সোমবার ১৪ জুন, ২০২১

অস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা!

মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ ২০২১, ১৮:১১

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মারামারির অভিযোগের তদন্তে এসে পুলিশ জানায়, অভিযুক্তের ঘর তল্লাশি করে পাওয়া গেছে একটি রিভলবার (আগ্নেয়াস্ত্র)। পরে সেই অস্ত্রই আবার পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাদীপক্ষকে সুবিধা দিতে পুলিশ অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছিল। চেষ্টা বিফলে গেলে পরিত্যক্ত স্থান থেকে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টি জানানো হয়।

গত শুক্রবার (১২ মার্চ) নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তল্লা ছোট মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাটি ফতুল্লা মডেল থানার অধীনে রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন, বাদী, বিবাদী ও পুলিশের সাথে কথা বলে জানা যায়, তল্লা ছোট মসজিদ এলাকার জামানের সাথে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিরোধ রয়েছে তারই মামাতো ভাই সোবহান ও সোলেমানের সাথে। সোলেমান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে কনস্টেবল পদে কর্মরত রয়েছেন। গত শুক্রবার রাত আনুমানিক বারোটার দিকে সোবহান, সোলেমানের সাথে জামানের জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষই আহত হয়। সোবহান তৎক্ষনাৎ থানায় মারধরের একটি অভিযোগ করে পুলিশ নিয়ে আসে। খবর পেয়ে রাতে ডিউটিতে থাকা ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ন কবির আসেন ঘটনাস্থলে। তিনি ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্ত সোবহানের ঘরের দরজা ভেঙে তাদের ঘরে তল্লাশি চালান। কিছুক্ষণ পর একটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান। এরই মধ্যে এলাকাবাসীও ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন। এলাকাবাসী জানান, সোবহানের পরিবারের লোকজন নিরীহ খেটে খাওয়া মানুষ। তাদের ঘর থেকে পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে বলে নাটক সাজানো হচ্ছে। পরে স্থানীয় জনরোষের মুখে পড়ে পুলিশ ঘটনা ভিন্নখাতে নিয়ে যায়। রিভলবারটি একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই রাতে ঘটনাস্থলে থাকা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জমশের আলী ঝন্টু বলেন, ‘জামানের ঘর থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। আমিসহ স্থানীয় এলাকাবাসী পুলিশকে বলেন, জামানরা নিরীহ পোলাপান। তারা গার্মেন্টসে কাজ কইরা সংসার চালায়। তাদের ঘর থেকে পিস্তল উদ্ধার করার প্রশ্নই আসে না। খেলনা একটা পিস্তল দিয়া মানুষগুলারে হয়রানি করার চেষ্টা করা হইছে। আমি এসপিরে জানামু কইলে পুলিশ পিস্তলটি পরিত্যক্ত জায়গা থেকে উদ্ধার করা হইসে বলে জানায়। ওটা খেলনা পিস্তল বলেও মনে হইছিল। আসলে জামানের মামাতো ভাইদের সাথে জমি নিয়ে ঝামেলা চলতাছে। এই নিয়া তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটছে। এইটারে ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য এই ঘটনা। আসলে জামানের মামাতো ভাই সোলেমান পুলিশে চাকরি করে। এই কারণে পুলিশের সাথে খাতির ভালো।’

এ বিষয়ে কথা হয় জামানের সাথে। জানালেন, তার বিরুদ্ধে ওইদিনের ঘটনায় মারধরের অভিযোগে একটি মামলাও করেছেন তারই মামাতো ভাই সোবহান। ওই মামলায় গ্রেফতার এড়াতে পলাতক রয়েছেন তিনি। জামান আরও বলেন, ‘তার মামাতো ভাই পুলিশে চাকরি করে। তাগো অনেক ক্ষমতা। আমি গরীব মানুষ। জমি নিয়া ঝামেলা মিটিয়ে নেওয়ার জন্য বারবার তাদের অনুরোধ করছি। এই নিয়া কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা আমাকে বেধরক মারধর করছে ওই রাত্রে। পরে আমারে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দিলে আমি পালিয়ে যাই। পরে শুনতে পারি পিস্তল নাকি উদ্ধার করছে আমার ঘর থেকে।’

কাঁদতে কাঁদতে জামান বলেন, ‘তিনদিন ধইরা আমার মাইয়াডারেও দেখতে পারতেছি না। পলায়ে পলায়ে আছি। তাগোরে কতবার কইছি জমির ঝামেলাটা মিটাইয়া নেন। কিন্তু তারা আমাগো জমিতে ঘর তুলবো এই আশায় এইসব ঘটাইছে। আমারে জেলে ঢুকাইতে পারলেই আমার জমিতে বিল্ডিং তুলবো তারা।’

জানতে চাইলে ওইদিন ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ূন কবির বলেন, ‘মারধর করা হয়েছে এমন অভিযোগে তদন্তে যাই। ভোর চারটার দিকে ওই ঘরে গিয়ে অভিযুক্ত কাউকে পাইনি। পরে সেখান থেকে চলে আসি। আর রিভলবারটি তাদের ঘর থেকে নয় ঘরের পেছনের একটি স্থান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় থানায় একটি জিডিও করা হয়েছে।’

তবে এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ঘর থেকে রিভলবারটি উদ্ধার করা হয়েছে পুলিশ প্রথমে এমনটা জানিয়েছিল। এই বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই হুমায়ূন বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। রিভলবারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

এদিকে জামানের মামাতো ভাই পুলিশ কনস্টেবল সোলেমান বলেন, তাদের মারধর করা হয়েছে। এই বিষয়ে তারা মামলাও করেছেন। কিন্তু পুলিশ দিয়ে রিভলবার উদ্ধারের নাটক সাজানোর বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্য হওয়ার কোনো প্রকার সুবিধা তিনি নেননি।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ