শুক্রবার ২৩ আগস্ট, ২০১৯

আখিরাতের ভয় দেখিয়ে ৩ বছরে ১১ ছাত্রীকে ধর্ষণ

রবিবার, ২৮ জুলাই ২০১৯, ১৩:২৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: একাধিক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ফতুল্লার ভূইগড় এলাকার দারুল হুদা মহিলা মাদ্রাসার বড় হুজুর (অধ্যক্ষ) মুফতি মোস্তাফিজুর রহমানকে (২৯) গ্রেফতারের পর র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। হুজুরের কথা শোনা ফরয, কথা না শুনলে গুনাহ হবে, জাহান্নামে যাবে এমন ফতোয়া দিয়ে আখিরাতের ভয় দেখিয়ে গত তিন বছরে বিভিন্ন বয়সী ১১ জন ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে মুফতি মোস্তাফিজুর৷ ধর্ষণের পর হুজুরের সাথে শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করা জায়েজ এমন ভুয়া হাদিস বলে এবং ভয়ভীতির মাধ্যমে ছাত্রীদের চুপ করাতো সে৷ কেউ মুখ খোলার চেষ্টা করলে তাদের নানা অপবাদে মাদ্রাসা থেকে বের করে দিতো বড় হুজুর৷

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার (২৮ জুলাই) বেলা ১২টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় ব়্যাব৷

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন র‍্যব-১১ কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্ণেল কাজী শামসের উদ্দিন, র‍্যাব -১১ স্পেশাল ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানির কমান্ডার মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব, র‍্যব-১১ অতিঃ পুলিশ সুপার জসিমউদ্দিন পিপিএম, অতিঃ পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন পিপিএম।

এর আগে গত শনিবার (২৭ জুলাই) ছাত্রীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালায় র‌্যাব। পরে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও বড় হুজুর মোস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

সংবাদ সম্মেলনে ব়্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত মো. মোস্তাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন যাবৎ দারুল হুদা মহিলা মাদ্রাসার ১১ জন ছাত্রীকে বিগত ৩ বছর ধরে মাদ্রাসায় তার রুমে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ধর্ষণ করে আসছে এবং ধর্ষণের পর সেইসব ছাত্রীদের কেউ কেউ মুখ খোলার চেষ্টা করলে তাদের একেক জনকে একেক অপবাদ দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়। এইভাবে সে বিভিন্ন বয়সী মাদ্রাসার ছাত্রীদেরকে কখনো বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আবার কখনো জোরপূর্বক ধর্ষণ করতো। সে ছাত্রীদেরকে কখানো আখিরাতের ভয় দেখিয়ে হুজুরের কথা শোনা ফরজ, না শুনলে গোনাহ হবে এবং জাহান্নামে যাবে এইরকম নানা ফতোয়ার মাধ্যমে, তাবিজ করে পাগল করা বা পরিবারের ক্ষতি করার কথা বলে ছাত্রীদের ধর্ষণ করতো বলে স্বীকার করে। এমনকি তার ৮ বছর বয়সী নিকটাত্মীয় যে তার মাদ্রাসায় পড়তো তাকেও একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলে ভিকটিম এর মা-বাবা অভিযোগ করে যা ধর্ষক মোস্তাফিসজ অকপটে স্বীকার করে। এছাড়াও ধর্ষক মোস্তাফিজ নিজেই বিভিন্ন জাল হাদিস তৈরি করে হুজুরের সাথে সম্পর্ক করা জায়েজ আছে বলে ছাত্রীদের বলতো। একটি জাল হাদিসের মাধ্যমে অভিভাবক ও স্বাক্ষী ছাড়া বিয়ে হয় বলে একাধিক ছাত্রীকে কৌশলে ধর্ষণ করার পর আরেকটি জাল হাদিসের মাধ্যমে তালাক হয়ে গেছে ফতোয়া দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে বের করে দিতো।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ