বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট, ২০২০

অনশনরত শ্রমিকের সমর্থন জানিয়ে নগরীতে বাসদের মানববন্ধন

বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৯:৩৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: অনশনরত পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলন ও ১১ দফা দাবির সমর্থনে নগরীতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) নারায়ণগঞ্জ জেলা।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তারা অনশনরত পাটকল শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়াও ও দুর্নীতি, লুটপাট, ভুলনীতি পরিহার করে পাটশিল্প রক্ষার দাবি জানান।

বাসদ জেলা সমন্বয়কারী নিখিল দাসের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি আবু নাঈম খান বিপ্লব, সমাজতান্ত্রিক গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি সেলিম মাহমুদ, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সোহাগ, দপ্তর সম্পাদক কামাল পারভেজ মিঠু, ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সুলতানা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসে প্রমুখ।

নিখিল দাস বলেন, ‘পাটকল শ্রমিকরা অনেক দিন যাবৎ সভা সমাবেশ করেছে, সরকারের কাছে স্মারক লিপি দিয়েছে। বিভিন্ন কার্যক্রম পালন করেছে। তখন সরকার আশ্বস্থ করায় তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন একটা জায়গায় গেছে যে, তাদের আর কোনো উপায় নাই। তাদের বেতন বকেয়া থাকায় তারা সন্তান, পরিবার নিয়ে মানববেতর জীবন যাপন করছে। সুতরাং তারা যখন এমনিতেই মরছে তখন তারা আমরণ অনশন করবে। প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে শ্রমিকরা অনশন করছে। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের কোনো উদ্যোগ নেই। এই উদাসীনতা হচ্ছে রাষ্ট্রের একটি নীতি। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দেয়া। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করা।’

তিনি আরো বলেন, ‘এক সময় শ্রমিকরা যখন আদমজীতে কাজ করতো তাদের থাকার ব্যবস্থা ছিল, ছেলে মেয়ের পড়াশোনার ব্যবস্থাসহ অনেক সুবিধা ছিল যা বর্তমানে নেই। বর্তমানে শ্রমিকদের বেতন কম, অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নাই বললেই চলে। এমন অসহায় অবস্থায় বেসরকারি ক্ষাতে শ্রমিকদের ফেলে দেয়া হচ্ছে। তাই আজ কারখানাগুলো বাঁচানোর জন্য, নিজেরা বাঁচার জন্য শ্রমিকরা রাস্তায় নেমেছে। ২০১৫ সালে সরকার ঘোষণা করেছে পাটকল শ্রমিকদের মজুরী কমিশিন বাস্তায়ন হবে কিন্তু আজও তা হয়নি। আমরা সরকারকে বলল, এই ধরণের প্রতারণা মূলক ঘোষণা থেকে সরে আসুন। সত্যিকার অর্থে ঘোষণা দিয়ে তা বাস্তবায়ন করুন এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিন।’

আবু নাঈম খান বিপ্লব বলেন, ‘সারাদেশে ৩৬টি পাট কারখানা এখনো চলে। সেগুলো লোকসানই বলে সরকার দ্বিরাষ্ট্রীয়করণ পক্রিয়ায় আছে। সরকার এই শিল্পকে বন্ধ করে দিতে চাচ্ছে। এই কারখানাগুলোতে ৭ থেকে ৮ লাখ শ্রমিক কর্মরত আছে। যার মধ্যে ৭৮ হাজার শ্রমিক স্থায়ী, ৫ লক্ষ অস্থায়ী ও বাকিরা অন্যান্যভাবে আছে। দেশে পাট উৎপাদন করে এমন দুই লক্ষ চাষী আছে। কিন্তু তাদেরর রক্ষায় সরকারি কোনো উদ্যোগ নেই।’

সেলিম মাহমুদ বলেন, ‘দেশের পাটকলগুলো ব্যক্তি মালিকানায় দেয়ার চেষ্টা চলছে। তাই পাটকল লোকসানে যাচ্ছে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। পাটকলে যে লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতি হয়েছে, যে টাকা পাচার করা হয়েছে তা যদি ফিরিয়ে এনে অত্যাধুনিক মেশিন দিয়ে এই শিল্পটি এগিয়ে নিয়া যাওয়া হয় তাহলে এ শিল্প কোনোদিন লোকসানে যাবে না।’

সব খবর
রাজনীতি বিভাগের সর্বশেষ