সোমবার ০২ আগস্ট, ২০২১

আপন আলোয় উজ্জ্বল বিউটিশিয়ান নয়না

বুধবার, ১০ মার্চ ২০২১, ১২:২৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: কথায় আছে, যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। বাংলার এই প্রবাদটির জলজ্যান্ত প্রমাণ নারায়ণগঞ্জের নারী উদ্যোক্তা নয়না নীলা খান। যিনি তার পরিশ্রম, ইচ্ছাশক্তি, একাগ্রতা দিয়ে অর্জন করে নিয়েছেন সফলতা। বন্দর উপজেলার জনপ্রিয় রূপচর্চা প্রতিষ্ঠান `নয়না বিউটি পার্লার ও ট্রেনিং সেন্টার` পরিচালনা করেন তিনি৷

বিউটিশিয়ান নয়না নীলা খান একাধারে একজন নারী, একজন মা, একজন গৃহিণী, একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। এছাড়া ব্লক, বাটিক, কারচুপি, সেলাই, শো-পিস তৈরিসহ ২৭ ধরণের কাজে দক্ষ। উদ্যোক্তার পাশাপাশি একজন গৃহিণী ও মায়ের চিরায়ত দায়িত্বও পালন করেছেন সমান দক্ষতায়। নয়না নিজে যেমন সফল হয়েছেন তেমনি জেলার অনেক নারীদের সফলতার পথ দেখিয়েছেন, নিজের পায়ে দাঁড়াতে সহযোগিতা করেছেন। উপজেলা, জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজে প্রশিক্ষিত করেছেন শতশত নারীকে। যাদের অনেকেই আজ সফল নারী উদ্যোক্তা। এর বাইরে নিজের ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন প্রায় শতাধিক নারীকে।

ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী ও তিন সন্তান নিয়ে তাঁর সংসার। তবে তাঁর ভাষ্যমতে, তাঁর পরিবার আরও বড়। যেখানে রয়েছে তাঁর পার্লারের ১২ জন কর্মীও। যারা গত ১৪ বছর যাবৎ তাঁর নিত্যসঙ্গী। আর তার কাজই তার জীবন।

কাজের শুরুটা কিভাবে জানতে চাইলে নয়না নীলা খান বলেন, `ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন রকম হাতের কাজের শখ ছিল। হাতের কাজ শিখতে, করতে খুব পছন্দ করতাম। শখ থেকেই কাজ শেখা শুরু করি। এক রকম নেশার মত হয়ে যায়, শিখতে শিখতে ২৭ ধরনের কাজ শিখি। এতে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন আমার বাবা। এক সময় এসকল কাজ করে আয় করাও শুরু করি। তবে এসকল কাজে ব্যয়, পরিশ্রম বেশি কিন্তু আয় কম। অন্যদিকে বিউটি পার্লারের কাজে সময়, পরিশ্রম, কাজ তুলনামূলক কম, আয় বেশি। তাই বিউটিশিয়ানের প্রশিক্ষণ নেই, কাজ শুরু করি। গত ১৪ বছর ধরে এ কাজ করে যাচ্ছি।`

কর্মজীবনের প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, `শুরুতে বিউটি পার্লার নিয়ে অনেকের নেতিবাচক ধারণা শুনতাম। সময়ের সাথে সাথে এখন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলেছে। বাঁধা এসেছে কিন্তু আমি থেমে যাইনি। গ্রাহকের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে সময় লেগেছে। আমার কাজ সকলের মাঝে ছাপ ফেলেছে। এখন আমি আত্মবিশ্বাসী।`

নারী দিবস উপলক্ষে সফল এই নারী উদ্যোক্তা বলেন, `প্রত্যেক নারীর নিজের পায়ে দাঁড়ানোটা খুব জরুরি। কেননা সমাজে অসহায়, পরনির্ভরশীল নারীর কোনো সম্মান নেই। তাই জীবনসঙ্গী খোঁজার আগে, বিয়ের আগে প্রত্যেক নারীকে উচিত আগে নিজের পায়ে দাঁড়ানো।`

সব খবর
পজিটিভ নারায়ণগঞ্জ বিভাগের সর্বশেষ