বুধবার ১৪ নভেম্বর, ২০১৮

আইভীর সাথে ঘনিষ্ঠতায়ই কাল হলো বিভা হাসানের!

বুধবার, ৭ নভেম্বর ২০১৮, ২০:৪৪

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: সদর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে করা একটি নাশকতার মামলায় আসামী করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র-১ আফসানা আফরোজ বিভা হাসানকে। বিএনপির রাজনীতিতে পদ কিংবা কোন সক্রিয়তা না থাকার পরও বিভা হাসানকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভা হাসানের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অর্থায়নে সরকার বিরোধী পরিকল্পনা ও নাশকতার পরিকল্পনা করছিল বিএনপির নেতারা।

গত ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৬, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর নির্বাচিত হন বিভা হাসান। সিটি নির্বাচনের একমাসের মধ্যে প্যানেল মেয়র নির্বাচিত করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও মেয়র নির্বাচনের ৯ মাস পর প্যানেল মেয়র নির্বাচন করা হয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে প্যানেল মেয়র-১ নির্বাচিত হন বিভা হাসান। অন্যদিকে প্যানেল মেয়র ১ ও ২ নির্বাচিত হন যথাক্রমে ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি ও ১০, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর মিনোয়ারা বেগম। মতিউর রহমান ও মিনোয়ারা বেগম দুইজনই সাংসদ শামীম ওসমানের বলয়ের লোক।

এদিকে প্রথম প্যানেল মেয়র বিভা হাসান নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত। বিভা হাসান মেয়রের আস্থাভাজনও বটে। সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে মেয়রের সাথেই থাকেন বিভা হাসান। মেয়রও তাঁর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিভা হাসানকে পাশে রাখেন। সম্প্রতি মেয়র দেশের বাইরে যাওয়ার সময় ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে বিভা হাসানকে দায়িত্ব দিয়ে যান। এমনকি বিভা হাসান প্যানেল মেয়র-১ নির্বাচিত হওয়ার পেছনেও মেয়রের হাত ছিল বলেও আলোচনা আছে। শুধু তাই নয় চলতি বছরের ৯ জানুয়ারী রাসেল নগর পার্কে জনতার মুখোমুখি সিটি করপোরেশন অনুষ্ঠানে লাইভ প্রোগ্রাম ডিস লাইনে প্রচার না করায় ১৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল করিম বাবুর উপর ক্ষুব্দ হন মেয়র। এবং ওই অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষনা দেন আজ থেকে ১৭ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর বিভা হাসানের নেতৃত্বে নাসিকের উন্নয়ন কাজ হবে। মেয়রের সাথে এই ঘনিষ্ঠতাই বিভা হাসানের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে নগরীতে আলোচিত হচ্ছে।

বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয় সম্পৃক্ততা না থাকলেও বিএনপির নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে করা নাশকতা মামলার তালিকায় বিভা হাসানও আসামী হয়েছেন। গত ৫ নভেম্বর সদর মডেল থানার উপ পরিদর্শক (শিক্ষানবীশ) আব্দুল করিম এ মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় বিভা হাসানের স্বামী হাসান আহমেদকেও আসামী করা হয়েছে।

বিভা হাসানের স্বামী হাসান আহমেদ বিলুপ্ত শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং তাঁর স্বামীর বড় ভাই আব্দুল মজিদ কমিশনার মহানগর বিএনপির উপদেষ্টা। শ্বশুরালয়ের সদস্যরা বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয়তা থাকলেও বিভা হাসানের কোন সক্রিয়তা কিংবা সমপৃক্ততা নেই। এমনকি বিএনপির কোন অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা যায়নি। জেলা, মহানগর বিএনপির কিংবা কোন অঙ্গসংগঠনের কোন পদেও নেই বিভা হাসান। তবুও স্বামীর সাথে বিভা হাসানকেও মামলার আসামী করা হয়েছে।

এই মামলায় আরো আসামী করা হয়েছে, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান সেক্রেটারী এটিএম কামাল, নাসিক ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদল সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীবকে। এ মামলায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে সদর থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. ফারুক, মো. সোহেল, মিনহাজ উদ্দিন মুন্না, মো. মাহবুবুর রহমান, মো. হোসেন কাজল ও কামাল উদ্দিন।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ