সোমবার ২১ জানুয়ারি, ২০১৯

আমরা চিন্তিত কিন্তু আতঙ্কিত নই: শামীম ওসমান

বৃহস্পতিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:৩৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রাার্থী একেএম শামীম ওসমান বলেছেন, দেখেন আমরা চিন্তিত কিন্তু আতংকিত নই। আপনারা জানেন এই নারায়ণগঞ্জে ১৬ জুন বোমা হামলা হয়েছিল। বোমা হামলা হওয়ার পরে আমি ক্ষত-বিক্ষত হয়েছিলাম। আমার ২০ জন কর্মী নিহত হয়েছিল এবং অনেকে আহত হয়েছিল। সেদিন আমরা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম। সে কারণে আমাদের উপরে হামলা করা হয়েছিল। আমার যখন জ্ঞান ফিরেছিল তখন আমি বলেছিলাম, আপনারা শেখ হাসিনাকে বাঁচান। আমার কথা সত্য হয়েছিল। ২১ আগষ্টে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি পশ্চিমপাড়ার করইতলী এলাকায় জালকুড়ি ১নং নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আয়োজিত নির্বাচনী উঠান বৈঠক শেষে বেসরকারি কিছু টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় সাহারা আপা বলেছিলেন, বাংলাদেশে কোন জঙ্গী নাই। আমি বলেছিলাম জঙ্গীদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। তখনি কিন্তু গুলশানের হলি আরটিজেনে ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জে যে প্রার্থীকে দেয়া হয়েছে আমার এলাকায় সেই প্রার্থীকে আমি বলবো না অযোগ্য। আমি বলবো যোগ্য। কিন্তু ৯০% মানুষেই উনাকে চিনে না, জানে না এবং বুঝেও না। সে কারণে আমরা গত চারদিনে যে সমস্ত খোজ খবর পাচ্ছি, যেইভাবে বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের লোক দামী দামী গাড়ি নিয়ে এবং অচেনা অপরিচিত লোকজন বিভিন্ন জায়গায় এসে অবস্থান করছে এবং আজকে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় খন্দকার মোশারফ হোসেন আই এস আই নেটওয়ার্কের সাথে যে ধরনের কথাবার্তা বলেছেন আমার কাছে নির্বাচনী এলাকা ও আশেপাশের নির্বাচনী এলাকা থেকে আমি দেখছি তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় আমার মনে হয় উনাদের উদ্দেশ্য সঠিক না। কারণ এরা তারাই যারা একাত্তরে হামলা করেছে, ৭৫-এ হামলা করেছে এরাই। ২০১৩-২০১৫ পর্যন্ত মানুষদের জালিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। এবং এরাই ২১ আগষ্টে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড হামলা করে হত্যার চেষ্টা করেছে। এবং সেই খুনিই ওদের নেতা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মৌলবাদীদের নির্দেশে সুশীল সমাজ তাদের সামনে এসে লেবাস ধরেছে।

শামীম ওসমান বলেন, আমার কাছে মনে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জে এই ধরনের ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হতে পারে। এবং আমি খুব অবাক হই জামায়াত ইসলামের প্রেসক্রিপশনে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসন ট্রান্সফার হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকে আমরা জিজ্ঞেস করতে চাই কাকে কি কারণে পরিবর্তন করা হচ্ছে সেই ব্যাপারে আমরা ব্যাখ্যা চাইবো। উনারা বির্বত হচ্ছে আমরাও বির্বত হচ্ছি। আমাদের মনে রাখতে হবে সারাদেশে ফরিদপুর, নোয়াখালী, বি-বাড়িয়াসহ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের কুপিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে। আমার মনে হয়, জনগন ধৈর্য ধরছে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ রাজনীতির এলাকা। আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করবো এই জায়গার ব্যাপারে খেয়াল রাখেন। এবং প্রশাসনের যাদের এই ব্যাপারে নজর রাখা উচিত, তারা কতটুকু নজর রাখতে পারছে এই ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের জনগনের মতো আমিও সন্দিহান। আমি আশা করি যাতে কোন ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে সেই ব্যাপারে তারা খেয়াল রাখবে।

শামীম ওসমান বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই, যদি আবার কেউ জনগনের উপর হামলা করতে চায়, জনগণকে বোমা হামলার শিকার করতে চায়, জনগনকে টার্গেট করতে চায় তাহলে নারায়ণগঞ্জ থেকে যা শুরু হবে সারা বাংলাদেশের সবাই চেয়ে চেয়ে দেখবে যে এইবার আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে স্বাধীনতা বিরোধীদের এক সেকেন্ডও ছাড় দেয়া হবে না। এবং যার দায় দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকেই বহন করতে হবে। এটা আমার সিদ্ধান্ত না, নারায়ণগঞ্জের সকল সচেতন জনগনের সিদ্ধান্ত।

সাংবাদিকদের তিনি আরো বলেন, ঘরের মধ্যে মোস্তাক আছে। তাদেরকে অরগানাইজ করা হচ্ছে। আমি আপনাদের বলছি নারায়ণগঞ্জে ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হবে। হয়তো শামীম ওসমান টার্গেট। আমি কতদিন বাঁচবো কি বাঁচবো না আমি জানি না। আমি মৃত্যুকে পরোয়া করি না, আমি একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া কাউকে কেয়ার করি না। ১৬ই জুন আমাদের মেরে ফেলা হয়েছে আমরা এক্সটেনশন লাইফে আছি। কিন্তু এখানে যদি কোন খেলা খেলাতে চায় তাহলে তাদের কোন ছাড় দেয়া হবে না। এটা আমার পরিষ্কার কথা।

আর নারায়ণগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনকে বলবো তৎপর হোন, আপনাদের আন্ডারে আমরা চাকরি করি না। জনগনের ট্যাক্সের পয়সায় আপনারা চাকরি করছেন। ব্যবস্থা নেন। তা না হলে জনতা যেন রাস্তায় নেমে না আসে। নারায়ণগঞ্জের জনগনের সম্পর্কে আইডিয়া খুব কম। এখানেই ভাষা আন্দোলন তৈরি হয়েছে, ৬৬ তৈরি হয়েছে, ৬৯ তৈরি হয়েছে, এখানেই গোলাম আজমকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে, প্রয়োজনে এখানেও আগামীতে কর্মসূচি দেয়া হবে। এবং এই কর্মসূচি সারা বাংলাদেশের মানুষকে নাড়িয়ে দিবে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনত বিরোধী শক্তি চিরদিনের জন্য কবর হবে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া, আওয়ামীলীগ নেতা বদরুজ্জামান বদু, ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইস্রাফিল প্রধান, ৯নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মিজানুর রহমান, ৯নং ওয়ার্ড মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড আলী হোসেন, ডেপুটি কমান্ড আয়াত আলী সহ এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ