মঙ্গলবার ০২ মার্চ, ২০২১

‘আমলাতন্ত্র’ থেকে পরিত্রাণ চায় উপজেলা চেয়ারম্যানরা

রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১, ১৯:১০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: আমলতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণের কারণে কর্তৃত্ব খর্ব হচ্ছে দাবি করেছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানগণ। আমলাদের কারণে উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলেও অভিযোগ তাদের। রোববার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এমন অভিযোগ তোলে উপজেলা পরিষদ এসোসিয়েশনের জেলা শাখা। এ সময় ২০১০ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে গেজেটকৃত উপজেলার ১৭টি প্রশাসনিক কার্যক্রম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের নেতৃত্বে পরিচালনার দাবি জানিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যাণগণ বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ এসোসিয়শেন নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি বন্দর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ রশীদের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ্জাহান ভূঁইয়া, আড়াইহাজার উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুজাহিদুর রহমান হেলো সরকার। আরও উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, বন্দরের ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লাহ সানু, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সালিমা হোসেন শান্তা, আড়াইহাজারের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রফিক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ঝর্না বেগম, রূপগঞ্জের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসি আলম নীলা, সোনারগাঁয়ের ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার ফেন্সি প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে এম এ রশীদ বলেন, ১৯৯৮ সালে আইন প্রবর্তন করে ২০০৯ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রশাসনিক একাংশ উপজেলা পরিষদ প্রবর্তন করা হয়। যা আরও কার্যকর করতে ২০১১ সালে উপজেলা পরিষদ আইনকে সংশোধন করা হয়। তৃতীয় তফসিলের মাধ্যমে উপজেলার ১৭টি বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও তাদের কার্যাবলী উপজেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু এ হস্তান্তরের পরে প্রায় এক যুগ চলে গেলেও এ ১৭টি বিভাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বেই চলছে। উপজেলা চেয়ারম্যানদের আওতাধীনে এসব বিভাগ দেয়া হয়নি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের জারিকৃত সকল নির্দেশ উপেক্ষা করে ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রণালয় এসব বিভাগের জন্য আলাদা পরিপত্র জারি করে বিভাগগুলো ইউএনও’র দায়িত্বেই রেখেছেন। এসব পরিপত্র ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের মতো উপজেলা আইনের সাথে সাংঘর্ষিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। পাকিস্তানিরা যেমন বাঙালির শাসন মেনে নিতে পারে নি তেমনি কতিপয় সরকারি কর্মকর্তা স্থানীয় প্রশাসনে জনপ্রতিনিধিদের শাসন মেনে নিতে পারছে না।

১৭টি বিভাগ উপজেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তর, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রসমূহ সংশোধন, ২০১০ সালের গেজেট বাস্তবায়ন, উপজেলাধীন রাজস্ব জমা-বিভাজন ব্যয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে সম্পাদনের আদেশ প্রদানসহ পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন উপজেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিরা। তারা বলেন, এসব দাবিতে আগামী ২৭ জানুয়ারি সকাল দশটায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিন করবেন। এরপরও তাদের দাবি মানা না হলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন বলেও ঘোষণা দেন।

সব খবর
নগর বিভাগের সর্বশেষ