শুক্রবার ০৫ মার্চ, ২০২১

আইভীকে দাওয়াত দিয়ে মাফ চাইলেন শামীম ওসমান

বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: আগের দিন নিজের ডাকা সমাবেশে সিটি মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান৷ মেয়রকে প্রধান অতিথি করারও প্রস্তাব দিয়েছেন৷ এবার আমন্ত্রণ জানানোর জন্য নেতাকর্মীদের কাছে ক্ষমা চাইলেন তিনি৷

বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে মহানগরের ১১-১৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ব্যানারে উদ্যোগে আয়োজিত কর্মী সভায় বক্তব্য রাখেন শামীম ওসমান৷ বক্তব্যের এক পর্যায়ে জনসভায় মেয়রকে আমন্ত্রণ জানানোয় অনুসারী অনেক নেতাকর্মী নারাজ হয়েছেন উল্লেখ করে তাদের কাছে ক্ষমা চান শামীম ওসমান৷

তিনি বলেন, আমার ডাকার দায়িত্ব তাই ভাবলাম সবাইরেই ডাকি। বন্দরে কর্মীসভায় গিয়ে মেয়র আইভীকেও দাওয়াত দিলাম। এক মঞ্চে আসেন। চেয়ারে বইসেন, বক্তব্য দিয়েন লাগলে আমরা নিচে বসমু। সবাই আমার উপরে গেলো খেইপা, বলতাছে ভাই এটা কেমন কথা? আপনি কেন দাওয়াত দিবেন? যেখানে কিছুদিন আগের ঘটনায় আমরা গেলাম বাঁচাতে। সেখানে সাজনু, হেলাল, নিজাম, ছাত্রলীগ, যুবলীগ সবার নামে মামলা দেয়।

তিনি আরও বলেন, গত ৭ বছর ধরে তার সাথে যে বাম ঘরানার লোক থাকে, তারা নেত্রীকে নিয়ে এমন কোন অসভ্য ভাষা নাই যা ব্যবহার করে নাই। তার সাথে যে থাকে ও চলে আপনি তাকে দাওয়াত দেন কেন? হিন্দু নেতার আইসা বলে, ভাই এটা কেমন কথা। আমাদের দেবোত্তর সম্পত্তি নিয়ে যায়। দাওয়াত দেন কেন? বড়রা বলতেছে গত ৫ বছর ধইরা বলতাছে ওসমান পরিবার খুনি পরিবার। তুমি দাওয়াত দাও কেন? আমি এজন্য দেই কারণ এত কিছু শোনার পরেও তার ইলেকশন আমরা করছি। আমি তারে চিনি না। আমি চিনি নৌকারে। নেত্রী বলছে, করছি। যারা খেপছেন দাওয়াত দেওয়ার কারণে আমি তাদের কাছে মাফ চাই।

নারায়ণগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থী তানভীর মুহাম্মদ ত্বরীর হত্যার প্রসঙ্গ টেনে শামীম ওসমান বলেন, ‘আমি, আমার ছেলে দেশের বাইরে৷ আমাদের ত্বকী হত্যাকারী বানায় দিছে। ভালো, করুক। আমার তাতে আপত্তি নাই। আমি কিছু বলবো না। একসময় সত্য বেরিয়ে আসবে। সত্য বেরিয়ে আসতেছে। কে ভূমি খায় আর কে কি করে। সবাই বেরিয়ে আসতেছে। আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি তো নেতাদের ডাকবোই। উনারা তো আমাদের নেতা। বঙ্গবন্ধুর গায়ে হাত দিবো মাঠে কি নামবেন না? মাঠে নেমে অবস্থান পরিষ্কার করেন। আমি আমার দায়িত্ববোধ থেকে দাওয়াত দিয়েছি। বঙ্গবন্ধুর নাম ও নেত্রীর ছবি বেঁচে আর নৌকা দিয়া ক্ষমতা উপভোগ করবো। আর আঘাত আসলে অন্য লোকের সাথে বসে চা খাবো তা হবে না।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. খোকন সাহা, সহসভাপতি রবিউল ইসলাম, অ্যাড. ওয়াজেদ আলী খোকন, যুগ্ম সম্পাদক শাহ্ নিজাম, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকিরুল আলম হেলাল, মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি জুয়েল হোসেন, নাসিক কাউন্সিলর নাজমুল আলম সজল, শফিউদ্দিন প্রধান, আব্দুল করিম বাবু, বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানী প্রমুখ।

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ