বুধবার ২০ নভেম্বর, ২০১৯

আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা এখনও পৌছায়নি নারায়ণগঞ্জে

বুধবার, ৬ নভেম্বর ২০১৯, ২২:২৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: টানা দুই টার্মে ক্ষমতায় থাকার পরে গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের ৩টিতেই রয়েছে আওয়ামী লীগের সাংসদ, বাকি দু’টিতেও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির এমপি। তবে অভিযোগ রয়েছে নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে গত কয়েক বছরে ব্যাপক সংখ্যক নেতাকর্মী অনুপ্রবেশ করেছে। তাদের মধ্য বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী রয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও নিজস্ব টিমের তত্ত্বাবধানে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দলে সারাদেশের এই অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা প্রস্তুত করেছেন। অনুসন্ধানে এইসব ব্যক্তিকে অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১ নভেম্বর সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের আট বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের হাতে এই অনুপ্রবেশকারীদের তালিকার কপি হস্তান্তর করা হয়। তবে কেন্দ্রের করা অনুপ্রবেশকারীদের নামের তালিকা এখনও হাতে পায়নি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। এমনটাই জানিয়েছেন দুই কমিটির সভাপতি। তবে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা সম্পর্কে তারা অবগত। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় নির্দেশনাও রয়েছে তাদের কাছে। নতুন দলে যোগদান করা কাউকে দলীয় পদবী প্রদানে বিরত থাকার নির্দেশনা রয়েছে দলের প্রতি।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, কেন্দ্রীয়ভাবে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা করা হয়েছে বলে জানি। তবে সেরকম কোন তালিকা এখনও আমাদের হাতে এসে পৌছায়নি।

একই কথা বললেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে দলে অনেকেই ভিড়তে চায়। প্রধানমন্ত্রী নিজে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা করেছেন। তবে সেই তালিকা আমাদের কাছে এখনও আসেনি।

গত ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় মহানগরের সভাপতি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে আমাদের চিঠি দিয়েছেন, যারা দলে অনুপ্রবেশকারী, ধান্দাবাজ, অস্ত্রবাজ, ভূমিদস্যু, মাদকসেবী এমন কাউকে আওয়ামী লীগে পদ দিতে নিষেধ করেছেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডের কর্মীদের আমার অনুরোধ, পদের চেয়ে আদর্শ অনেক বড়। তাই কোনো ভূমিদস্যু, ধান্দাবাজ, মাদকসেবীকে আপনারা সদস্য করবেন না।’

জেল হত্যা দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ষড়যন্ত্র চলছে। বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য। তাই আমাদের সকলকে সচেতন থাকতে হবে। প্রত্যেকটা দলে, ওয়ার্ডে, ইউনিয়নে অনুপ্রবেশকারী কেউ ঢুকতে পারবে না। এটা আমাদের কেন্দ্রীয় নির্দেশ।’

অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ। তবে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা এখনও প্রকাশ না হওয়াতে ক্ষুব্দ তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। জেলা ও মহানগরের একাধিক নেতা বলেন, দুঃসময়ে কাউকে দেখা যায় না। ক্ষমতায় না থাকাবস্থায় হাজতবাস, নির্যাতন আমরাই সইছি। আর এখন আমরা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় তাই সুসময়ের অনেক মাছিই দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের জন্য আমরা ত্যাগ, নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীরাই কোনঠাসা হয়ে পড়ছি। সাংগঠনিকভাবে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে যাওয়ার আহ্বান জানান তারা।

নব্য আওয়ামী লীগারদের দাপটে কিছু কিছু এলাকায় উত্তরাধিকার সূত্রে আওয়ামী লীগ করা লোকজনরা এখন কোণঠাসা। এমনকি হামলার শিকারও হতে হয়েছে। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি আড়াইহাজারে ছাত্রদল থেকে সদ্য আওয়ামী লীগে যোগ দেয়া তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে গোপালদী পৌরসভা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক উত্তম কুমার বিশ্বাসের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগের নেতা সৈয়দ আহমেদ মুন্নাকে কুপিয়ে জখম করে দুবৃত্তরা। এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় প্রধান আসামি সদ্য বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করা রফিকুল ইসলাম টিপু ওরফে বরিশাইল্লা টিপু। এমনকি মামলা তুলে নিতেও বাদীকে হুমকি প্রদান করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই টিপু গত বছরের নভেম্বরে সাংসদ শামীম ওসমানকে ফুল দিয়ে বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

এক সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নির্যাতন, গুম, খুনের ঘটনায় জড়িতরাও এখন আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। তবে এসব বিষয়ে নজরে রেখেই নব্য আওয়ামী লীগারদের তালিকা করেছে আওয়ামী লীগ।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ