মঙ্গলবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

আজ আড়াইহাজারে হানাদার মুক্ত দিবস

শনিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৩:০৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: বিজয়ের মাস ডিসেম্বর। নারায়ণগঞ্জ জেলার মধ্যে প্রথম পাক হানাদারমুক্ত হয়েছিল আড়াইহাজার থানা। ৯ ডিসেম্বর প্রথম স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়ে আড়াইহাজারে। জীবনবাজি রেখে ডিনামাইট দিয়ে পাঁচরুখী ব্রিজ উড়িয়ে দেয়ার মধ্য দিয়েই আড়াইহাজার উপজেলায় বিজয়ের সূচনা হয়। প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচী পালনের মধ্যে দিয়ে দিনটি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা  শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে।

জুনের শেষের দিকে গিয়াস উদ্দিনের (বীর প্রতীক) নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জের একদল মুক্তিযোদ্ধা আড়াইহাজার থানায় দুঃসাহসিক অপারেশন চালিয়েছিল। নারায়ণগঞ্জের সেই গ্রুপের সঙ্গে ঝাউগড়ার মুক্তিযোদ্ধা সিরাজও ছিল। এই অপারেশনের পর আড়াইহাজার থানা সদরে পাক মিলিটারি বাহিনী স্থায়ী ক্যাম্প করে। মুক্তিযোদ্ধাদের ধ্বংস করে দেয়ার জন্যই তাদের কার্যক্রম চলতে থাকে। কিন্তু আগস্টে ভারত থেকে ফিরে মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়। 

ডিসেম্বরের প্রথমে আড়াইহাজার থানা কমান্ডার এমএ সামাদ স্থল ও জলপথ দু’দিক দিয়েই পাক সেনাদের ক্যাম্পে হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কমান্ডার এমএ সামাদ ছিলেন তখন পাকসেনাদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। রাজাকার মারফত খবর পেয়ে পাক বাহিনীর চোখের ঘুম হারাম হয়ে যায়। ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে ৭ তারিখ পর্যন্ত তারা ঠিকমতো ঘুমাতে পারেনি। থানা কমান্ডার এমএ সামাদ আড়াইহাজার থানা এলাকাকে ২ ভাগে ভাগ করে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। একটি পূর্ব অঞ্চল অপরটি পশ্চিম অঞ্চল। পূর্ব অঞ্চলে ছিল নদীপথ এবং পশ্চিম অঞ্চলে ছিল স্থলপথ (ঢাকা-সিলিট মহাসড়ক)। স্থলপথের জন্য (পশ্চিম অঞ্চল) দায়িত্বে ছিলেন খালিকুজ্জামান মোল্লা। পূর্বে (নদীপথে) দায়িত্বে ছিলেন আহসান উদ্দিন মোল্লা। প্রায় ৪০০ মুক্তিযোদ্ধা জীবন বাজি রেখে পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চল রক্ষা করেছেন। আড়াইহাজারে ৫টি বড় ধরনের যুদ্ধের পাশাপাশি বেশ কিছু ছোটখাটো অপারেশনও হয়েছে। ৫টি বড় অপারেশনের মধ্যে স্থলপথে ৪টি এবং নদীপথে ১টি যুদ্ধ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ছিল ভরা বর্ষাকাল। কিন্তু নভেম্বর ও ডিসেম্বরে এসে চারিদিকে শুকনো মাঠ-ঘাট। অবশেষে মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে পাকবাহিনী রাতের আঁধারে পালিয়ে যায়। ৯ ডিসেম্বর সকালে আক্রমণ চালাতে এসে মুক্তিযোদ্ধারা দেখেন কেউ নেই। কিছু হাড়ি-পাতিল, চাল, ডাল ও আটার বস্তা পড়ে আছে। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার এমএ সামাদ স্বাধীন দেশের পতাকা উড়িয়ে আড়াইহাজারে বিজয় ঘোষণা করেন।  

দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে আড়াইহাজার এলাকাটি শক্রমুক্ত হয়। উপজেলার পাঁচরুখী ব্রিজ, ডহরগাঁও এবং মেঘনা নদী দিয়ে বিভিন্ন এলাকা শত্রুমুক্ত করতে অপারেশন চালানো হয়। প্রবল প্রতিরোধের মুখে পাকবাহিনী ওই সময় আড়াইহাজার থানা এলাকা ছেড়ে ভুলতা দিয়ে পালিয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধারা থানা সদরের ডাক বাংলায় অবস্থিত পাক বাহিনীর ক্যাম্প দখল করে নেয়। সেই সঙ্গে স্বাধীন দেশের পতাকা উড়িয়ে আনন্দ উল্লাস করতে থাকেন।

 

সব খবর
ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ বিভাগের সর্বশেষ