বুধবার ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯

অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মাহমুদা গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক আচরণ

রবিবার, ৩০ জুন ২০১৯, ২১:৪৮

প্রেস নারায়ণগঞ্জ.কম

প্রেস নারায়ণগঞ্জ: ফতুল্লা কুতুবপুর নয়ামাটি এলাকায় অবস্থিত আইএফএস টেক্সটাইল লিমিটেড (মাহমুদা গার্মেন্টস) অগ্নিকান্ডের ঘটনায় রহস্যজনক কারণে গণমাধ্যমকর্মীদের সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেয় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের উপর চড়াও হন এবং মারমুখী আচরণ করেন। এদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং পুলিশ সদস্যদের আচরণও ছিল রহস্যজনক। অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ১৫ জন আহত থাকলেও মাত্র একজনের কথাই উল্লেখ করেন প্রতিষ্ঠান ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা।

রোববার (৩০ জুন) দুপুর দেড়টায় কুতুবপুর এলাকায় আইএফএস টেক্সটাইল লিমিটেড (মাহমুদা গার্মেন্টস) এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। দুপুর ২টায় গণমাধ্যমকর্মীরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাদের বাধা দেন প্রতিষ্ঠানটির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা।

তারা বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, কিছু হয়নি; আপনারা সবাই চলে যান। এমন কথায় গণমাধ্যমকর্মীরা বিভিন্ন প্রশ্ন করলে তাদের উপর চড়াও হন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও শ্রমিকরা। গণমাধ্যমকর্মীরা প্রতিষ্ঠানের ভেতর ঘটনাস্থল পরির্দশন করতে চাইলে তাদের সঙ্গে মারমুখি আচরণ করেন তারা। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে ফতুল্লা থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও কোন ধরণের পদক্ষেপ নেননি তারা। এমনকি এ বিষয়ে সহযোগিতা চাইলেও গণমাধ্যমকর্মীদের কোন প্রকারের সহযোগিতা তারা করেননি।

বেলা ৩টায় অধিকাংশ গণমাধ্যমকর্মীরা স্থান ত্যাগ করলে প্রতিষ্ঠানের গেটে আসেন প্রতিষ্ঠনটির ম্যানেজার (জিএম) মো. হারুণ। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। এর পরপরই বেরিয়ে আসেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সহকারি উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন। এ সময় গণমাধ্যকর্মীদের দেয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দুপুর দেড়টায় অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে আসেন। এখানে মোট ৬টি ইউনিট কাজ করেছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।’

কিন্তু আব্দুল্লাহ আল আরেফিনের বক্তব্য শেষ হতে না হতেই আহত অবস্থায় ধরাধরি করে একজন শ্রমিককে বের করে আনা হয়। এ সময় অন্যান্য শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইতিমধ্যে আরো দুইজন শ্রমিককে আহতবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে আবার গণমাধ্যমকর্মীদের বক্তব্য দেন আব্দুল্লাহ আল আরেফিন। এ সময় তিনি একজন শ্রমিকের আহত হওয়ার কথা জানান।

এর কিছুক্ষন পরেই বেড়িয়ে আসে থলের বেড়াল। বড় একটি মাইক্রোবাসে ৭ থেকে ৮ জন শ্রমিককে আহতাবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তার কিছুক্ষণ পরই বেরিয়ে আসে আহত শ্রমিক বোঝাই আরো একটি মাইক্রোবাস। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশে। তারই মধ্যে একটি পরিবারের আর্তনাদ শোনা যায়। তারা জানা, মুজিবুর ও তার ছেলে আরিফ দুজনই আহত। তাদের পাঠানো হয়েছে শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে। এদিকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ঘটনাস্থলেই উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিলেন।

এদেিক নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরী বিভাগ দেখা যায়, পুরো জরুরী বিভাগ আহত শ্রমিকে ভরপুর। শয্যা না থাকায় মাটিতে শয্যা পেতে দেওয়া হয় অনেককে।

আহতদের সাথে আসা শ্রমিকরা জানান, প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলেও শ্রমিকদের ভেতরেই আটকে রাখেন প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা। আগুনে সৃষ্ট ধোয়ার কারণে অনেকেই শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। আবার আগুন নেভাতে গিয়ে কারো কারো শরীরের কিছু অংশ জ্বলসে যায়। তবুও শ্রমিকদের ভেতরেই আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ শ্রমিকদের। বাইরের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে পরে আহতদের ভেতর থেকে বের করে আনা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিক শাহজালাল বলেন, ‘আমরা দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য গিয়েছিলাম। ভেতরে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ চলছিল। হঠাৎ ধোয়া দেখে আমরা সেখানে যাই। আর সেখান থেকেই আগুন লাগে। আগুন লাগার পর আমাদের কিছু শ্রমিকদের মাইক্রো করে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্ত ফায়ার সার্ভিসের আসার পর আমাদের আটকিয়ে রাখা হয়। অনেক্ষন পর বাহির থেকে দরজা খুলে আমাদের কোম্পানির নিজেস্ব মাইক্রো করে নিয়ে যাওয়া হয়।’

এমতাবস্থায় সবার মধ্যে নানাবিধ প্রশ্ন জন্ম নিয়েছে। এটা কি আদৌও দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ? যদি দূর্ঘটনাই হয়ে থাকে তাহলে সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া কেন? তাছাড়া আহত শ্রমিকদের আটকে রেখে হতাহতের বিষয় গোপন করার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ।

সব খবর
নগরের বাইরে বিভাগের সর্বশেষ