফলে দিন শেষে রিকশা জমা দেওয়ার টাকাটি পর্যন্ত উঠাতে পারছেন না।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে নগরী ঘুরে দেখা গেছে এই চিত্র। বিকেলেও দেখা যায় একই চিত্র। সকাল থেকেই রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচল কম। গণপরিবহনগুলো বন্ধ থাকায় নগরীর রাস্তায় চলছে রিকশা, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত রিকশা। কিন্তু যাত্রী না থাকায় অনেকটাই অলস সময় পার করছেন রিকশায় বসে থেকে। যাত্রী না থাকায় তাদের চিন্তা, এখন রিকশার জমা টাকা দিবে কীভাবে আর দিন শেষে খাবে কি?

যাত্রী না থাকায় যাত্রীর খোঁজে বক্তাবলী থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে শহরের চাষাঢ়ায় এসেছেন রফিকুল ইসলাম। কিন্তু তাও যাত্রী পাচ্ছেন না। তিনি জানান, আমাদের মোটর রিকশার জমা ৩০০ টাকা। সকাল ৮টায় বেরিয়ে দুপুর পর্যন্ত ১২০ টাকা পাইছি। কালকে থেকে আর রিকশা নিয়ে বের হমু না। যাত্রী না থাকলে বের হয়ে লাভ কি?

এ সময় রিকশা না চালিয়ে চলতেন কীভাবে এমন প্রশ্নের জবাবে রিকশাচালক রফিকুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, দেশের বাড়ি লালমনিরহাট। সেখানে তামাক ক্ষেতে কাজ করলেও রোজ ৩০০ টাকা পাইতাম। মাস শেষে আমার বাড়ি ভাড়া নিয়াও চিন্তা ছিল না। গেরামে ১০ টাকাও অনেক। কিন্তু শহরে ১০০ টাকা কোন দিক দিয়া যাইবোগা টেরও পাইবেন না।

সস্তাপুর এলাকার রিকশাচালক হাফিজুর রহমান জানান, সকাল ১০টায় বেরিয়ে দুপুর আড়াইটা অব্দি ৫০ টাকা উঠাইতে পারছি। রিকশার জমা ১১০ টাকা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জমার অর্ধেক টাকাও তুলতে পারি নাই।

পঞ্চবটি থেকে আগত আরেক রিকশাচালক ওবায়দুল জানান, সকালে বের হয়ে এখন পর্যন্ত ২০০ টাকা কামাইছি। কালকে সকাল থেইকা দুপুর পর্যন্ত কামাইছিলাম ৬৫০। কালকা যাও যাত্রী ছিলো এখন তাও নাই। এমনে আরও কয়দিন চললে আমাগো না খাইয়া মরতে হইবো। সরকার তো আমাগো মত মানুষের জন্য কিচ্ছু করে না। আমাগো বাঁচার উপায় নাই।

চালক রসূল আহমদ জানান, যেই সরকারই ক্ষমতায় থাকুক না কেন আমগো মত মানুষের কোন লাভ হয় না। না আমাদের জন্য কেউ কিছু করে। কালকা যাও ভাবছি বাইর হইতাম না। কিন্তু পেট তো তা আর মানে না। পেটের দায়ে বের হইলাম। আমার মোটরগাড়ির রিকশার জমা ৩০০ টাকা। মন চাইতাছে গ্যারেজে গিয়া রিকশা জমা দিয়া বাইত যাইগা। কিন্তু জমার কথা মাথায় আইলেই আর যাইত মন চায় না। কারণ যাত্রী পাইছি কি পাই নাই তা তোর আর সরদারে শুনবো না। সরদার ঠিকই আমার তে ৩০০ টাকাই নিবো।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ