সোমবার ১৪ অক্টোবর, ২০১৯

আজ স্বৈরাচার-প্রতিরোধ দিবস

বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:৪২

তপু সারোয়ার

কলা ভবন থেকে শিক্ষা ভবন অভিমুখে ছাত্রদের মিছিল। স্লোগানে মিছিলে উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়। সামরিক শাসন মানিনা। মজিদ খানের শিক্ষানীতি বাতিল কর। করতে হবে। হঠাৎ করেই গুলিতে প্রকম্পিত চারিদিক। মিছিলে পুলিশের ট্রাক তুলে দিয়ে শুরু হয় বর্বরতার এক ভয়াল নিদর্শন। স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের পুলিশ বাহিনীর উন্মত্ততায় একে একে লুটিয়ে পরে জাফর, জয়নাল, মোজাম্মেল, দীপালী সাহা সহ অনেকেই।
 
আহতদের আহাজারিতে হাসপাতাল গুলোতে তৈরী হয় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের। কলাভবনেও গুলি টিয়ার সেলের আঘাতে চলে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর নৃশংস হামলা। গ্রেফতার করা হয় হাজার হাজার ছাত্র-জনতা। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে, কারফিউ জারি করা হয়। দিনটি ছিল ১৪ই ফেব্রুয়ারী ১৯৮৩। এর পরের দিন ১৫ই ফেব্রুয়ারী সারাদেশে হরতাল। ওইদিন পুলিশের গুলতে জবি ছাত্র আইয়ুব ও কাঞ্চন শহীদ হন। 
একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক ভূখন্ডের জন্য এ জনপদের মানুষ বারবার অকাতরে প্রাণ দিয়েছে। যুগে যুগে সামরিক-বেসামরিক ছদ্মবেশে স্বৈরাচারীরা ক্ষমতা দখল করেছে।
 
জনগণ প্রতিবাদ করলে জুটেছে বেয়নেট, বুট, গুলি, টিয়ারশেল। বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাধীনতা থেকে শুরু করে প্রতিটি অধ্যায়ে ছাত্র আন্দোলনের ভূমিকা অপরিসীম। এরশাদের শাসনক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ করে ছাত্ররা প্রথম থেকেই প্রতিরোধ আন্দোলন শুরু করে।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদের প্রতিরোধ আন্দোলনের প্রথম শহীদের নাম জয়নাল দিপালী কাঞ্চন। এরপর থেকেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে। 
 
১৯৯২ সাল পর্যন্ত দিনটিতে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ স্বৈরাচার-প্রতিরোধ দিবস হিসেবেই পালন করে আসছিল। নব্বই-পরবর্তী মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রবল জোয়ারে দিন পরিণত হয়েছে বহুজাতিক কম্পানির পণ্য বিক্রির দিন হিসেবে। রক্তের অক্ষরে যাঁরা আমাদের গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়ে গেলেন, তাঁদের জন্য অবহেলা ছাড়া আমরা কিছুই দিতে পারিনি। এ দিনটিতে তাদের স্মরণ না করে সে জায়গায় ভালোবাসা দিবসের অনুষ্ঠান জাতি হিসেবে আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক ও কলঙ্কজনক। পশ্চিম থেকে আগত ভ্যালেন্টাইনের জোয়ারে ভেসে গেছে রক্তের অক্ষরে লেখা গৌরবের ইতিহাস। এ প্রজন্ম ভুলে যাচ্ছে সেই সব শহীদের নাম।
সব খবর
মতামত বিভাগের সর্বশেষ