বুধবার ১৭ অক্টোবর, ২০১৮

আইভীর ঘনিষ্ঠরা পল্টি দিচ্ছে, লুফে নিচ্ছে শামীম ওসমান

রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১:৫২

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

তাশিক আহমেদ (প্রেস নারায়ণগঞ্জ): নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর সঙ্ঘ ছাড়ছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। যারা গত ১৩-১৪ বছরে ধারে তার সাথেই ছিলেন। তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও নারায়ণগঞ্জের উন্নয়ন এবং আইভীর নানা সংকটকটময় সময়ে তারা মেয়রের পাশেই ছিলেন। তাদের প্রতি মেয়রেও আর্শিবাদ ছিল। এমনকি তাদের সাথে নিয়ে চলতে গিয়ে মেয়র বিভিন্ন সময় সমালোচিতও হয়েছেন। কিন্তু হঠাৎ এই ঘনিষ্ঠজনরা পল্টি দেয়া শুরু করেছেন। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হচ্ছে নগরবাসীর মধ্যেও।

সবশেষ পল্টি দিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ই¯্রাফিল প্রধান। তিনি আদর্শিকভাবে বিএনপি ঘরোয়ানা লোক হলেও বিএনপির রাজনীতিতে সক্রীয় ছিলেন না। তবে মেয়র আইভীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে ঘনিষ্ঠভাবেই দেখা গেছে। তাছাড়া দুইবারের সিটি নির্বাচনে ই¯্রাফিল কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পেছনেও মেয়র আইভীর আর্শিবাদ ও সহযোগিতা ছিল। ওই ওয়ার্ডের মানুষ ই¯্রাফিলকে মেয়র আইভীর আস্তাভাজন বলেই জানে। কিন্তু শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়িতে জালকুড়ি হাইস্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানকে পায়ে ধরে সালাম করে ও ফুল দিয়ে আওয়ামীলীগ তথা শামীম ওসমান শিবিরে যোগ দিয়েছেন ই¯্রাফিল প্রধান।

এই ঘটনার একদিন আগে ২৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে নাসিক ৬নং ওয়ার্ডে একটি ওয়াজ মাহফিলে যোগ দেন শামীম ওসমান। ওই ওয়ার্ডে সাবেক কাউন্সিলর ও মেয়র আইভীর আস্তাভাজন সিরাজুল ইসলাম মন্ডল শামীম ওসমানকে প্রধান অতিথি করে ওই অনুষ্ঠানে নেন। শামীম ওসমান ওয়াজে তার বক্তব্য শেষে ৬নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির সঙ্গে সিরাজুল ইসলামকে মিলিয়ে দেন। এবং শামীম ওসমান বলেন, সিরাজুল ইসলাম মন্ডল ও মতি আমার দুই ছোট ভাই। আমি তাদের পাশে আছি। অথচ ২০১১ সালে আইভীর আর্শিবাদে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয় সিরাজ মন্ডল। হেরে যায় মতি। ২০১৬ সালের নির্বাচনেও আইভীর আর্শিবাদ ছিল সিরাজ মন্ডলের পক্ষে কিন্তু এবার জিতে যায় মতি। কিন্তু সিরাজ মন্ডল পরাজিত হলেও আইভী সিরাজ মন্ডলকে আগের মতোই গুরত্ব দিয়ে আসছিলেন। তাছাড়া ৬নং ওয়ার্ডে সিরাজমন্ডল আইভীর ঘনিষ্ঠ আস্তাভাজন হিসেবেই সবাই জানে। আর এই সুবাদে সিরাজ মন্ডলের বড় ভাই মজিবুর রহমান মন্ডল নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদ পান মেয়র আইভীর কোটায়। সেই সিরাজ মন্ডলও পল্টি দিল। এখন সে শামীম ওসমানের ‘ছোট ভাই’।

এরআগে ৯ জনু রাতে পল্টি দিয়েছেন ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হান্নান সরকার ও ২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহমেদ। তারাও পর পর দুইবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর। এই দুই কাউন্সিলর বিএনপির রাজনীতির সাথে প্রকাশ্যে সক্রীয় থাকলেও মেয়রের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা ছিল চোখে পড়ার মতো। শুধু তাই নয় ওয়ার্ডবাসীর কাছে তাদের জনপ্রিয় করে তুলতে ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছেন মেয়র ওই দুটি ওয়ার্ডে। মেয়রের সকল অনুষ্ঠানে কাউন্সিলর হান্নান ও সুলতান আহমেদর সরব উপস্থিতি ছিল দেখার মতো। খুব ঘনিষ্ঠভাবেই তারা মেয়রের সাথে মিশে ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত গত রোজার সময় নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল (নম) পার্কে আওয়ামীলীগের একটি ইফতার মাহফিলে উপস্থিত হয়ে শামীম ওসমানের কাছে পুর্বের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে ওসমান পরিবারের সাথে মিশে যান। এমনকি সেলিম ওসমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেরর মঞ্চে উপস্থিত হয়েও বক্তব্য রেখেছেন এই কাউন্সিলররা।

এছাড়াও ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শুকু ও ১৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুল হাসান মুন্নাও মেয়রকে ছেড়ে গেছেন। ২০০৩ সালের পৌরসভার নির্বাচনের পর থেকে ২০১১ সালের সিটি নির্বাচন এবং ২২০১৬ সালের নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তারা মেয়রের ঘনিষ্ঠজন হিসেবেই ছিলেন। শকু বিএনপি করলেও উন্নয়নের স্বার্থে এবং কাউন্সিলর হিসেবে শকুকে আলাদা করে দেখেননি মেয়র। তারা চলে গেলেন। শকু এখন সেলিম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন। অন্যদিকে নাসিক ৮নং ওয়াার্ডে মেয়র আইভীর আরেক ঘনিষ্ঠ কাউন্সিলর রুহুল আমিন মোল্লাহ দুই দিকেই সমান তারে যোগযোগ রেখে চলছেন। যদিও ২০১৬ সালের নির্বাচনের সময়কাল পর্যন্ত শুধু মেয়র আইভীর সাথেই ছিলেন।

অথচ মেয়র বিএনপি ঘরোয়ানার কাউন্সিলরগুলোকে নিয়ে চলতে গিয়ে নানাভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন তার প্রতিপক্ষ দ্বারা। বিতর্কিত হয়েছেন। নানা প্রপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছিল। তারপর মেয়র ওই কাউন্সিলরদের পাশ থেকে সরে যাননি। বিপদে আপদে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কিন্তু কাউন্সিলররাই শেষ পর্যন্ত ‘রহস্যজনক’ ভাবে মেয়রকে ছেড়ে ওসমান শিবিরে যোগ দিয়েছেন। আর শামীম ওসমান তাদের লুফে নিচ্ছেন। আগামীতে হয়তো আরো কাউকে লুফে নিবেন। এমন কথা নগরীতে চাউর আছে।

এ বিষয়ে মেয়র আইভীর ঘনিষ্ঠজনদের একটি সূত্র জানায়, কেউ চলে গেলে তো আর তাকে জোর করে রাখা যায় না। তাছাড়া সুবিধাবাদীরা সব সময় নিজের স্বার্থটাই দেখে। দু:সময়ে মেয়র তাদের পাশে ছিল। এখন সুসময়ে তারা পল্টি দিসে। বিপদে পড়লে আবার মেয়রের দরজায় আসবে। এক প্রশ্নের জবাবে ঘনিষ্ঠজনদের সূত্রটি বলেন, মেয়র কখনো দল দেখেননি। তিনি দেখেছেন একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে। কে বিএনপি কে আওয়ামীলীগ এটা তিনি বিচার করেননি। দল মতের উর্ধেব উঠে তিনি এলাকার উন্নয়নে তাদের সহযোগিতা করেছেন।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ