মঙ্গলবার ১১ ডিসেম্বর, ২০১৮

আবাসিক এলাকায় ডাইং কারখানা, বাড়ছে দুর্ঘটনা

রবিবার, ৭ অক্টোবর ২০১৮, ১৯:৪৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: একে তো আবাসিক এলাকা। তার উপর লাইসেন্স নেই। বিধিবর্হিভুতভাবে নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট অনেক কারখানা। ফলে যে কোন সময় দুর্ঘটনার ঘটার আশংকা থাকছে। তারপরও নিরাপত্তাহীন অবস্থায় জীবিকার তাড়নায় শ্রমিকরা এই সকল কারখানায় কাজ করছে। শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জে কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ নতুন কিছু নয়। তবে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে ফতুল্লা শিল্পাঞ্চলে।

সবশেষ শনিবার (৬ অক্টোবর) ভোরে ফতুল্লার কুতুবপুর দক্ষিন শিয়ারচর এলাকায় আল নাসির ওয়াশিং ডাইং কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে সেলিম মিয়া (৩০) নামে এক শ্রমিক দগ্ধ হয়ে মারা গেছে। অপর আহত শ্রমিক আবদুল্লাহ (২২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আল নাসির ওয়াশিং ডাইং কারখানার মালিক শাহ আলম। তিনি কারখানাটি ইসরাফিল নামক এক ব্যক্তির নিকট ভাড়া দেন। ১৫জন শ্রমিক দিয়ে পুরোনো সকল যন্ত্রপাতি দিয়ে কারখানার কার্যক্রম চলছে।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় বিস্ফোরণের ঘটনার পর এলাকাবাসী আতঙ্কিত। তারা জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ এই ডাইং চলছে। আবাসিক এলাকার মাঝে জোরপূর্বক ডাইং বসিয়েছে তারা। পুরাতন সব যন্ত্রপাতি দিয়েই এখানের কার্যক্রম চলছে।

এলাকার আতিকুজ্জামান বলেন, ভোর বেলা বিকট শব্দে ঘুম ভাঙ্গে আমার। বুঝতেই পারিনি প্রথমে কি হয়েছে। বাসা থেকে বের হইতেই তীব্র গ্যাসের গন্ধ। দেখলাম ডাইং এর ছাদের চাল উড়ে গেছে। এই ডাইংয়ের মেশিন যখন চলে তখন সবসময় এদিকের বাড়িগুলোতে হালকা কম্পন অনুভব হয়। এই কারণে আমাদের বাড়ির ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে কিনা এটা নিয়ে অনেক ভয় পেয়ে যাই সেই মূহুর্তে।

বিষ্ফোরণের কারণ জানতে আল নাসের ডাইংয়ের মালিক শাহআলমের মুঠো ফোনে যোগাযোগ হলে এক নারী ফোন রিসিভ করেন। তিনি বলেন শাহআলম নামে কেউ নাই। আমরা তার প্রতিবেশী। পরক্ষনে ওই নারী বলেন, তবে কারখানায় তেমন কিছুই হয় নাই। তখন তার কাছে শ্রমিকের মৃত্যুর সংবাদ সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, আমি তেমন কিছু জানি না। শুনছি তার (শাহ আলমের) ছেলের নিউমোনিয়া হইছে। তারে নিয়া হাসপাতালে গেছে। এটা বলে তিনি ফোন কেটে দেন। কিন্তু সফটওয়্যার এর মাধ্যমে দেখা যায়, নাম্বারটি ‘শাহ আলম ভাই ফ্যাক্টরি ওনার’ এই নামে একাউন্ট করা আছে।

কুতুবপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডে মেম্বার হান্নানুর রফিক রঞ্জু বলেন, শনিবার আল নাসির ওয়াশিং ডাইং কারখানায় বিস্ফোরণে ২ জন আহত হন। এরমধ্যে একজন মারা যায়। তিনি আরো বলেন, বয়লারের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় নাকি বিষ্ফোরণ ঘটেছে।

ফতুল্লার শিল্পাঞ্চল পুলিশের পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর বলেন, এখানে কারখানার যে অবস্থা এই ধরনের ছোট কারখানার লাইসেন্স কারখানা অধিদপ্তর দেয় না। বয়লারের লাইসেন্স থাকার তো কোন প্রশ্নই উঠে না। এরা হয়ত ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেয়। কারখানার মালিকের সাথে কথা হলে তারা জানায় শ্রমিক আহত হয়েছে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকের মৃত্যুর কথা জানতেই মালিকদের সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তারা পলাতক। এটা ছোট কারখানা এজন্য কোন আন্দোলন হয় নাই। বড় কারখানা হলে আন্দোলন হত।

ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ মঞ্জুর কাদের পিপিএম বলেন, নিরাপত্তা ছাড়াই এখন মানুষ ছোট ছোট কারখানা দিচ্ছে, এই বিষয় গুলো নজরে আনতে হবে।

সব খবর
জনদুর্ভোগ বিভাগের সর্বশেষ